আগামী নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়াই “বড় ফ্যাক্টর”

প্রকাশিত: ১২:২৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৭

আগামী নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়াই “বড় ফ্যাক্টর”

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত প্রধান রাজনৈতিক বিরোধীদল বিএনপিকে মামলা-হামলা দিয়ে এবং রাজপথে মিছিল করতে না দেয়াসহ সকল বিষয়ে চাপে রেখে নির্বাচনে আনতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। শুধু তাই নয়, বিএনপির বেশ কিছু নেতানেত্রীকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায়। এক্ষেত্রে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বড় টার্গেট করা হয়েছে বলে দাবি বিএনপির নেতাদের।

অবশ্য বিএনপি নেতাদের এমন দাবি উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে। দৃশ্যত সরকারের মোটিভ সেদিকেই এগুচ্ছে। বিএনপি প্রধানের মামলা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে বিএনপিতে আশঙ্কা বাড়ছে। যেভাবে দুর্নীতির মামলা চলছে এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা মামলাগুলো সচল করা হচ্ছে তাতে দ্রুত সরকার তাকে সাজা দিতে চাইছে বলে দলের নেতারা আশঙ্কা করছেন। কয়েকটি মামলা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের ভাষ্যেও নতুন ইঙ্গিত মিলছে। কেননা, বেশ কিছুদিন আগে সরকারের মুখপাত্র তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছিলেন, রাজনৈতিকভাবে এই মুহূর্তে নির্বাচন অগ্রাধিকার নয়। অগ্রাধিকার হলো খালেদা জিয়ার মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে তার সাজার ব্যবস্থা করা।

এতে সহজেই অনুমেয় সরকার কোন পথে হাঁটছে। তবে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রেখে  আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। তারা যেকোনো মূল্যে সরকারের এহেন ষড়যন্ত্র রুখতে চায়।

ফলে আগামী নির্বাচনকে ঘিরে রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার আভাস মিলছে। দুপক্ষই অনঢ় অবস্থানে থেকে ক্ষমতায় যেতে চাইবে। আর এতেই সহিংস পরিস্থিতি রূপ নিতে পারে রাজনীতি। কেননা, বিএনপি আর ক্ষমতাসীনদের ফাঁকা মাঠে গোল করতে দিতে নারাজ। তারা যে কোনো মূল্যে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতা স্বাদ ভোগ করতে চায়।

এদিকে সামনের নির্বাচনকে ঘিরে সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তারা বিএনপিকে বর্তমান দুরবস্থা ও চাপের মধ্যে রেখেই আগামী নির্বাচনে আনতে চায়। সে জন্য কৌশল ঠিক করার কাজও চলছে।

গত নির্বাচনের আগে সরকারের পরিকল্পনার বিপরীতে বিএনপি ও তার জোটের দলগুলোর সামনে আন্দোলনসহ অন্য বিকল্প ছিল। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপিকে অন্য বিকল্প নিয়ে ভাবারও সুযোগ দেবে না সরকার।

সরকার ও আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রমতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বিএনপিকে নানাভাবে চাপে রাখার যে মনোভাব ছিল সরকারি দলে, সেটা এখনো আছে।

ক্ষমতাসীন দলের নেতারা মনে করছেন, সাংবিধানিক সব বাস্তবতা মেনে নির্বাচনে অংশ নেওয়া ছাড়া বিএনপির সামনে খুব একটা বিকল্পও নেই। কারণ, পরপর দুবার জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নিলে রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন বাতিল হওয়ার মতো আইনি জটিলতায় পড়বে বিএনপি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেন, সরকার পরিচালনায় ও রাজনীতিতে নানা উত্থান-পতন আসতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে বিএনপিকে শেখ হাসিনার সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। অবস্থা এমন দাঁড়াবে যে তাদের জন্য নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বাইরে কোনো বিকল্প থাকবে না। ওই নেতা আরো বলেন, বিএনপি ‘খর্ব শক্তি’ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও আওয়ামী লীগকে চ্যালেঞ্জে পড়তে হবে। এ জন্য নিজেদের ঘর গোছানো জরুরি। একই সঙ্গে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা বা ঐক্যের প্রক্রিয়ায় যেতে হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, তারা মনে করছেন, আগামী কিছুদিন বিএনপির রাজনীতি দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানের মামলাকে কেন্দ্র করেই ঘুরপাক খাবে। এমনকি আগামী নির্বাচনের আগেও তারা এ থেকে বের হতে পারবে না। ফলে তারা নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা সরকারবিরোধী কোনো ইস্যু নিয়ে মাঠ গরম করতে পারবে না। তারা রাজনৈতিক সমস্যা মীমাংসার জন্য কূটনীতিকদের দ্বারস্থ হতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে আসা এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যার কারণে আন্তর্জাতিকভাবে কোনো চাপের আশঙ্কা করছে না।

  •