ছাত্রলীগ নেতা পিযুষ কান্তির বিরুদ্ধে হয়রানীর অভিযোগ

প্রকাশিত: ৯:১৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৬

ছাত্রলীগ নেতা পিযুষ কান্তির দলে যোগ না দেওয়ায় হয়রানীর শিকার হয়েছেন ছাত্রলীগ কর্মী হারুনুর রশীদ। শনিবার দুপুর ২টায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে হারুনুর রশীদ বলেন, আমি সিলেটের একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগে অনার্স শেষ করে আমার এলাকা হবিগঞ্জ জজকোর্টে একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসাবে কাজ করছি। আমার চাচাত বোনের বিয়ে উপলক্ষে আমি গত ১৯ ডিসেম্বর আমার কিছু ব্যক্তিগত কেনাকাটার জন্য সিলেট আসি এবং আমার মামা মাওলানা বদিউজ্জমানের লালাদিঘির পাড়স্থ বাসায় উঠি। এদিন রাতে নগরীর জিন্তাবাজারের কানিজ প্লাজায় অবস্থিত গোল্ডেন হ্যান্ড শপ থেকে টি শার্ট ও ১টি প্যান্ট কিনি এবং প্যান্টের মুড়ি কাটানোর জন্য কাজি ম্যানশনে তিন তলায় একটি দর্জির দোকানে দিয়ে আসি। পরদিন ২০ ডিসেম্বর বিকাল ৩টার দিকে আমি ও আমার মামাত ভাই ফজলে রাব্বি মারুফকে সাথে নিয়ে কাজী ম্যানশন মার্কেটে যাই প্যান্ট আনার জন্য। কাজী ম্যানশন মার্কেটে আমাদের কাজ শেষ করতে প্রায় ৪০মিনিট সময় লাগে । কাজ শেষ করে মার্কেট থেকে বের হয়ে মেইন রোডে আসামাত্র পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী এই শহরের কুখ্যাত সন্ত্রাসী পিযুষ কান্তি দের নেতৃত্বে ও হুকুমে হুজাইল আহমেদ বাপ্পি, জামিল আহমেদ, তানভির রেজা, মুনিম, নাবিদ ও অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশিয় অস্ত্র স্বস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের উপর অতর্কীত আক্রমন করে। পিযুষ কান্তি দে তার হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পেটে তাক করলে, নাবিদ সালেহ তার হাতে থাকা লোহার পাইপ দিয়ে আমার পিঠে আঘাত করলে আমি রাস্তায় পরে যাই। পিযুষ কান্তি দের হুকুমে হজাইল আহমেদ বাপ্পি তার হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে আমার মামাত ভাই ফজলে রাব্বি মারুফের বুকের বাম পাশে প্রানে মারার জন্য তাক করে ধরা মাত্র তানভির রেজা, জামিল, মুনিম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা আমাদেরকে মারধর করে ও জোরপূর্বক ২টি সিএনজি তে তোলে আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পিযুষ কান্তি দের আস্তানায় একটি টর্চার সেলে নিয়ে আসে। তিনি আরো বলেন, ওই সময় আমাদের সুরচিৎকারে আসেপাশের লোকজন আমাদের বাঁচাতে আসতে চাইলে পিযুষ কান্তি দে তার সাথে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখায়। আস্তানায় আনার পর পিযুষ কান্তি দের হুকুমে বাপ্পি ও জামিল আমার সাথে থাকা আই ফোন ৫ যার নাম্বার(০১৬১৯-১৮২৫১২) যার আনুমানিক মূল্য ৩৫,০০০/- টাকা এবং আমার মানিবেগে নগদ ২৫৮০ টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। তানভির ও মুনিম আমার মামাত ভাইয়ের সাথে থাকা সামসাং গ্যালাক্সি জে৭ ১৬ এডিসন যার নাম্বার (০১৭১২-৩৭৪৩৩৫) যার মূল্য ২২৯৯০ টাকা ও নগদ ১৩২০ টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। পিযুষ কান্তি দে আনুমানিক বিকাল ৪টার দিকে আমার অন্য একটি নরমাল মোবাইল থেকে যার নাম্বার (০১৭২৭-৯২৯৬২৬) আমার চাচাত ভাই সাফি আহমেদ এর মোবাইল নাম্বারে (০১৭০৪-৯০৫৯৩৯) কল দিয়ে আমাদের মুক্তিপন বাবদ দুই লক্ষ টাকা দাবি করে। অন্যথায় আমাদেরকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি প্রদান করে। তখন আমার ভাই আমার ব্যক্তিগত বিকাশ নাম্বারে (০১৭২৭-৯২৯৬২৬) মুক্তিপন বাবদ দশ হাজার টাকা তাৎক্ষনিক পাঠান । জামিল আমার বিকাশ নাম্বার থেকে তার ব্যক্তিগত নাম্বারে (০১৭১৮- ২৫০০৮৯) ৯০০ টাকা সেন্ড মানি করে এবং আরেকটি এজেন্ট নাম্বারে (০১৭৮৭-৪৮৫৫৩৬) মুক্তিপনের ৯৮০০ টাকা ক্যাশ আউট করে। হুজাইল আহমদ বাপ্পি আমার ভাইকে মেরে তার ইসলামী ব্যাংক এর ডেবিট কার্ড ছিনিয়ে নেয় এবং গোপন পিন নাম্বার জোরপূর্বক জেনে নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের বুথ থেকে ৭০০০/- টাকা উত্তোলন করে । আমার ও আমাদের পরিবার মুক্তিপনের আর কোন টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা আমাদেরকে কিলঘুষি ও লোহার রড় দ্বারা পিটিয়ে জখম করে ও আমাদের প্রানে মেরে লাশ গুম করার হুমকি প্রদান করে। পরবর্তীতে পিযুস কান্তিদের নির্দেশে বাপ্পি ও জামিল তাদের সাথে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র আমাদের হাতে ধরিয়ে তাদের মোবাইল ফোনে ছবি তোলে রাখে। আনুমানিক রাত ১২টার দিকে তারা আমাদেরকে একটি রুমে আটকে রেখে চলে গেলে আমরা দরজা ভেঙ্গে পলিয়ে আসি।
এ ঘটনায় আমরা কতোয়ালী মডেল থানায় নিজে বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করি। মামলা নং ২৪/৩৯৭। এ সময় তিনি হয়রানী থেকে তার ও পরিবারে সহযোগিতা কামনা করেন । সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- হারুনুর রশীদের পিতা আব্দুল ওয়াহাব, বড় ভাই মামুনুর রশীদ, ফজলে রাব্বী মারুফ, সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক সুবায়েব আহমদ সুহেল, কামরুল ইসলাম, উত্তম কর, সৈয়দ ফয়েজ আহমদ প্রমুখ ।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট