দফায় দফায় বৈঠক, অাসছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

প্রকাশিত: ২:০১ অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০১৭

দফায় দফায় বৈঠক, অাসছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

সারাদেশের চলমান ধর্মঘট পত্যাহারের বিষয়ে বৈঠক চলছে। রাজধানীর মতিঝিলে বিআরটিসি কার্যালয়ে পরিবহন শ্রমিক নেতাদের নিয়ে এ বৈঠক শুরু হয়েছে।

বৈঠকে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙা উপস্থিত রয়েছেন। এছাড়াও পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা এ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।

এর আগে দেশব্যাপী চলমান অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সচিবালয়ে ওবায়দুল কাদেরর দপ্তরে পরিবহন ধর্মঘটের বিষয়ে রুদ্ধদ্বার এক বৈঠক শেষে তিনি একথা জানান।

এর আগে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙার সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতুল্লাহ খান।

বৈঠক শেষে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন বলেন, ‘আমরা বৈঠকে বসেছিলাম। ধর্মঘটের বিষয়ে আলোচনা করেছি। এখন শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ জন্য আমরা পরিবহন মালিক নেতা খন্দকার এনায়েতুল্লাহ খানের অফিসে একটি বৈঠক করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘ধর্মঘট নিয়ে নানা ধরনের ঘটনা ঘটছে। সবকিছু আমাদের নলেজে আছে। আমরা আশাবাদী আজকের মধ্যেই এ ধর্মঘট প্রত্যাহার হবে। ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়ে আজকের বৈঠকে আমরা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে এ ঘোষণা এখান থেকে দিতে চাই না। শ্রমিকদের সঙ্গে বসেই সেখান থেকে ঘোষণা দেওয়া হবে।’

শাহজাহান খান সচিবালয় থেকে বের হওয়ার সময় কয়েকজন সাংবাদিককে বলেন, ‘ধর্মঘটের মধ্যে জামায়াত-শিবির ঢুকে গেছে।’

বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘আদালতের রায়ের বিষয়ে যদি কারও কিছু বলার থাকে তা আদালতের মাধ্যমেই উপস্থাপন করা উচিত। আদালতের রায় নিয়ে ধর্মঘটে যাওয়া ঠিক না। মানুষকে কষ্ট দিয়ে দাবি আদায় কোনও মানবিক কর্মকাণ্ড হতে পারে না।’

এদিকে বুধবার সকালে দেশব্যাপী চলমান পরিবহন শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের নির্দেশনা চেয়ে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রিটের ওপর দুপুরে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

রিটে স্বরাষ্ট্রসচিব, নৌসচিব ও আইজিপিসহ ১৭ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটকারী মনজিল মোরসেদ বলেন, সারাদেশে সাধারণ জনগণকে জিম্মি করে পরিবহন ধর্মঘট নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও সংবিধানের পরিপন্থী। তাই এই রিট দায়ের করা হয়েছে।

রিটে গাড়ি রাস্তায় না নামালে মালিকদের গাড়ি জব্দ ও চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রত্যাহারের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে অচল হয়ে পড়েছে সারাদেশ। পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ পরিবহন বন্ধ করে দেয়ায় জনগণের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

বুধবার সকালে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালের সামনে পুলিশ-শ্রমিকদের কয়েক দফায় সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে একজন মারা গেছেন বলে জানা যাচ্ছে। সংঘর্ষের পর এখন সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এরআগে, গাবতলীতে সংঘর্ষে শাহআলম নামে একজন গুলিবিদ্ধ হন। শাহআলমের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যায়। গুরুতর আহত শাহআলমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তবে নিহত ব্যক্তি শাহআলম কি না তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে টার্মিনাল এলাকায় আন্দোলনরত পরিবহন শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে অভিযানে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এখন পর্যন্ত শ্রমিকদের প্রায় সরিয়ে দিয়ে টেকনিক্যাল মোড় থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে র‌্যাব-পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য।

বুধবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে গাবতলী এলাকায় দাঙ্গা পুলিশকে নিয়ে অভিযানে নামে র‌্যাব ও পুলিশ। তার আগে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

দুই চালককে দেয়া আদালতের রায়ের প্রতিবাদে এবং তাদের মুক্তির দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু করে পরিবহন শ্রমিকরা। ওই দুই চালক মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ধর্মঘটের প্রথমদিন রাজধানীর গাবতলীতে পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় পুলিশ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। তবে বাধা উপেক্ষা করে শ্রমিকরা পুলিশ বক্স ও ব্যারাকে আগুন ধরিয়ে দেয়।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট