রাজনীতির এপিঠ-ওপিঠ ।। সঙ্কটে বিএনপি দুর্দিনে খালেদা, পাশে নেই ‘ওরা’

প্রকাশিত: ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৭

রাজনীতির এপিঠ-ওপিঠ ।। সঙ্কটে বিএনপি দুর্দিনে খালেদা, পাশে নেই ‘ওরা’

বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান শক্তি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই দল প্রতিষ্ঠা করেন।

৩০ এপ্রিল ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান তার শাসনকে বেসামরিক করার উদ্দেশ্যে ১৯ দফা কর্মসূচি শুরু করেন। তার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেন। জাগদলকে বিএনপির সাথে একীভূত করা হয়। রাষ্ট্রপতি জিয়াই এই দলের সমন্বয়ক এবং এই দলের প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে এর প্রথম মহাসচিব করা হয়। জিয়ার এই দলে বাম, ডান, মধ্যপন্থী সব ধরনের লোক আসে।

বিএনপির সবচেয়ে প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল এর নিয়োগ পদ্ধতি। প্রায় ৪৫ শতাংশ সদস্য শুধুমাত্র রাজনীতিতে যে নতুন ছিলেন তাই নয়, তারা ছিলেন তরুণ।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় রমনা রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যাত্রা শুরু করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নতুন দলের আহ্বায়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রথমে ১৮ জন সদস্যের নাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ওই ১৮ জনসহ ৭৬ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। সেই থেকে যাত্রা এই দলটির।

এরপর দলটি মোট চারবার ক্ষমতায় আসে। আজ দলের ব্যাপ্তি অনেক দূর। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে ৮০-৯০ বছরের বৃদ্ধও নিজেকে এই দলের লোক বলে দাবি করতে দেখা যায়।

তবে এই দলের বিশালতা সত্ত্বেও ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে দলটি বর্তমান সময়ের মতো এতটা সঙ্কটে ইতোপূর্বে কখনো পড়েনি। অন্যদিকে সুদীর্ঘ ইতিহাসে বর্তমান সময়ের মতো তাদের এতো সমর্থনও কোনোকালে ছিল বলে মনে করে না দলটির অনেকেই। এমন কি জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশাতেও নয়।

ফলে দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান যদি আজ জীবিত থাকতেন তবে নিশ্চয়ই তিনি তার দলটির বিশাল ব্যাপ্তি ও অগণিত কর্মী-সমর্থক দেখে সত্যিই অনেক খুশি হতেন, আনন্দিত হতেন। রাজনীতিকে উপভোগ করতেন অন্যভাবে।

অন্যদিকে বর্তমান দুরাবস্থার জন্য ব্যথিত না হয়ে এর পেছনের কারণ জানার চেষ্টা করতেন। এবং সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য পথ খুজতেন। দেশপ্রেমিক বিচক্ষণ জিয়া হয়তো বা একটা সুন্দর মসৃণ পথ পেয়েও যেতেন। এমনটিই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কেননা, তাদের মতে, জিয়া সেই ব্যক্তি, যখন ১৯৭১সালে জাতীয় ইতিহাসের চরম দুর্যোগময় কাল। যখন সকলেই ২৫ মার্চ মধ্যরাত ইতিহাসের পৈশাচিক গণহত্যার ভয়াবহতায় হয়ে পড়েছিলেন কিংকর্তব্যবিমূঢ়। আক্রান্ত অসহায় দেশবাসী হতবিহবল এবং অনেকে আত্মসমর্পণ কিংবা দালালির মাধ্যমে বেছে নিয়েছিলেন আত্মরক্ষার পথ। সেই সময় কালুরঘাটের বেতার কেন্দ্র থেকে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তার সেই কন্ঠস্বর ‘আমি মেজর জিয়া বলছি’। দেশের রাজনৈতিক বিভাজনে এ নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে বির্তক যাই করা হোক না কেন, সবকিছু উপেক্ষা করে সেদিন যে জীবনবাজি রেখে জাতির পক্ষে জিয়াউর রহমান মহান স্বাধীনতার যুগান্তকারী দুঃসাহসী ঘোষণা দিয়েছিলেন এটা অস্বীকার করার মতো কারো সুযোগ নেই। কেবল ঘোষণার মধ্যেই নিজের কর্তব্যকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। স্বাধীনতাকামী সৈনিক জনতাকে সংগঠিত করে বিক্ষিপ্ত বিদ্রোহ ও প্রতিরোধের লড়াইকে তিনি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে উন্নীত করেছিলেন।

কিন্তু তার গড়া সেই দল আজ খুবই সঙ্কটে। তার পরিবারের সদস্যরাও খুবই দুর্দিনে। এই দুর্দিনে বিএনপি ও জিয়া পরিবারের পাশে নেই সেই সুসময়ের লোকেরা। এখনো অনেকে খয়ের খাঁ’র মতো কাছে ঘুর ঘুর করেন অথচ আন্দোলনে মাঠে-ময়দানে নেই।

‘সুসময়ে অনেকেই বন্ধু বটে হয় অসময়ে হায় হায় কেউ কারও নয়’- এ প্রবাদ বাক্যটি যেন জিয়া পরিবারের জন্য চরম বাস্তবতা।

স্বামীর ৪০ বছরের স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি ছাড়া, পুত্র হারানো ও নির্বাসনের শোক এবং কঠিন দুর্দিনে ম্যাডাম জিয়ার চোখের পানিও যাদের আন্দোলনের মাঠে নামাতে পারেনি। দলের যারা অতীতে অনেক আখের গুছিয়েছেন, সম্পদের পাহাড় গড়েছেন, আন্দোলনের সময় তাদের ভূমিকা কী ছিল? এখনই বা তারা কী করছেন? সরকারের সঙ্গে আঁতাতে কারা এখনো তাদের সম্পদের পাহাড় আঁকড়ে ধরে আছেন?

সূত্র মতে, মন্ত্রী-এমপি হওয়ার জন্য এখনো নিত্যদিন যারা ছক আঁকেন এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ আঁকড়ে রয়েছেন বছরের পর বছর; তারা আন্দোলনের সময় কোথায় ছিলেন, তারা কী করেছেন। সেসব বিষয়ও বিবেচনা নেয়া হচ্ছে। সবমিলেই এখন হিসাব নিকাশ চলছে।

এরই অংশ হিসেবে বেগম জিয়া সংস্কারপন্থীদের আবারো দলের মূলস্রোতে ফিরিয়ে এনে কার্যক্রমে গতি আনার চেষ্টা করছেন। সেই সঙ্গে আশি-নব্বই দশকের নেতাদেরও কদর বেড়েছে।

অন্যদিকে, বিগত কয়েক বছরে যারা নিস্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে, সরকার দলীয় লোকজনের সঙ্গে আঁতাত করে টেন্ডারবাজি ও ব্যবসা করে আসছে, দলের জন্য মোটেও যাদের দরদ নেই তাদের বিষয়েও একটি তালিকা তৈরি হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

কেননা, চরম দুর্দিনে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের পরিবার। চারদিকে অন্ধকার, একের পর এক ঝামেলা ঘিরে ধরছে। কোনো দিকেই আশার আলো নেই। কোনোমতেই যেন এই দুর্দিন কাটছে না।

বয়স ৭১, বিধবা হয়েছেন ৩৬ বছর বয়সেই। অবুঝ দুই ছেলেকে নিয়ে পথচলা শুরু। এরপর নিয়তির ডাকেই রাজনীতিতে আসা। দলে স্বামীর শূন্যতা পূরণে নেতানেত্রীদের পীড়াপীড়িতেই আশির দশকের গেড়ার দিকে অনেকটা হঠাৎ করেই রাজনীতির মাঠে আসেন।

একদিকে অবুঝ দুই শিশু সন্তান নিয়ে ঘর-সংসার; অন্যদিকে স্বামীর হত্যাকারী জেনারেল এরশাদকে উৎখাতে মাঠের রাজনীতি। এরপরও এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে বেগম জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্বেই ’৯০-এর পটপরিবর্তন ঘটে। দল সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হওয়ার পরও জিয়ার ইমেজ আর তার আপোষহীন অসাধারণ নেতৃত্বের আকৃষ্ট হয়ে মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করে। এরপর আরো দুইবার ক্ষমতায় বসেন বেগম জিয়া।

সাংবাদিক মাহফুজ আনামের ভাষায় সেই সময়টা খালেদা জিয়ার জীবনের ‘শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত’। ‘এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময়টি যদি বেগম খালেদা জিয়ার জীবনে ‘শ্রেষ্ঠ সময়’ হয়ে থাকে তবে পরবর্তীতে শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনটি তার জীবনের সবচেয়ে ‘অন্ধকার সময়’।’

‘আপোসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিতি খালেদা জিয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে স্বাধীনভাবে চিন্তার মাধ্যমে পরিস্থিতির মূল্যায়ন, দ্রুত সমন্বয় এবং বুদ্ধিদীপ্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে ব্যর্থ হন। এর অন্যতম উদারহরণ প্রধানমন্ত্রীর ফোনের বিষয়টি এবং নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা গঠনে সাড়া দিতে ব্যর্থ হওয়া।’

‘এর শুরুটা হয় ২০০৮ এর নির্বাচনকে দিয়ে। ওই নির্বাচনের পরাজয়কে জনগণের রায় হিসেবে না মেনে তাকে তথাকথিত ‘১/১১ সরকারের’ মেকানিজম হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। এমনকি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকার চালানোর সময় তার ছেলে যে ভুল করেছেন তা তিনি পর্যালোচনা করেননি।’

এর আগে ১৯৮১ থেকে ২০১৫ এই ৩৫ বছরে অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়েছে জিয়া পরিবারকে। চড়াই-উৎরাই পাড় করতে হয়েছে তাকে। এরশাদের শাসনামলে ’৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় তাকে চরম জুলুম-নির্যাতন সহ্য করতে হয়। অতঃপর ২০০৭ সালের ১/১১ রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিনের সময় তাকে কারাগারে যেতে হয়। দুই ছেলেকেও পাঠানো হয় কারাগারে। ছেলেদের উপর চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন।

এরপরও খালেদা জিয়া এমন একজন রাজনীতিক। কখনো ক্ষমতায় থেকেছেন আবার কখনো বিরোধী দলে থেকেছেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি রাষ্ট্রীয় কোনো পদে নেই, নেই সংসদেও। না থাকলে কী হলো, দেশের জনপ্রিয় দলগুলোর অন্যতম বিএনপির চেয়ারপার্সন ও ২০ দলীয় জোটনেত্রী। দেশের মানুষের ‘ভোটের অধিকার’ আদায়ের দাবিতে তার নেতৃত্বে চলছে ৮ বছর ধরে আন্দোলন। মূলত জনগণকে ঘিরেই তার সব কিছু। কিন্তু এখন তার জীবনে চরম দুর্দিন চলছে।

সরকার বিরোধী আন্দালনের মধ্যেই ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো নির্বাসনে থাকাবস্থায় মারা যান। লাখো মানুষের শ্রদ্ধা-ভালবাসায় ২৭ জানুয়ারি লাশ দাফন করা হয়। আর বড় ছেলে তারেক রহমান সেই ২০০৮ সাল থেকেই স্বপরিবারে নির্বাসনে রয়েছেন।

২০০৯ সালের মে মাসে ৪০ বছরের স্বামীর স্মৃতি বিজরিত বাড়ি ছাড়া হয়ে উঠেছেন ভাড়া বাসায়। এখানেই শেষ নয়, খালেদা জিয়া, তার দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে অর্ধশতাধিক মামলা। কোকোর মৃত্যুর পর তার নাবালিকা দুই কন্যাকেও মামলার আসামি করা হয়েছে।

১৯৮১ থেকে ২০১৭ এই ৩৭ বছরে অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়েছে জিয়া পরিবারকে। চড়াই-উৎরাই পাড় করতে হয়েছে তাকে। এখন চরম দুর্দিন চলছে। ফলে সামনের দিনগুলো আরো বেশী চ্যালেঞ্জের মুখে এই পরিবারটি।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় দুই মামলায় (জিয়া অরফানেজ এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট) খালেদা জিয়ার (জেলে যাওয়ার মতো)সাজা হতে পারে এমন ধারণা এখন সবার মুখে মুখে। সরকার দলীয় শীর্ষ নেতানেত্রী এবং বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মুখেও উচ্চারিত হচ্ছে খালেদার জেলে যাওয়ার বিষয়টি। এ নিয়েও শুরু হয়েছে নানা অপ্রকাশ্য গুঞ্জন। এমন কী কয়েকদিনের মধ্যেই খালেদা জিয়া কারাগারে যেতে পারেন এমন গুঞ্জন রাজনৈতিক পাড়ায় বেশ আলোচিত হচ্ছে।

যদিও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বেগম জিয়ার কারাগারে যাওয়ার মতো কোনো পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। আর বেগম জিয়া কারাগারে গেলে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না।

অপর দিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আদালতে প্রমাণ হলে খালেদাকে শাস্তি পেতেই হবে। আওয়ামী লীগের নেতারা দাবি করছেন বেগম জিয়াকে সাজা দেয়ার কোনো ইচ্ছা নেই আওয়ামী লীগের। তবে আদালতে সাজা হলে তাদের আর কিছুই করার থাকবে না।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বেগম জিয়াকে সরকারের শাস্তি দেয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। তবে এটি আদালতের বিষয়। এখানে আমাদের কিছু বলার নেই। আবার কেউ কেউ ভারতের তামিলনাডুর শশীকলার উদাহারণ টেনে বলছেন শশীকলার জন্য যেমন তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রীর পথ থেমে থাকেনি, খালেদা জিয়ার জন্যেও প্রধানমন্ত্রীর পথ পড়ে থাকবে না।

তিনি আরো বলেছেন, বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ না নিলে তাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।

এ দিকে খালেদা জিয়ার জেলে যাওয়ার বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন না সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও। তাদের মতে, এমন অঘটন ঘটলে দেশের রাজনীতির পরিস্থিতি আরো নাজুক হতে পারে। নতুন করে সহিংস হয়ে উঠতে পারে দেশের রাজনীতি।

সবমিলেই হিসাব নিকাশ চলছে। স্বামীর ৪০ বছরের স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি ছাড়া, পুত্র হারানোর শোক এবং কঠিন দুর্দিনে ম্যাডাম জিয়ার চোখের পানিও যাদের আন্দোলনের মাঠে নামাতে পারেনি। দলের যারা অতীতে অনেক আখের গুছিয়েছেন আন্দোলনের সময় তাদের ভূমিকা কী ছিল? মন্ত্রী-এমপি হওয়ার জন্য নিত্যদিন যারা ছক আঁকেন এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ আকড়ে রয়েছেন বছরের পর বছর; তারা আন্দোলনের সময় কোথায় ছিলেন, তারা কী করেছেন। সেসব বিষয়ও বিবেচনা নেয়া হচ্ছে।

ফলে দল এবং দেশের স্বার্থেই ম্যাডামকে এখন বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে এগুতে হবে বলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করেন।

চাটুকরদের অতীতে ভূমিকায় বিএনপির অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রকাশ করলেও তারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। তবে এ প্রসঙ্গে রাজশাহী মহিলা দলের সাবেক সভানেত্রী ও সাবেক এমপি জাহান পান্না বলেন, অতীতে ওইসব চাটুকরদের জন্য আমরা ম্যাডামের ধারে কাছেও ভিড়তে পারি নাই। কিন্তু আজ তারা কোথায়? ঠিকই তারা নিজেদের আখের গুছিয়ে সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলছে। এসব বিষয় ম্যাডামকে বিবেচনার সময় এসেছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক এমাজ উদ্দীন আহমেদ মনে করেন, ক্ষমতার সঙ্গে চাটুকারিতার সম্পর্ক খুবই নিবিড়। ফলে ইচ্ছা করলেই কেউ দূরে সরাতে পারে না। তাই এ বিষয়ে বিবেচনার সময় এসে বেগম জিয়ার। যা আগামী দিনে খুবই কাজে লাগতে পারে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট