শেরপুরে চলছে ঐতিহ্যের মাছের মেলা

প্রকাশিত: ৭:৫০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০১৭

শেরপুরে চলছে ঐতিহ্যের মাছের মেলা

সিলেট-মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ জেলার মিলনস্থল কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী শেরপুরে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা।

দেশ-বিদেশের হাজার হাজার মানুষের উৎসাহ ও উদ্দীপনায় এ মেলা বছরে একবার হলেও মেলাকে ঘিরে সাজ-সাজ রব পড়ে মাস কানেক আগ থেকে। এ মেলায় সস্তা দরে জিনিষপত্র পাওয়া যায় বলে দেশের বিভিন্ন জায়গা হতে ক্রেতারা এখানে আসেন।

জানাযায়,  সিলেট-মৌলভী বাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মিলনস্থল কুশিয়ারা নদীর তীর শেরপুরে এ মেলা প্রতিবছর হিন্দু সম্প্রদায়ের পৌষ সংক্রান্তিকে সামনে রেখে শুরু হয়। শেষ হয় ৩দিন পর। মূলত এই মিলন মেলার নাম মাছের মেলা হলেও বিভিন্ন ভৈজস ও গৃহস্থালী সামগ্রি কিনতে পাওয়া যায়।

এদিকে মেলাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর আয়োজকরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় প্রশাসনকে টাকার বিনিময়ে হাত করে উঠতি বয়সের মেয়ে এনে অশ্লীল নৃত্য (পুতুল নাচ) পরিবেশন করিয়ে থাকলেও এবার মৌলভীবাজার পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থেকে মেলাকে কেন্দ্র করে কোন প্রকার অসামাজিকতার আয়োজনের অলিখিত অনুমদি প্রদান না করায় এবার প্রথামবারের মতো অসামাজিকতা ছাড়াই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মেলাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার অসামাজিকতার আয়োজনের ব্যাপারে প্রশাসন সজাগ থাকায় মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের সকল উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এলাকার সচেতন মহল।

প্রায় ২ শত বছরের ঐতিহ্য এ মেলা সিলেটের সবচেয়ে বড় মেলা হিসাবে স্বীকৃতি পেয়ে আসছে। আগে সপ্তাহব্যাপী এ মেলা চলতো। কয়েক বছর যাবত নিরাপত্তার অভাবে তা সীমিত পরিসরে নিয়ে আসা হয়। এক সময় এ মেলা মনুমূখ বাজারে মনু নদীর তীরে বসতো। নদী ভাঙ্গন ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় শেরপুরের ব্রাক্ষ্মগ্রামের পাশে কুশিয়ারা নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হয়।

মাছের মেলাকে ঘিরে সিলেট-মৌলভী বাজার ও হবিগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী স্থান শেরপুর পরিনত হয় মানুষের মিলন মেলায়। পৌষ পার্বনে প্রতিটি হিন্দু পরিবারের বড় মাছ কেনার রেওয়াজ আছে। অন্য ধর্মালম্বিরাও মাছের মেলা থেকে মাছ কিনে হিন্দু বাড়িতে উপহার দেন।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট