জঙ্গি আস্তানায় উদ্ধার অভিযান শেষ : ১৭ গ্রেনেড, ৩টি পিস্তলসহ কিশোরের লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত: ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৬

রাজধানীর আশকোনার ‘সূর্য ভিলা’ নামের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ১৭টি তাজা গ্রেনেড উদ্ধার করেছে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট। এছাড়াও ঘরের মেঝেতে এক কিশোরের লাশ, ৩টি নাইন এমএম পিস্তল, নগদ ১২ লাখ টাকাসহ বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

মনিরুল ইসলাম জানান, রবিবার সন্ধ্যায় প্রাথমিকভাবে উদ্ধার অভিযান শেষ করা হয়েছে। গতকালের দুটিসহ মোট ১৯টি তাজা গ্রেনেড উদ্ধার করেছে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

নিহত কিশোরের লাশ ঢাকা মেডিকেলে রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

শ্বাসরুদ্ধকর ১৬ ঘণ্টার জঙ্গিবিরোধী এ অভিযান শনিবার শেষ হলেও ওই বাড়িতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য তাজা গ্রেনেড, বোমা, অস্ত্র ও রাসায়নিক পদার্থ নিষ্ক্রিয় করার জন্য রবিবার সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে আসে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট।

সকাল সোয়া ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসকর্মী, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ও সিআইডির ক্রাইমসিন বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। তবে ঘরের ভেতর প্রচণ্ড গ্যাস থাকায় তারা বাধাগ্রস্ত হন। পরে ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা দুটি স্মোকিং ইজেকটর নিয়ে ঘরের ভেতরের গ্যাস বের করার কাজ শুরু করে। এতে ঘরের ভেতর এক প্রান্ত দিয়ে ভালো বাতাস ঢোকানো এবং অন্য প্রান্ত দিয়ে দূষিত বাতাস বের করে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

উত্তরা ফায়ার স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, গতকাল শনিবার অভিযান চলাকালে ছোড়া গ্যাস ও গ্রেনেড বিস্ফোরণের ঝাঁজ ঘরটিতে জমেছিল। গ্যাস বের করার কাজ আপাতত শেষ। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট এখনো ঘটনাস্থলে আছে।

উল্লেখ্য, শনিবার রাজধানীর পূর্ব আশকোনার জঙ্গি আস্তানায় পুলিশি অভিযানের সময় আত্মঘাতী গ্রেনেড বিস্ফোরণ ও গুলিতে দু’জন নিহত হয়।

শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত ১৭ ঘণ্টার এ অভিযানে আত্মসমর্পণ করে দুই শিশু সন্তানসহ দুই নারী। তারা হচ্ছে- সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া মেজর জাহিদ ওরফে মুরাদের স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলা ও তার সন্তান (নাম অজ্ঞাত)। আরেকজন হচ্ছে জঙ্গি মুসার স্ত্রী তৃষ্ণা ও তার সন্তান (নাম অজ্ঞাত)।

১৭ ঘণ্টা অভিযানের পর শনিবার বিকাল ৫টায় সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। সন্ধ্যায় নিহত নারী জঙ্গির লাশ উদ্ধার করে ঢামেক মর্গে পাঠানো হলেও ভবনের ভেতরে বিস্ফোরক থাকায় আদরের লাশ উদ্ধার করা হয়নি।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট