মওদুদের বক্তব্যে ফের তোলপাড়, বিএনপি ক্ষুব্ধ ক্ষমতাসীনরা উৎফুল্ল

প্রকাশিত: ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৭

মওদুদের বক্তব্যে ফের তোলপাড়, বিএনপি ক্ষুব্ধ ক্ষমতাসীনরা উৎফুল্ল

শনিবার সকালে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেছেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা হলেও তিনি নির্বাচন করতে পারবেন। দেশে আর কোনো দিন এক দলীয় নির্বাচন হবে না। বিএনপির আন্দোলন ও নির্বাচনের প্রস্তুতি একসঙ্গে চলবে।

এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ আরো বলেন, খালেদা জিয়ার শাস্তি হলে নির্বাচন করতে পারবেন না, এটা ঠিক নয়। মিথ্যা মামলায় সাজা হলে খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে।

মওদুদ আহমেদের এমন বক্তব্যে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কী ক্ষমতাসীন, কী বিরোধী সব মহলেই এ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

এমন কী নিজ দলের নেতাকর্মীদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। দলটির শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা তার  এমন বক্তব্যে বাজে ভাষায় মন্তব্যও করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকেও মওদুদের কড়া সমালোচনা করে চলছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিএনপির শীষ পর্যায়ের এক নেতা বলেন, বিষয়টি নিয়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলবেন। কেননা, এমন মন্তব্য দলকে বেকায়দায় ফেলতে পারে।

ফেসবুকে একজন স্ট্যাটাসে বলেন, ‘ আপনি কীভাবে জানলেন খালেদা জিয়ার সাজা হবে? আমরা তো আগেই জানি আপনার অবস্থান কী, আপনার যে সরকারের সঙ্গে গোপন আঁতাত রয়েছে তা তো সবাই কমবেশি জানে। ফলে আপনি এর চেয়ে ভাল কী মন্তব্য করবেন?’

তবে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা বিএনপির নেতারা এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জোটের শরীক দল লেবার পার্টি পিলখানা ট্র্যাজেডি স্মরণে ওই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

দুটি ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচার চলছে। বিচার আত্মপক্ষ সমর্থন পর্যায়ে আছে। বিএনপির নেতারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত তার সাজা হবে। এটি হলে বিএনপি কীভাবে চলবে, খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন কি না, এসব বিষয়ে দলেও নানা আলোচনা চলছে।

এমন প্রেক্ষাপটে প্রবীণ আইনজীবী মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়ার শাস্তি হলে নির্বাচন করতে পারবেন না, এটা ঠিক নয়। মিথ্যা মামলায় সাজা হলে খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা আরো বাড়বে।

মওদুদ বলেন, ‘ধরে নিলাম মিথ্যা মামলায় একটি রায়ে তার (খালেদা জিয়া) সাজা হয়ে গেল। ভালো কথা, আমরা আপিল ফাইল করব। আপিলটা হলো কনটিনিউশন অব দা প্রসিডিংস। অর্থাৎ যে বিচার হয়েছে, এটা হলো সে বিচারের ধারাবাহিকতা। তখন আমরা তার জন্য ইনশাআল্লাহ জামিন নেব। বেগম খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত হলেও নির্বাচনে সরাসরি অংশ গ্রহণ করতে পারবেন।’

বিএনপির এই নেতা সাজা হলেও খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি দল ও জোটের নেতৃত্বও দিতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন।

এ দিকে মওদুদের এমন বক্তব্যে ক্ষমতাসীন মহল বেশ উৎফুল্ল। কেননা, আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা ও মন্ত্রী আগেই মন্তব্য করে আসছিলেন, বিএনপির ভেতরকার লোকজনই চায় খালেদা জিয়া সাজা হোক। গত সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপির নেতারা তলে তলে বলেন, ‘খালেদা জিয়া জেলে যাক। কেন তার বিচারের রায় হতে দেরি হচ্ছে?’ কিন্তু তারা রাজপথে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘খালেদা জিয়া জেলে গেলে নির্বাচন হবে না।’ বিএনপির নেতাকর্মীরাও জানেন খালেদা জিয়ার এতগুলো অপরাধ এবং তার নামে যতগুলো মামলায় হয়েছে যে তার সেখান থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় নেই।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে নতুন বই লিখে নিজ দলের নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন বিএনপির এই নেতা। ওই সময় প্রকাশিত বাংলাদেশ : ইমারজেন্সি অ্যান্ড দ্য আফটারম্যাথ : ২০০৭-২০০৮-এ ২০০৮ সালের নির্বাচনের পরাজয়, চারদলীয় জোটের দুর্নীতি, অপশাসনসহ নানা বিষয় তুলে ধরেন মওদুদ আহমদ। বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের পর থেকেই দলের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

মওদুদের ওপর ক্ষুব্ধ খালেদা জিয়াও। দলটির শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা তার কঠোর সমালোচনা করেন, বাজে ভাষায় আক্রমণও করেন ওই সময়। এনিয়ে মওদুদের কড়া সমালোচনা চলে দীর্ঘদিন। এতে ওই সময় বিএনপির এই নেতা তখন অনেকটাই একঘরে হয়ে ছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে তিনি আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার চেষ্টা করেন। অংশ নিতে থাকেন সভা-সেমিনারে। এরই মধ্যে তিনি আবার এই মন্তব্য করে বিএনপির নেতাকর্মীদের সমালোচনার মুখে পড়লেন।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট