টোকিওতে ভাষণ দিলেন ড. ইউনূস

প্রকাশিত: ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৭

টোকিওতে ভাষণ দিলেন ড. ইউনূস

জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সামাজিক ব্যবসা ফোরামে স্বাস্থ্যসেবা ও বয়স্কদের সমস্যা বিষয়ে ভাষণ দিলেন প্রফেসর ইউনূস।

টোকিওর গভর্ণর ২০২০ সালে টোকিওতে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক ও নারী উদ্যোক্তাদের বিষয়ে প্রফেসর ইউনূসের পরামর্শ চেয়েছেন।

২১ ফেব্রুয়ারীতে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সামাজিক ব্যবসা কীভাবে জাপানের বয়স্ক মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত সমস্যাগুলোর সমাধানে বিভিন্ন উদ্ভাবনশীল সমাধান নিয়ে এগিয়ে আসতে পারে সে বিষয়ে টোকিওতে বক্তৃতা দেন।

কিউশু বিশ্ববিদ্যালয় ও আসাহি পত্রিকা কর্তৃক আয়োজিত এবং টোকিও-র আসাহি হামারিকিউ হলে অনুষ্ঠিত এসডিজি সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত প্রথম সামাজিক ব্যবসা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির মূল ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি এ বিষয়ে আলোচনা করেন।

প্রফেসর ইউনূস বয়স্ক সমাজ, স্বাস্থ্যসেবার পরিবর্তিত ধরন ও এই সামাজিক চাহিদাটি পূরণে তরুণ সমাজ কী ভূমিকা পালন করতে পারে সে বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। টোকিওর গভর্ণর ও জাপানের সাবেক পরিবেশ মন্ত্রী মিস ইউরিকো কোইকে-ও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এসব অনুষ্ঠানে শ্রোতা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও প্রফেসর ইউনূস কিউশু বিশ্ববিদ্যালয় ইউনূস শীকি সামাজিক ব্যবসা কেন্দ্র আয়োজিত ইউনূস ও যুব সামাজিক ব্যবসা ডিজাইন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করেন।

সামাজিক ব্যবসার ধারণা প্রয়োগ করে টোকিওর নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি নগর-ব্যাপী কর্মসূচি গড়ে তোলা নিয়ে টোকিওর গভর্ণর প্রফেসর ইউনূসের সাথে একটি বিশেষ বৈঠকও করেন।

এছাড়াও টোকিওর গভর্ণর ২০২০ সালে অনুষ্ঠেয় টোকিও গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের আয়োজক কর্মকর্তাদের একটি বিশেষ পরামর্শক সেশনে বক্তৃতা দেবার জন্য প্রফেসর ইউনূসকে অচিরেই আবারো টোকিও আসার জন্য আমন্ত্রণ জানান।

প্রফেসর ইউনূস দোশিশা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দেবার জন্য কিওটো সফর করেন। তাকে অভ্যর্থনা জানান কিওটোর গভর্ণর কেইজি ইয়ামাদা। গভর্ণর ইয়ামাদা কিওটোর সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু বিষয়ে প্রফেসর ইউনূসকে অবহিত করেন এবং এগুলোর সমাধান করতে কীভাবে সামাজিক ব্যবসা গড়ে তোলা যায় সে বিষয়ে প্রফেসর ইউনূসের পরামর্শ চান।

ইস্যুগুলো হচ্ছে:

(১) বয়স্ক সমাজ – সুস্থ বয়স্কদের বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শিতা থাকলেও তারা অবসরে চলে যাবার কারণে তাদের দক্ষতা কাজে লাগাতে পারছেন না।

(২) এনজিও ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর সীমাবদ্ধতা – যেহেতু সরকারকে সামাজিক কাজে ক্রমাগতভাবে আর্থিক সহায়তা দিয়ে যেতে হচ্ছে।

প্রফেসর ইউনূস বিনিয়োজিত তহবিলকে একটি অসীম আয়ু দেবার জন্য একটি সামাজিক ব্যবসা তহবিল তৈরীর প্রস্তাব দেন। তিনি অবসরে যাওয়া নাগরিকদের জন্য একটি সামাজিক ব্যবসা প্রতিযোগিতার আয়োজন করার প্রস্তাব করেন।

এই প্রতিযোগিতায় তারা নিজেদের মতো করে সমস্যাগুলোর তালিকা তৈরী করবেন এবং সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে এই সমস্যাগুলো সমাধান করতে বিভিন্ন আইডিয়া উপস্থাপন করবেন। যে প্রস্তাবগুলো আকর্ষণীয় বলে মনে হবে সেগুলো পরীক্ষা করে দেখার উদ্দেশ্যে সরকার একটি তহবিল গঠন করতে পারে।

চূড়ান্তভাবে সবচেয়ে উপযোগী প্রস্তাবগুলোতে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। জার্মানী, ইটালী ইত্যাদি বিভিন্ন দেশের কয়েকটি নগরী নিজেদেরকে সামাজিক ব্যবসা নগরী হিসেবে ঘোষণা করেছে জানতে পেরে গভর্ণর ইয়ামাদা কিওটোকেও সামাজিক ব্যবসা নগরীতে পরিণত করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।-বিজ্ঞপ্তি

  •