আজ সেই ভয়াল পিলখানা হত্যা দিবস

প্রকাশিত: ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৭

আজ সেই ভয়াল পিলখানা হত্যা দিবস
মোস্তাফিজুর রহমান বিপ্লব : আজ সেই রক্তাক্ত ২৫ ফেব্রুয়ারি, পিলখানায় বিডিআর সদর দফতরে দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাদের মর্মান্তিক হত্যাযজ্ঞের শোকাবহ দিন। ২০০৯ সালের এইদিনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক দিনের মধ্যেই বিদ্রোহের নামে হিংস্র পৈশাচিকতায় মেজর জেনারেল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের  ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে  বীভৎসভাবে হত্যা করা হয়। প্রায় ৩৬ ঘন্টার হত্যাযজ্ঞ ও তান্ডবলীলায় পিলখানা পরিণত হয়েছিল এক মৃত্যুপুরীতে। এ সময়ে বিডিআর ডিজিসহ আক্রান্ত সেনা কর্মকর্তারা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে টেলিফোনে সাহায্য চাইলেও কেউ এগিয়ে না আসায় সবাই মর্মান্তিকভাবে নিহত হন। পৃথিবীর ইতিহাসে আলোচিত এই বর্বর হত্যাযজ্ঞের বিচারকাজ শেষ হলেও চিহ্নিত করা হয়নি নেপথ্য নায়কদের। মামলার রায়ে বিডিআরের সাবেক ডিএডি তৌহিদসহ ১৫২ জনকে মৃত্যুদন্ড ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয়া হয়। নিহতের স্বজনরা ঘটনার নেপথ্য নায়কদের চিহ্নিত করতে পুনঃতদন্ত দাবি করে পূর্ণাঙ্গ বিচার দাবি করেছেন।   : ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েকদিন পরই ঢাকার পিলখানায় সশস্ত্র বিডিআর সদস্যরা বিদ্রোহ করলে তাদের তান্ডবে বিডিআর ডিজি মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। বিদ্রোহের নামে ৩৬ ঘন্টার ধ্বংসযজ্ঞে পিলখানায় শুধু লাশ আর লাশ। রক্ত আর রক্ত। পোড়া গাড়ি, ভাঙা গ্লাস, ঘাষের ভেতর তাজা গ্রেনেড এবং ধ্বংসের সব চিহ্ন। সেনা কর্মকর্তাদের কোয়ার্টারগুলোর তছনছ অবস্থা। বিভিন্ন স্থাপনায় জ্বালাও-পোড়াওয়ের ধোঁয়ায় ধূসরিত চিহ্ন। ড্রেনের ম্যানহোল থেকে ভেসে আসা লাশ আর রক্তের উৎকট গন্ধ। বিদ্রোহ পিলখানা থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল সারাদেশে বিডিআরের ৫৭টি ইউনিটে। মহাজোট সরকার গঠনের মাত্র দেড় মাসের মাথায় এমন নারকীয় ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সরকার, জনগণ সবাইকে স্তম্ভিত করে তোলে। একজন মেজর জেনারেল, ব্রিগেডিয়ার কর্নেল, লে. কর্নেল, মেজরসহ ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাকে হত্যার লোমহর্ষক সেই কাহিনী আজও আমাদের কাঁদায়। এই হত্যাযজ্ঞের আট বছর পার হলেও সেই বিদ্রোহের দুঃসহ স্মৃতি আজো জীবন্ত হয়ে ভাসে আমাদের মনে। পিলখানা যেন পরিণত হয় এক গণকবরে। বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর বিডিআর বিদ্রোহ বা ‘পিলখানা হত্যা মামলা’র রায়ে ১৫২ জনকে ফাঁসি, ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বেকসুর খালাস পেয়েছেন ২৭১ জন। : বিদ্রোহ যেভাবে শুরু : ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে অন্যান্য দিনের মতোই বিডিআর সপ্তাহ উপলক্ষে সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশেই কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। দরবার হলে সবাই নিয়মানুযায়ী যে যার অবস্থানে বসেছিলেন। অনুষ্ঠান শুরুর পরই হঠাৎ দরবার হলের দক্ষিণ-পূর্ব দরজা দিয়ে রান্নাঘরের দিক থেকে অস্ত্রহাতে ঢুকে পড়ে একজন। তার পিছু পিছু আরও দু’জন। পরে জানা যায়, প্রথম যিনি অস্ত্রহাতে দরবার হলে ঢুকেছেন, তার নাম সিপাহি মাইন। তার পিছু পিছু আরও যে দু’জন ঢুকেছিলেন তারা হলেন সিপাহি কাজল আলী ও এবি সিদ্দিক। দরবার হলের মঞ্চে উপবিষ্ট মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের দিকে অস্ত্র তাক করে উত্তেজিত ভঙ্গিতে কথা বলতে শুরু করে সিপাহি মাইন। এ সময় ত্বরিতগতিতে তখনকার ডিডিজি ব্রিগেডিয়ার এমএ বারী অন্য কর্মকর্তাদের সহায়তায় তাকে নিরস্ত্র করেন। পরে কাজল আলী ও এবি সিদ্দিক দরবার হল থেকে পালিয়ে যায়। সেসময় দরবারে বসা সিপাহিদের মধ্য থেকে একজন জোরে চিৎকার দিয়ে ‘জাগো’ বলে উঠলে বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা দরবার হল ত্যাগ শুরু করে। এরপরই শুরু হয় গোলাগুলি আর ইতিহাসের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ-তা ব। পিলখানায় হত্যাযজ্ঞ চালানোর আগে বিদ্রোহীরা বিডিআরের অস্ত্রাগার দখল করে। অস্ত্রাগারের হাতিয়ার ও গোলাবারুদ বিদ্রোহীরা হাতে হাতে নিয়ে ইচ্ছেমতো ব্যবহার করে সেনা কর্মকর্তাদের ওপর। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ চুরি করে পালিয়ে যায় তারা। যার অনেকগুলো এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকালে ও রাতে বিদ্রোহী অনেকে পালিয়ে যাওয়ার পর পিলখানায় তাদের নৃশংসতার ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ পেতে থাকে। প্রায় ৩৬ ঘণ্টার এ বিদ্রোহের পর পিলখানা পরিণত হয় এক মৃত্যুপুরীতে। সর্বত্রই বর্বরতা আর নৃশংসতার চিহ্ন। ব্যাটালিয়নের বিভিন্ন অফিস ভাঙচুর করা হয়। সেনা কর্মকর্তাদের আবাস্থল জ্বালিয়ে দেয়া হয়। ম্যানহোলে ফেলে দেয়া ৯ সেনা কর্মকর্তার লাশ কামরাঙ্গীরচরে একটি স্যুয়ারেজ লাইন থেকে উদ্ধার করা হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি বিডিআর হাসপাতালের পেছনে ও ১৩ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের দক্ষিণের মাঠের একটি গণকবর থেকে উদ্ধার করা হয় ৩৯টি লাশ। এমটি গ্যারেজ মাঠের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় আরও ৯টি লাশ। সকালে বিডিআর বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পর মহাপরিচালক মোবাইলে তাদের রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সেনাপ্রধানসহ সকলের কাছে আবেদন করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। ফলে বিদ্রোহের প্রথম দিনেই তাদের মর্মান্তিকভাবে নিহত হতে হয়। সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে ডিএডি তৌহিদের নেতৃত্বে বিদ্রোহীদের ডেকে এনে আলোচনা করে তাদের সকল দাবি মেনে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। বিদ্রোহীদের দমনে অভিযানের বদলে বিদ্রোহীদের নেতা ডিএডি তৌহিদকে বিডিআরের কমান্ডারও নিয়োগ করে পিলখানায় পাঠানো হয়। : পরিবর্তন :  বিদ্রোহের পর বিডিআরের নাম পরিবর্তন করে বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ নামকরণ করা হয়। পরিবর্তন করা হয় বিজেবির আইনও। সীমান্ত রক্ষার নতুন এ বাহিনীর জন্য নতুন পোশাক, পতাকা ও মনোগ্রামসহ অনেক কিছুই পাল্টে দেয়া হয়েছে। বাহিনীর ব্যাপক পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাসের লক্ষ্যে নতুন করে চারটি আঞ্চলিক সদর, চারটি নতুন সেক্টর এবং ১১টি নতুন ব্যাটালিয়ন তৈরি করা হচ্ছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে সীমান্ত রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত এ বাহিনীটি যৌথবাহিনীর নামে রাজনৈতিক কর্মসূচি দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাহিনীপ্রধানের রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। : বিচার : বিজিবি সূত্র জানায়, বিদ্রোহের মামলায় পিলখানা সদর দফতরসহ সারাদেশের মোট ৫৭টি ব্যাটালিয়নের ৬ হাজার ৪৫ জন জওয়ানের বিরুদ্ধে বিডিআর আইনে ৫৭টি মামলার বিদ্রোহের বিচার হয়। এছাড়াও হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় বিশেষ আদালতের রায়ে ১৫২ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বেকসুর খালাস পেয়েছেন ২৭১ জন। সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরউদ্দিন পিন্টু এবং আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীসহ ১৬০ জনকে যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে ২৫৬ জনকে। হত্যাকান্ডের মামলাটি বিচার শেষে হাইকোর্টে রায় অনুমোদন ও আপিল শুনানি শুরু হয়েছে। বিস্ফোরক আইনের মামলাটি এখনো নিম্ন আদালতে বিচারাধীন। পিলখানা হত্যা মামলায় ১৫২ আসামির ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদন্ড অনুমোদন) ও আসামিদের আপিলের ওপর শুনানি আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি করেছেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মুলতবির আদেশ দেন। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, আশা করা যায় চলতি বছরই হাইকোর্টে এ মামলার বিচার শেষ হবে। অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, একই সাক্ষ্যে কারও যাবজ্জীবন হয়েছে, কারও ১০ বছর সাজা হয়েছে। আবার কিছু আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে। অথচ একই অপরাধে কাউকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রেও খালাসপ্রাপ্তদের দন্ড দেয়ার জন্য আবেদন করব। দেশের ইতিহাসে আসামির সংখ্যার দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় এ মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে শুনানি শুরু হয়। বৃহস্পতিবার ৩৫৯তম দিনের (কার্যদিবস) মতো শুনানি হয়। : কোথাও সাড়া না পেয়েই বিদ্রোহ : অনুসন্ধানে জানা যায়, বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্রোহের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে। তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে বিডিআর সপ্তাহ উপলক্ষে বিষয়টি কয়েকজন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সরকারিদলের নেতাদের সাথে পরামর্শ করেছিল। অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় নেপথ্য নায়কদের চিহ্নিত করা হয়নি। পেশাদার কিলারদের মতোই কেবল প্রত্যক্ষ বিদ্রোহ ও হত্যায় অংশ নেয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। নেপথ্য নায়কদের বিষয়ে কোন অনুসন্ধান করা হয়নি। তাদেরকে অভিযোগ ও বিচার থেকে আড়াল করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর নতুন করে কেন তদন্তের দাবি করছেন? এ প্রশ্নের জবাবে নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা বলেন, এ রায়ে তারা জানতে পারেননি কে কাকে, কেন খুন করেছে। এর পেছনে কারা ছিল, তা-ও তারা জানতে পারেননি। তদন্ত কমিটি নেপথ্যের কুশীলবদের খুঁজে বের করতে পারেনি। নিহত লে. কর্নেল কুদরত-ই-এলাহীর বাবা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ছেলে হারানোর যে কী কষ্ট, সেটি কেবল একজন বাবাই বোঝেন। তাই আমাদের দাবি পিলখানা হত্যাকান্ডের দিনটিকে শহীদ সেনা দিবস ঘোষণা করা হোক।’ এ কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। নিহত কর্নেল মুজিবুল হকের স্ত্রী নেহরীন ফেরদৌসী বলেন, ‘শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের ছেলেমেয়েরা বড় হয়েছে। ওরা খুঁজে বেড়াচ্ছে, কেন ওদের বাবাকে হত্যা করা হলো। সন্তানেরা হত্যাকারীদের সম্পর্কে জানতে চায়। বিচার হলো, কিন্তু জানতে পারলাম না কারা, কেন তাকে খুন করেছে। আমার মতো সবার বাবাকে কীভাবে মারা হয়েছে, আমরা তা জানতে চাই, এ দাবি বিডিআর বিদ্রোহে নিহত লে. কর্নেল লুৎফর রহমানের চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়ুয়া মেয়ে ফাবলিহা বুশরার। : বাস্তবায়ন হয়নি দুটি কমিটির সুপারিশ : বিডিআর বিদ্রোহের পর সরকার ও সেনাবাহিনী দ্বারা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সাবেক অতিরিক্ত সচিব আনিসুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কমিটি করে। সেনাবাহিনীর পক্ষে লে. জেনারেল জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সে কমিটি দীর্ঘ তদন্ত করে প্রতিবেদন দিলেও তা আজও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। দুটি কমিটিই এ ঘটনার তদন্ত ও ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটতে পারে, সে ব্যাপারে বেশ কিছু সুপারিশ করে। বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িত বিডিআর সদস্যরা কে, কী ধরনের অপরাধ করেছেন বা তাদের চারিত্রিক, মানসিক ও পারিবারিক পরিচিতি কী রকম তা নিয়ে একটি ‘তথ্য ব্যাংক’ করার সুপারিশ করেছিল বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় গঠিত সেনা তদন্ত কমিটি। এতে বলা হয়েছিল, অন্যান্য বাহিনীতে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিদ্রোহ হলে তা প্রতিরোধে এই তথ্য ব্যাংক আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। জানা গেছে, অনেক দিন পেরিয়ে গেলেও এ ব্যাপারে আর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তাদের দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশের মধ্যে ছিল এ ধরনের জাতীয় সংকট মোকাবিলার জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে একটি ‘জাতীয় সংকট মোকাবিলা কমিটি’ গঠন করা। এছাড়া বিডিআর বিদ্রোহের ষড়যন্ত্র যথাসময়ে উদ্ঘাটনে ব্যর্থতা এবং বিদ্রোহ দমনে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত প্রদানে ব্যর্থ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়। একইভাবে তিন বাহিনীর সমন্বয়ে একটি দ্রুত মোতায়েনযোগ্য বাহিনী গঠনের কাজও এগোয়নি বলে জানা গেছে। এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় জাতীয়ভিত্তিক একটি স্থায়ী ‘ব্যবস্থাপনা সেল’ গঠনের সুপারিশ করা হয়। : কর্মসূচি : বেদনাবিধুর এ দিবসটি পালনের লক্ষ্যে সেনাবাহিনী ও বিজিবি’র পক্ষ থেকে ব্যাপক কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দফতর, পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকান্ডে শহীদ ব্যক্তিবর্গের স্মরণে (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭) শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হবে। দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী শহীদ ব্যক্তিবর্গের  রূহের মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে পিলখানাসহ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর সকল রিজিয়ন, সেক্টর, প্রতিষ্ঠান ও ইউনিটের ব্যবস্থাপনায় বাদ ফজর খতমে কোরআন এবং বিজিবির সকল মসজিদে এবং বিওপি পর্যায়ে শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সকাল ৯ টায় বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধানগণ (সম্মিলিতভাবে), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং বিজিবি মহাপরিচালক (একত্রে) শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বাদ আসর বিকাল ৪-৪৫টায় পিলখানাস্থ বীর উত্তম ফজলুর রহমান খন্দকার মিলনায়তনে শহীদ ব্যক্তিবর্গের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। : শহীদ বিডিআরদের কবরে শ্রদ্ধা জানাবে বিএনপি : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে শহীদ বিডিআরদের বনানীর সামরিক কবরস্থানে আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে ১০টায় শ্রদ্ধা জানাবে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও  আগামীকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি বাদ জোহর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় শহীদ বিডিআরদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করবে বিএনপি। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
  •