মন্তব্য প্রতিবেদন ।। কৌশলের খেলা ও হাসিনা-খালেদার রাজনীতি

প্রকাশিত: ১:৪১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৭

মন্তব্য প্রতিবেদন ।। কৌশলের খেলা ও হাসিনা-খালেদার রাজনীতি

ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান : দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে দেশের রাজনীতির দৃশ্যপট। রাজনৈতিক মহল এবং কূটনৈতিক মহলে চলছে নানা তৎপরতা। দু’মেরুতে অবস্থানে থাকা ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পরস্পরকে ঘায়েল করতে বিভিন্ন সময়ে নানা কৌশল অবলম্বন করে আসছে।

তবে বলা যায়- গত আট বছরে রাজনৈতিক কৌশল প্রয়োগের দিক থেকে বরাবরই শেখ হাসিনা সরকার অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে  ছিলো। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে  বিদেশিদের চাপে সরকার যে কিছুটা অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছে একথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

নতুন ইসি, খালেদা জিয়ার মামলা, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার এবং জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার এই তিন ইস্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গন ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে চলছে বাকযুদ্ধ। নেতাদের বক্তব্যে যে ধরনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে তাতে, যে কোনো মুহূর্তে দেশের রাজনীতি আবারো সহিংস কিংবা সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় দুই মামলায় (জিয়া অরফানেজ এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট) খালেদা জিয়ার (জেলে যাওয়ার মতো)সাজা হতে পারে এমন ধারণা এখন সবার মুখে মুখে। সরকার দলীয় শীর্ষ নেতানেত্রী এবং বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মুখেও উচ্চারিত হচ্ছে খালেদার জেলে যাওয়ার বিষয়টি। এ নিয়েও শুরু হয়েছে নানা অপ্রকাশ্য গুঞ্জন। এমন কী কয়েকদিনের মধ্যেই খালেদা জিয়া কারাগারে যেতে পারেন এমন গুঞ্জন রাজনৈতিক পাড়ায় বেশ আলোচিত হচ্ছে।

যদিও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বেগম জিয়ার কারাগারে যাওয়ার মতো কোনো পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। আর বেগম জিয়া কারাগারে গেলে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না।

অপর দিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আদালতে প্রমাণ হলে খালেদাকে শাস্তি পেতেই হবে। আওয়ামী লীগের নেতারা দাবি করছেন বেগম জিয়াকে সাজা দেয়ার কোনো ইচ্ছা নেই আওয়ামী লীগের। তবে আদালতে সাজা হলে তাদের আর কিছুই করার থাকবে না।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বেগম জিয়াকে সরকারের শাস্তি দেয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। তবে এটি আদালতের বিষয়। এখানে আমাদের কিছু বলার নেই। আবার কেউ কেউ ভারতের তামিলনাডুর শশীকলার উদাহারণ টেনে বলছেন শশীকলার জন্য যেমন তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রীর পথ থেমে থাকেনি, খালেদা জিয়ার জন্যেও প্রধানমন্ত্রীর পথ পড়ে থাকবে না।

তিনি আরো বলেছেন, বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ না নিলে তাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।

এ দিকে খালেদা জিয়ার জেলে যাওয়ার বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন না সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও। তাদের মতে, এমন অঘটন ঘটলে  দেশের রাজনীতির পরিস্থিতি আরো নাজুক হতে পারে। নতুন করে সহিংস হয়ে উঠতে পারে দেশের রাজনীতি।

এ বিষয়ে অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেছেন, এসব মামলায় সাজা দিয়ে খালেদা জিয়াকে জেলে  পাঠানো হলে রাজনীতিতে একটা মন্দ নজীর স্থাপিত হবে। কেননা, ওয়ানইলিভেনের সময় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছিল কিন্তু ওইসব মামলা সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আর এখন খালেদাকে সাজা দেওয়া হলে নিতান্তই তা হবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ফলে দেশের রাজনীতি ফের সংঘাতের দিকে যেতে পারে।

আমরা যদি একটু পেছনে ফিরে তাকাই তবে সহজেই বলতে পারি- নানা বিতর্কের মধ্যেও গেল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজনীতির দৃশ্যপটে অনেকটাই পরিবর্তন আসে। নির্বাচনের আগে দেশে যে সহিংস পরিস্থিতি বিরাজ করছিল সেই অবস্থা থেকে দেশবাসী অনেকটাই পরিত্রাণ লাভ করেছিল। যদিও দুই পক্ষের মধ্যে এক ধরনের ঠাণ্ডা লড়াই চলে আসছিল।

এছাড়া ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীনরা দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিকভাবে যে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছিল দৃশ্যতঃ তারা সেই চাপও সামলিয়ে উঠেছিল।

নির্বাচনের আগে মহাজোটের পক্ষ থেকে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে নিয়ম রক্ষার নির্বাচন বলা হলেও পরবর্তীতে সেটা ভুলে গিয়ে ৫ বছরের জন্যই ক্ষমতার মসনদে নিজেদের টিকিয়ে রাখার প্রাণপণ চেষ্টারত তারা। শুধু তাই নয়, আগামী জাতীয় নির্বাচনেও বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসতে নানা কৌশলে এগিয়ে ক্ষমতাসীনরাই।

অন্যদিকে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে প্রতিহত করা ঘোষণা নিজেদের ব্যর্থতায় তা হালে পানি পায়নি। ক্ষমতাসীনদের হটিয়ে ক্ষমতার মসনদ দখলে এক বছরের মাথায় পুনরায় লাগাতার আন্দোলন শুরু করে বিরোধীপক্ষ। তাতে কোনো ফল আসেনি। বলা যায়, শেষপর্যন্ত শেখ হাসিনার কৌশলের কাছে  খালেদা জিয়ার সব কৌশল পরাজিত হয়।

এভাবে দুপক্ষের একগুয়েমি রাজনীতিতে দেশ আজ গভীর সঙ্কটে নিমজ্জিত। সঙ্কটের গভীরতা বিবেচনায় পরিস্থিতি এমন যে, বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্র হওয়ার পথে চলছে। চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট দ্রুত সমাধান হোক এটা সাধারণ মানুষের একান্ত চাওয়া সত্ত্বেও সেটার কোনো প্রতিফলন হচ্ছে না। বরং রাজনীতির হানাহানিতে ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যে উঠে এসেছে। বিশেষ করে বন্দুকযুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অহরহ ঘটছে। এসব হত্যাকে যেভাবেই সংজ্ঞায়িত করা হোক না কেন, রাষ্ট্র এর দায় এড়াতে পারে না।

তবে এসব ঘটনা যে শুধু এই সরকারের আমলেই ঘটছে তা বলার সুযোগ নেই। অতীতে যেমন রক্ষিবাহিনী গঠনের মাধ্যমে রাষ্ট্র মানবাধিকার লঙ্ঘনের পথ সৃষ্টি করেছিল, তেমনি বিগত বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার ২০০৪ সালে র্যা ব-চিতা ও কোবরার নামে এলিট ফোর্স সৃষ্টি করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পথকে সুপ্রশস্ত করে। ফলে কোনো রাজনৈতিক দলই এর দায় এড়াতে পারে না। যদিও ক্ষমতায় গেলে এবং ক্ষমতার বাইরে থাকলে তাদের বক্তব্যের সুরে ভিন্ন রূপ লক্ষ্য করা যায়।

ফলে প্রতীয়মান হয় যে, বর্তমানে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি কতটা নাজুক। এখানে মানুষের জানমালের স্বাভাবিক নিরাপত্তা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সভা-সমাবেশ করার অধিকারের বিষয়টি অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ।

সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধীরা সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবিতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয়। কিন্তু তাদের সে দাবি আমলে নেয়নি সরকার। এখন ফের নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবিতে সংলাপ চাচ্ছে বিরোধী পক্ষ। অন্যদিকে সরকার ক্ষমতার মসনদ ঠিক রাখতে রাষ্ট্রযন্ত্রের সব শক্তি প্রয়োগ করছে। ফলে দৃশ্যতঃ দুপক্ষই ‘বাঁচা মরার লড়াইয়ে’ লিপ্ত হয়েছে।

এতে বলা যায়- জেদাজেদির এই রাজনীতিতে কোনো এক সময় এক পক্ষকে হারতেই হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর হেরে গেলে তাদের অস্তিত্ব কতটা হুমকির মুখে পড়বে তা সহজেই অনুমেয়। এতে দেশের পরিস্থিতি উন্নতি না হয়ে বরং আরো অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। যেটা আলোচনার মাধ্যমে এখনো এড়ানো সম্ভব।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ আট বছর আন্দোলন সংগ্রামের ফসল গড়ে তুলতে পারেনি বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট। ফলে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের অর্ধেক নেতাকর্মীই হারিয়ে গেছেন। তারা আর কর্মসূচীতে অংশ নেন না। কর্মসূচী দিয়েও মাঠে নামতে পারছে না। ফলে আগামীতে ক্ষমতার পট পরিবর্তনে কোনো কারণে ব্যর্থ হলে আরো অনেক নেতাকর্মী স্বল্প সময়ের মধ্যেই হারিয়ে যাবে এতে কোনো সন্দেহ নাই। ফলে বলা যায়- বর্তমানে অনেকটাই সঙ্কটময় পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে বিরোধী পক্ষ।

অন্যদিকে, কোনো কারণে ক্ষমতার মসনদ টিকিয়ে রাখতে না পারলে যে, মহাজোটের নেতাকর্মীদেরকেও চরম মাসুল দিতে হবে। তাদের অস্তিত্বও যে হুমকির মুখে পড়বে এতেও কোনো সন্দেহ নেই। যা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নিজেই তার দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন।

আর যদি ক্ষমতাসীনরা কোনো কারণে পরিস্থিতির মোকাবেলা করে মসনদে ফের টিকে যেতে পারে এবং আগামী নির্বাচনেও বিজয়ী হতে পারে তবে নিঃসন্দেহে বলা যায় সহসাই আর ক্ষমতার পরিবর্তন হবে না।

এর মধ্যে যদি দৈববশত কোনো ধরনের অঘটন না ঘটে। আর এতে ক্ষমতাসীনদের এই শাসন হতে পারে তুরস্কের মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের শাসনের মতো ১৫ বছর জন্য, হতে পারে ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের মত ২৩ বছর, হতে পারে মিশরের হোসনি মোবারকের মতো ৩০ বছর ও লিবিয়ার গাদ্দাফির শাসনের মতো দীর্ঘ ৪১ বছরের জন্য। তবে চলমান পরিস্থিতি মোকাবেলা করা ক্ষমতাসীনদের জন্য খুব একটা সহজ বলে মনে হচ্ছে না। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

এমন পরিস্থিতিতে তৃতীয় শক্তির উত্থানের আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন অনেকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এ আশঙ্কাকে একবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না। বিশ্লেষকদের মতে, যেখানে গণতান্ত্রিক চর্চা রুদ্ধ হয়ে পড়ে, সেখানে এ ধরনের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বিরাজমান থাকে। কেননা, অতীতেও এমন পরিস্থিতিতে তৃতীয় শক্তির উত্থান ঘটতে দেখা গেছে।

অতীতের এসব ঘটনা থেকে বলা যায়, বাংলাদেশে সেনা অভ্যুত্থানের মতো ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা না থাকলেও, চলমান রাজনৈতিক সঙ্কটের কারণে যেকোনো সময় এ ধরনের কোনো অঘটন যে ঘটবে না, এটা আমরা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারে না।

সার্বিক দিক বিবেচনায় তৃতীয় শক্তি দেশের জন্য ক্ষতি হলেও রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতায় রাজনৈতিক সঙ্কটের কারণে সহিংস পরিস্থিতিতেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে তৃতীয় শক্তি ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। আর তৃতীয় শক্তির উদ্ভবের পেছনে বিদেশিদের এক ধরনের হস্তক্ষেপ বরাবরই ছিল। আমরা যদি সাম্প্রতিককালে থাইল্যান্ড, মিশরের দিকে লক্ষ্য করি তবে এমনটিই দেখতে পাই।

ইতোমধ্যে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশ  বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তা উন্নতির জন্য দেশের সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে শান্তি মিশনে সেনাবাহিনীর অনেক সদস্য কর্মরত রয়েছেন, ফলে সেনাবাহিনী নিজেদের স্বার্থেই রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার সম্ভাবনা নেই। তবে এখানে প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ২০০৭ সালের ওয়ান ইলিভেন হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের ইঙ্গিতেই। যা পরবর্তীতে মার্কিন গোপন দলিল থেকেই জানা গেছে।

আর এমনটি ঘটলে হাসিনা-খালেদা কারো জন্য শুভকর হবে না। বরং তাদের ভুলের খেসারত গোটা জাতিকে দিতে হবে। তাই আমাদের রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান রাখবো, অবিলম্বে জনগণের আকাঙ্ক্ষা এবং দেশের সুশীলসমাজ-বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন মহলের সংলাপের আহ্বানকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সঙ্কট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। অন্যথা এ ধরনের অঘটন ঘটলে কোনো পক্ষেরই যে লাভ হবে না তা আমরা অতীত থেকেই শিক্ষা নিতে পারি। বরং এর জন্য জাতিকে দীর্ঘ সময় খেসারত দিতে হয়। যেমনটি দিতে হয়েছিল স্বৈরশাসক এরশাদের ৮ বছরে।

তাই দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে হলে শত রাজনৈতিক মতবিরোধের মধ্যেও কিছু মৌলিক প্রশ্নে সব পক্ষকে একমত হতে হবে। তবেই জাতির বৃহত্তর স্বার্থ সংরক্ষিত হবে।

সবশেষে বলবো- দুটি পক্ষই শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে জিম্মি করে রাষ্ট্র ক্ষমতা ভোগ করাই তাদের মূল লক্ষ্য। ক্ষমতার মসনদ দখলের এই দ্বন্দ্ব থেকে সহজে বের হয়ে দেশপ্রেম নিয়ে জনসাধারণের কল্যাণে শাসন কার্য পরিচালনার জনগণের এমন প্রত্যাশা দৈববশত আকাঙ্ক্ষা ছাড়া আর কিছুই নয়। ফলে ক্ষমতার এই দ্বন্দ্ব কোনদিকে গড়ায় তা দেখতে আরো কিছুসময় অপেক্ষা করতে হবে আমাদেরকে।

  •