কমলগঞ্জে বনদস্যুর হাতে একজন খুন

প্রকাশিত: ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৭

কমলগঞ্জে বনদস্যুর হাতে একজন খুন

মোঃ মিজানুর রহমান : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বনদর্স্যুরা কুপিয়ে নৃশংস হত্যা করেছে ফারুক আলী (শহীদ) নামের এক বনরক্ষীকে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ শে ফেব্রুয়ারী কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়ণের আদমপুর বনবিটের আওতায় সামাজিক বনায়ণে বিগত ১০ বছর ধরে পূর্ব কানাইদেশী গ্রামের নূর মোহাম্মদের পুত্র এক কন্যা সন্তানের জনক মোঃ ফারুক আলী শহীদ (৩০) বনরক্ষীর দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন, ঘটনার দিন বুধবার বিকালের কোন এক সময়ে তাকে ৬নং হেক্টরের ২০০৭/২০০৮ রাঙ্গিটিল­া নামক সামাজিক বনায়ণের নির্জন স্থানে বনদস্যুরা তাকে হত্যা করে ফেলে যায়। এদিকে নিহতের বড় মোসাহিদ আলী ও তার এক আতœীয় আং আহাদ অভিযোগ করে এ প্রতিনিধিকে বলেন, গতকাল বুধবার বিকাল অনুমানিক ৪ টার দিকে আমার ছোট ভাই ফারুকের মুঠো ফোনে একটি কল আসার পর সে বাড়ী থেকে বেড় হয়ে যায়,অনেক রাত অতিবাহিত হয়ে গেলেও সে বাড়ীতে না ফেরায় তার মুঠো ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করি বার বার কল দেওয়ার পরও ফোনটি রিসিভ না হওয়ায় আমাদের মনে সন্দেহ জাগে, পরে আমরা রাত ২টার দিকে বনের মধ্যে তাকে খোঁজাখুজি শুরু করি, খোঁজাখুজির এক পর্যায় ২৩ শে ফেব্র“য়ারী বৃহস্পতিবার ভোর ৬ টার দিকে আমার ছোট ভাই জয়দর আলী সামাজিক বনায়নের ৬নং হেক্টরের ২০০৭/২০০৮ আকাশ মনি বাগানে তার ক্ষত-বিক্ষত নিতর দেহটি পরে থাকতে দেখে আমাদের কে ফোন দিয়ে ঘটনাটি জানায়, আমরা খবর শুনে সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পৌছে আমাদের ছোট ভাই ফারুকের লাশ গাছের নীচে পরে আছে এবং মুঠো ফোনটি গাছের নীচে রাখা রয়েছে। ঘটনাটি আমরা বনবিভাগ সহ অত্র ইউনিয়ণের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছি,আমার ভাই কে পরিকল্পিত ভাবে নৃশংস হত্যা করা হয়েছে। খবর শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন এদিকে মৃত ফারুকের বাড়ীতে চলছে শোকের মাতম। শান্তনা দেওয়ার ভাষা যেন সবাই হারিয়ে ফেলেছেন শত শত নারী,পুরুষ শিশুরা গভীর অরন্যে ভিড় জমাচ্ছেন ফারুকের মৃত দেহ একনজর দেখার জন্য। ফারুকের লাশ দেখতে আসা কয়েক জন এলাকাবাসীসহ সাবেক ইউপি সদস্য মছদ্দর আলী বলেন, ফারুক দীর্ঘদিন ধরে এই বনায়ণে ভিলেজারের দায়িত্বে ছিল, সে খুব সৎ ও সহজ সরল লোক ছিলো। নিঃসন্দেহে বলতে পারি তাকে কেউ পরিকল্পিত ভাবে ডেকে এনে হত্যা করেছে, আমরা অপরাধীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তী দাবী করছি।
এ বিষয়ে রাজকান্দী রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আং আহাদ চৌধুরী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ফারুক আলী এবং তার পিতা নূর মোহাম্মদ দীর্ঘদিন ধরে বন বিভাগের রাঙ্গাঠিল­া এলাকায় ভিলেজারের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন, আমরা এ বিষয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ রাঙ্গাঠিল­া সামাজিক বনায়ণে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। তিনি জানান, এ ব্যপারে কমলগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট