২০ ঘণ্টার যুদ্ধেও নিভেনি আগুন, কর্তৃপক্ষের দাবি নিয়ন্ত্রণে

প্রকাশিত: ২:৪৫ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০১৭

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

টানা ২০ ঘণ্টার চেষ্টার পর গুলশান-১ নম্বরের ডিসিসি মার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে দাবি করেছে ফায়ার সার্ভিস। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার ঘোষণা দেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন) মেজর শাকিল নেওয়াজ।

সোমবার রাত আড়াইটায় আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনে পুড়ে গেছে মার্কেটের কয়েকশ’ দোকান। ধসে পড়েছে কাঁচাবাজারের বেশিরভাগ অংশ। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ২৪টি ইউনিট কাজ করে। তাদের সঙ্গে নৌ বাহিনীর অগ্নি নির্বাপক দল যোগ দেয়।

মেজর শাকিল নেওয়াজ বলেন, ‘আমরা কনফিডেন্ট, আগুন আমাদের আওতায় রয়েছে। আল্লাহ চাইলে আর বাড়তে পারবে না। ভেতরে ছোট ছোট আগুন রয়েছে, যাকে আমরা স্পট আগুন বলি। সেগুলো ছড়ানোর জন্য ডিএনসিসির মেয়র মহাদয়ের কাছে সরঞ্জম চেয়েছি, তিনি আশ্বস্ত করেছেন। সরঞ্জম পেলে আমরা কাজ শুরু করবো। তবে আগুন আর বাড়তে পারবে না।’

আগুন নিয়ন্ত্রণে বেশি সময় লাগার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মার্কেটে আগুন নিয়ন্ত্রণে কোনো ব্যবস্থা নেই। সাতশ মিটার দূর থেকে ঝিল, লেক থেকে পানি আনতে হচ্ছে। সেখানে সময় নষ্ট হচ্ছে।’

আগুন লাগানো হয়েছে, ব্যবসায়ীদের অভিযোগ

গুলশানের ডিসিসি মার্কেটের ভয়াবহ এই আগুন লাগানো হয়েছে বলে ব্যশবসায়ীদের অভিযোগ।

১২৯ নম্বর দোকানের মালিক মো. বাবু বলেন, ‘মার্কেট বিক্রি হয়েছে কয়েক বার। ভাঙতে না পেরে সিস্টেমে ফেলে দিয়েছে। রাতের অন্ধকারে কেউ আগুন দিয়েছে।’

ব্যাবসায়ী দেলোয়ার হোসেনের ছিল খেলনার দোকান। দুদিন আগে নতুন মাল তুলেছিলেন তিনি। দেলোয়ার বলেন, ‘একটা সুতাও বের করতে পারি নাই। সব জিনিসপত্র ছাই হয়ে গেছে। যারা মার্কেট ভাঙার ষড়যন্ত্র করছিল তারাই আগুন দিয়েছে। এই মার্কেটটা ঘিরে হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হত। সবার জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।’

অগ্নিকাণ্ড তদন্তে ফায়ার সার্ভিসের কমিটি

ডিএনসিসি মার্কেটের অগ্নিকাণ্ড তদন্তে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্ধনকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটি গঠন করা হয়। অন্য সদস্যরা হলেন, ঢাকা রেঞ্জের সহকারি পরিচালক (এডি) মাসুদুর রহমান, তেজগাঁও স্টেশনের যুগ্ম-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন, পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম ও ছানহারুল।

বুধবার থেকেই কমিটি তদন্ত কাজ শুরু করবে বলে মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমদ খান জানান।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

ডিসিসি মার্কেটের গুলশান চিকেন হাউজের স্বত্ত্বাধিকারী ব্যবসায়ী মো. পারভেজ বলেন, রাত দুইটায় আগুনের সূত্রপাত। খবর পেয়েই ছুটে আসি। তবে চোখের সামনে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কিছুই বের করতে পারিনি।

তিনি ফায়ার সার্ভিসের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের পানির ট্যাংকে পানি ছিল না। আর যে পানি আনা হয়েছিল তাও মাঠে ছড়িয়ে দেয়া হয়। আগুন নেভাতে তাদের কোনো তৎপরতা ছিল না।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পরিকল্পিত বলে অভিযোগ তুলে বলেন, ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা কোনোভাবেই আগুন নেভানোর জন্য যথেষ্ঠ ছিল না। এর উপর দীর্ঘদিন ধরে মার্কেটের ব্যবসায়ীদের দোকান ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছিল। যে কারণে সব কিছু মিলে এটা পরিকল্পিত ঘটনা ছাড়া আর কিছু নয়।

ব্যবসায়ীরা ফায়ার সার্ভিসের কাজে ধীরগতির অভিযোগ আনলেও অগ্নি নির্বাপক বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মার্কেটে অগ্নি নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না।

ধ্বংসাবশেষ সরাতে সেনাবাহিনীর সহায়তার আবেদন

ডিএনসিসি মার্কেটের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নিয়ে সেনাবাহিনীর যন্ত্রপাতি চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক।

দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত তা খতিয়ে দেখার আহ্বান

দুপুরে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক সাংবাদিকদের বলেন, এ অগ্নিকাণ্ড দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত নাশকতা- তা খতিয়ে দেখতে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি পুলিশ, দোকান মালিক ও স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের নিয়ে আলাদা একটি তদন্ত কমিটি করা উচিৎ।

ডিএনসিসি মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি বিএনপির

ঢাকা: রাজধানীর গুলশান-১ এর ডিএনসিসি মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে বিএনপি।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ দাবি করেন।

এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘ডিএনসিসি মার্কেটের ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় পাঁচ শতাধিক দোকান ভস্মীভূত এবং মার্কেটটি ভেঙে পড়ার ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও ব্যথিত হয়েছি। অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে ভুক্তভোগীদের প্রতি গভীর সমবেদনা, সহানুভূতি ও দুঃখ প্রকাশ করছি।’

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় যে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে তাতে দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীদের সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা আমার নেই।

অবিলম্বে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের কারণ অনুসন্ধানের জন্য সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন তিনি।

  •