দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত এমপি লিটন মারা গেছেন

প্রকাশিত: ২:০৩ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১, ২০১৭

গাইবান্ধা : দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিজ বাসভবনে গুরুতর আহত গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন মারা গেছেন।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে অজ্ঞাতনামা তিন যুবক একটি মোটরসাইকেলে করে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. বিমল চন্দ্ররায় এমপি লিটনের নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এমপির স্ত্রী খুরশিদ জাহান বলেন, সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে অজ্ঞাতনামা তিন যুবক একটি মোটরসাইকেলে করে সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গায় এমপি লিটনের বাড়িতে আসেন। এর মধ্যে একজন মোটরসাইকেলে বসে ছিলেন। বাকি দুজন বাড়িতে ঢোকেন। এ সময় তিনটি গুলির আওয়াজ পাওয়া যায়। এর পরপরই দুজন দ্রুত বাড়ি থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান।

ঘটনার পরপরই ছয়টা ৪৫ মিনিটে এমপিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এমপির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নেয়া হয়েছে। রংপুর মেডিকেলে পুলিশ-র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন।

এমপির লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার স্ত্রী খুরশিদ জাহান ও পরিবারের সদস্যরা। এমপি নিহতের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন দলের নেতাকর্মীরা। তারা খুনিদের শনাক্ত ও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লিটনের ডান হাতে দুটি ও বুকের ডান পাশে একটি গুলি লেগেছে।

সুন্দরগঞ্জের শিশু শাহাদাত হোসেন সৌরভকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলার আসামি ছিলেন মনজুরুল। বর্তমানে তিনি জামিনে ছিলেন।

২০১৫ সালের ২ অক্টোবর সকালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার গোপালচরণ গ্রামের বাড়ির পাশের সড়কে চাচার সঙ্গে হাঁটতে বের হয় শিশু শাহাদাত। তখন সে মনজুরুলের গুলিতে আহত হয়। এই ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক আন্দোলন হয়।

৩ অক্টোবর রাতে শাহাদাতের বাবা সাজু মিয়া হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর জখমের অভিযোগে সাংসদ মনজুরুলের বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ওই দিনই সন্ধ্যায় লিটন তার আত্মীয়ের মাধ্যমে দুইটি অস্ত্র থানায় জমা দেন।

৬ অক্টোবর রাতে বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে উপজেলার উত্তর শাহবাজ গ্রামের হাফিজার রহমান মণ্ডল বাদী হয়ে লিটনকে প্রধান আসামি করে মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে একই থানায় আরেকটি মামলা করেন। ১৪ অক্টোবর রাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। পরে তিনি জামিন পান।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট