ধর্মঘটে অচল শ্রীমঙ্গল, পরিস্থিতি থমথমে

প্রকাশিত: ১২:৪১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৬, ২০১৭

মৌলভীবাজার : বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের প্রতিবাদে শ্রীমঙ্গলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছে ব্যবসায়ীরা। দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। গাড়িও চলাচল করছে না। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

শুক্রবার ভোর ছয়টা থেকে এই পরিবহন ধর্মঘটে ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার মানুষ। বিশেষভাবে বিপাকে পড়েছেন কৃষক, কৃষিপণ্য বিপণনকারী এবং পর্যটকরা।

সকালে শহরে নতুন করে কোনা সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটলেও এক ধরনের আতঙ্ক রয়েছে। থমথমে পরিস্থিতিতে মানুষের চলাচলও কমে গেছে। শীত মৌসুমে চা বাগান অধ্যুষিত এই এলাকায় ঘুরতে আসা পর্যটকরা আছেন উব্দেগ উৎকণ্ঠায়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে শ্রীমঙ্গল শহরে বিজিবির এক সদস্যের সাথে কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এর জেরে শ্রমিক ও জনতার সংঘর্ষে দুই বিজিবি সদস্যসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। এদের মধ্যে চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের পানসী রেস্টুরেন্টের সামনে এ সংঘর্ষ হয়। এরপর থেকে এলাকার পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে। বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ সন্ধ্যার দিকে শ্রীমঙ্গল ৯ নং সেক্টর সদর দপ্তর থেকে বিজিবি সদস্যরা এসে নির্বিচারে দোকানপাট ভাঙচুর শুরু করে। এসময় ব্যবসায়ীদের ওপরও হামলা করে তারা।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুস শহীদ এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।

শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ লুৎফুর রহমান বলেন, হামলায় জড়িতদের বিচার, হামলাকারী বিজিবি সদস্যদের শ্রীমঙ্গল থেকে প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডেকেছে ব্যবসায়ীরা। ধর্মঘটে পৌর শহরের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তোফায়েল আহমদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংঘাতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাস দিয়েছেন।

সংঘর্ষের পরদিন সকালে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটেনি।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেছেন, ‘তারা (ব্যবসায়ীরা) ধর্মঘট পালন করছে। তবে কোনো ধরনের গোলযোগ ঘটেনি। পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে। আমরাও সতর্ক অবস্থায় আছি।’

দোকান পাট বন্ধের পাশাপাশি যান্ত্রিক যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এলাকায়। শ্রীমঙ্গল থেকে দূরপাল্লা বা স্বল্পপাল্লার কোনো যানবাহন চলাচল করতে দিচ্ছে না পরিবহন শ্রমিকরা। সকালে বাসস্ট্যান্ডে এসে ফিরে যেতে বাধ্য হয় যাত্রীদের। বিভিন্ন এলাকায় সড়কে জড়ো হয়ে তারা বিক্ষোভ করছেন।

মালামাল পরিবহন বন্ধ থাকায় শীতকালীন সবজি বা ফল চাষিসহ ক্ষুদ্রব্যবসায়ীরা আছেন বিপাকে। ধর্মঘট প্রত্যাহার না হলে তাদের পণ্য পচে যাওয়ার আশঙ্কা করছে তারা।

এই পরিস্থিতিতে শ্রীমঙ্গল ঘুরতে যাওয়া পর্যটকরা নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন। তারা রেস্টহাউজ বা হোটেলের বাইরে বের না হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। আর যাদের আজকের মধ্যে শ্রীমঙ্গল ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল, তাদের ভোগান্তি আরো বেশি। আজ যাদের এখানে আসার কথা তারাও আছেন অনিশ্চয়তায়।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট