জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে

প্রকাশিত: ১:৫০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৬

আজ বুধবার সারাদেশে সকাল ৯টায় শুরু হয়েছে জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ, চলবে দুপুর ২টা পর্যন্ত।

পার্বত্য জেলা বাদে দেশের ৬১টি জেলায় এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তবে ভোলা ও ফেনী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদে সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায়, ওই দুই জেলায়ও ভোটগ্রহণ হবে না। এর ফলে ভোট হবে বাকি ৫৯ জেলায়। ইলেকটোরাল কলেজ পদ্ধতিতে স্থানীয় সরকারের এই প্রতিষ্ঠানটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে নির্দলীয়ভাবে।

দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ব্যাপক টাকা ছড়াছড়ি ও সরকার দলের এমপিদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় সুবিধাভোগী সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা তা আমলে নেননি। মঙ্গলবার রাতে অন্তত দুই ডজন সংসদ সদস্য এলাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে আচরণ বিধি অনুযায়ী নির্বাচনের ৩২ ঘণ্টা আগে প্রচার-প্রচারণা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মঙ্গলবার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে ভোট চাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নির্বাচনে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ২১জন চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ১৬৬জন ও সংরক্ষিত সদস্য ৬৯জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকিগুলোতে আজ ভোটগ্রহণ করা হবে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান এবং সদস্য পদে সবমিলিয়ে প্রার্থী সংখ্যা ৩,৯৩৮জন। মোট ভোটার সংখ্যা ৬৩,১৪৩জন।

আইন অনুযায়ী, স্থানীয় সরকারভুক্ত প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এ নির্বাচনের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এ নির্বাচনে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত এবং একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। বেশিরভাগ প্রার্থী রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কাও রয়েছে। বিএনপি, জাতীয় পার্টি অংশ নেয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইসির নির্দেশনা সত্ত্বেও নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করছেন অনেক সংসদ সদস্য। ভোটের আগের দিনও পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যেই ভোট চেয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কেউ-কেউ নানা মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চালায়েছেন।

জানা গেছে সরকার দলের সোলায়মান হক, একেএমএ আউয়াল, ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, মাহবুবুর রহমান তালুকদার, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস, আয়েন উদ্দীন, গোলাম রাব্বানী, আব্দুল ওয়াদুদ, মিজানুর রহমান মিজান, মুস্তফা রশিদী সুজা, অ্যাডভোকেট নুরুল হক, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, মুহিবুর রহমান মানিক, ফরিদুল হক খান দুলাল, মো. রেজাউল করিম হীরাসহ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য এলাকায় অবস্থান করেন।

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধঃ

জেলা পরিষদ নির্বাচনে গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে ভোটকেন্দ্রে মোবাইলসহ সব ধরনের ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ নির্বাচনের বিষয়ে মঙ্গলবার ইসি সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচনে আমরা ব্যতিক্রমী কিছু সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। ভোটকেন্দ্রে মোবাইল বা ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস, যার মাধ্যমে ব্যালট পেপার স্ক্যান করা যায়, এমন কিছু নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।’

তিনি বলেন, ‘এমন একটা আশঙ্কা আছে যে, ভোটদানের গোপনীয়তা ভঙ্গ হতে পারে। কেউ হয়তো প্রমাণের জন্য ব্যালট পেপারের চিহ্ন মোবাইলে ছবি ধারণ করতে পারেন। এ জন্য কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কোনো ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস ভোটকেন্দ্রে নেওয়া যাবে না।

ভোটার ও কেন্দ্র

জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, সাধারণ ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার ৯৩৮জন। তবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় এ সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ২৭১জন। প্রার্থিতা প্রত্যাহার, মনোনয়নপত্রে ক্রটি ও বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে কমেছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা। এ নির্বাচনে ২১জন চেয়ারম্যান, ১৬৬জন সাধারণ সদস্য ও ৬৯জন সংরক্ষিত সদস্য পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে মূলত মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। অন্তত ২২টি জেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে বলে জানা গেছে।

৬১ জেলায় মোট ভোটার ৬৩ হাজার ১৪৩ জন, এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪৮ হাজার ৩৪৩জন এবং মহিলা ভোটার ১৪ হাজার ৮০০জন। ভোটকেন্দ্র ৯১৫টি ও ভোটকক্ষ ১ হাজার ৮৩০টি। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

তিন স্তরের নিরাপত্তায় ২৩ হাজার ফোর্স

জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের পাহারায় থাকবেন ২০জন পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান, ব্যাটালিয়ান আনসার ও আনসার ভিডিপির সদস্য। কেন্দ্রের বাইরে স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে বিজিবি ও র‌্যাব। এছাড়া প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের বাইরে পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে ১টি মোবাইল বা স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং র‌্যাবের ১টি করে মোবাইল বা স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। মোবাইল ফোর্সের একটি দল ভোটকেন্দ্রের আশেপাশের এলাকায় নিবিড় টহল দেবে।

এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের জন্য এক প্লাটুন বিজিবি বা কোস্টগার্ড থাকবে। নির্বাচনে প্রতিটি জেলায় সর্বনিম্ন এক প্লাটুন থেকে সর্বোচ্চ ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকছে। এছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন।

  •