শফিকুর রহমান চৌধুরীর গাড়িতে হামলা : প্রতিবাদে মিছিল-অবরোধ-হামলা

প্রকাশিত: ১২:০৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৭

শফিকুর রহমান চৌধুরীর গাড়িতে হামলা : প্রতিবাদে মিছিল-অবরোধ-হামলা

সাবেক সংসদ সদস্য এবং সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীর গাড়ীতে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছে আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা। এসময় সড়ক অবরোধ করে রাস্তায় বসে নেতাকর্মীরা এ হামলার প্রতিবাদ জানান ও দ্রুত জড়িতদের বিচারের দাবি জানানা। শনিবার বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এ অবরোধ কর্মসূচী পালন করেন নেতাকর্মীরা। পওে বালাগঞ্জ উপজেলা টিএনও ও অন্যন্যরা এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিলে অবরোধ সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়।
এ ব্যাপারে বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আনহার মিয়া বলেন, আমরা বিকাল ৪টা থেকে সড়ক অবরোধ করি। শফিক চৌধুরীর উপর এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আমরা সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করি। জড়িতদের দ্রুত শাস্তি না দিলে আমরা পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচী পালন করব।
এদিকে, হামলার পরপরই নগরীর বেশ কয়েকটি জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে, রাস্তায় ব্যারিকেট দিয়ে অবরোধ কর্মসূচী পালন করে আ.লীগের অঙ্গসংগঠনগুলো। অবরোধ চলাকালীন সময়ে নগরীর চৌহাট্টা-আম্বরখানা, সুবিদবাজার-আম্বরখানা, এয়ারপোর্ট-আম্বরখানা, টিলাগড়-আম্বরখানা রাস্তায় যানচলাচল আটকে যায়। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
অবরোধ কর্মসূচীর জেরে সন্ধ্যা ৬টায় নগরীর আম্বরখানা পয়েন্টেসহ, নগরীর দরগাহ গেইট এলাকার ইজি শো-রুমের সামনে আগুন জ্বালিয়ে, রাস্তায় ব্যারিকেট দিয়ে অবরোধ কর্মসূচী পালন করে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও তাতীলীগ। এসময় তারা শ্লোগানে শ্লোগানে শফিক চৌধুরীর গাড়িতে হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে আম্বরখানা পয়েন্টে ও আশেপাশের রাস্তায় লাঠি হাতে শো-ডাউন করে।
অবরোধ কর্মসূচীতে অংশগ্রহনকারী ছাত্রলীগ কর্মী আনোয়ার বলেন, দুপুরে আমাদের নেতার গাড়ীতে শ্রমিক লীগের কর্মীরা হামলা চালায়। তার কারনে আমরা তাদের বিচার চেয়ে শান্তিপূর্ন ভাবে অবরোধ কর্মসূচী পালন করছি। কোন গাড়ি ভাঙচুরে আমরা জড়াবনা। ঘন্টাখানেক রাস্তা অবরোধের পর সন্ধ্যা ৭টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও যানচলাচল শুরু হয়।
অপর দিকে শফিকুর রহমান চৌধুরীর গাড়ি ভাংচুরের ঘটনার পরই পরই নগরীর বিভিন্ন জায়গায় দফায় দফায় পরিবহন শ্রমিকদের কার্যালয়ে হামলা ও তান্ডব চালিয়েছে ছাত্রলীগ কর্মিরা। এসময় তারা পরিববহন শ্রমিক কার্যালয় এবং শ্রমিক নেতাদের বাসায় হামলা চালায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
বিকাল ৩টার দিকে নগরীর উপশহর পয়েন্টের কাছে হামলার শিকার হন শফিক চৌধুরী। এর কিছুক্ষন পর সোবহানীঘাটে পরিবহন শ্রমিকের কার্যালয় ভাংচুর করে ছাত্রলীগ কর্মিরা। পরে বিকাল ৪টার দিকে ইসলামপুর (টিলাগড়) জেলা ট্রাক পিকআপ কাভার্ড শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় ভাংচুর করে তারা।
পরে বিকাল ৫টার দিকে টিলাগড় গোপাল টিলা আবাসিক এলাকায় জেলার ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আবু সরকারের বাসায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এসময় তারা বাসার আসবাবপত্র ভাংচুর করে এবং লুটপাট করে বলে দাবি করেছেন আবু সরকারের স্ত্রী চামেলি রাণি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টিলাগড়ে সিলেট জেলা ট্রাক পিকআপ কাভার্ড শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় পরিবহন শ্রমিক কার্যালয়ে কেউ না থাকলেও কার্যালয়ের আসবাব পত্র ভাংচুর করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
বিশ্বনাথে আ.লীগের সড়ক অবরোধ-মিছিল:
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরীর গাড়ি ভাংচুরের প্রতিবাদে তার নিজ এলাকা বিশ্বনাথে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল বের করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠন।
শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলা সদরের থানার সামন থেকে মিছিলটি বের হয়ে প্রধান সড়কগুলো প্রদিক্ষণ করে আবার সামনে এসে প্রতিবাদ সভায় মিলিত। এসময় দলীয় নেতাকর্মীরা বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর-রামপাশা সড়ক অবরোধ করে রাখে। প্রায আধা ঘন্টা ব্যাপি এ অবরোধ ছিল। ফলে যাত্রীদের পুহাতে হয় দূর্ভোগ। রাস্তার দু-পাশে আটকা পড়ে কয়েকশত গাড়ি। পরে থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম পিপিএম ঘটনাস্থলে এসে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। জনদুভোগের কথা বিবেচনা করে কর্মসূচী স্থগিত করা হয়েছে তবে দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে আবারও অবরোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
বিশ্বনাথে বিক্ষোভ মিছিল ও অবরোধ কালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আ.লীগ নেতা আসাদুজ্জামান, আমির আলী চেয়ারম্যান, রুনু কান্ত দে, সুফি সামছুল ইসলাম, আরিফ উল্লাহ সিতাব, আব্দুল আজিজ, আব্দুল মুমিন, মোহাম্মদ আলমগীর চেয়ারম্যান, প্রভাষক আব্দুল ওয়াহাব, আব্দুর রহমান, আব্দুল জলিল জালাল, আব্দুল মতিন, ওয়াহাব আলী মেম্বার, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আশিক আলী, আলতাব হোসেন, যুবলীগ নেতা আব্দুর রউফ, রফিক হাসান মেম্বার, কামরুজ্জামান সেবুল, আব্দুল আজিজ সুমন, সঞ্জিত আচার্য্য, জিয়াউর রহমান জিয়া, তাজুল ইসলাম, জাবেদ আহমদ, মনোহর হোসেন মুন্না, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, যুগ্ম সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক, সদস্য রফিক মিয়া,
জেলা ছাত্রলীগের উপ-শিক্ষা সম্পাদক শাহ বুরহান আহমদ রুবেল, সদস্য কাওছার আহমদ, উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক ফয়জুল ইসলাম জয়, যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল মালিক সুমন, মুহিবুর রহমান সুইট, ছাত্রলীগ নেতা রাজু আহমদ খান, শাহ সুজা, এনামুল হক বিজয়, আব্দুল মুকিত সুমন, উপজেলা প্রজন্ম লীগের আহবায়ক তোফায়েল আহমদ কামাল, তরুণ লীগ নেতা কাওছার আলী প্রমুখ।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট