গণনা চলছে, ফলাফলের অপেক্ষা

প্রকাশিত: ৫:৫৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২২, ২০১৬

নারয়ণগঞ্জ : শংকা আর ভয় থাকলেও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। তবে কোনো কোনো ভোট কেন্দ্রে ধীর গতিতে ভোট গ্রহণের অভিযোগ ছিল। এখন চলছে গণনা।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে চলে ভোটগ্রহণ। প্রায় ৫ লাখ ভোটারের ভোটগ্রহণের এ বিশাল কর্মযজ্ঞে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

এতে প্রধান দু’দলের প্রার্থী, রিটার্নিং কর্মকর্তা, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সন্তুষ্ট ভোটাররাও।

শান্তিপূর্ণ এ নির্বাচনে ভোট দিতে পেরে ভালো অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ভোটাররা। এসময় তাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। কম যাননি প্রবীণরাও। ছেলের কাঁধে চড়ে ১১০ বছর বয়সী ভোটারও এসেছেন ভোট কেন্দ্রে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বাবার কবর জিয়ারত করে নিজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। সকাল ৯টায় শহরের মাসদাইর পৌর কবরস্থানে প্রয়াত বাবা আলী আহম্মদ চুনকার কবর জিয়ারত করে তিনি। এরপর সাড়ে নয়টায় ১৬নং ওয়ার্ডের দেওভোগ শিশুবাগ স্কুল কেন্দ্রে নিজের ভোট দেন।

সকাল সোয়া ৮টার দিকে নগরীর ১৩নং ওয়ার্ডের মাসদাইরের আদর্শ স্কুল ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোট দেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।

২টা ৪০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ বার একাডেমি কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। এসময় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী তার সঙ্গে ছিলেন। তারা নৌকার পক্ষে স্লোগান দেন। এসময় তিনি বলেন, আশানুরূপভাবে আমরা বলতে পারি, আমরা জয়লাভ করব।

শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রমাণ করেছে, প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়াই দলের স্বার্থে, শেখ হাসিনার স্বার্থে কিভাবে ভোট দিতে হয়। আমি আশা করি, জনগণ শান্তির পক্ষে ভোট দেবে। নৌকার জয় হবে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জীবনে প্রথমবারের মত ভোটাধিকার প্রয়োগ করে এক ভোটার বলেন, ‘ভোটে মারামারি হয়। টিভিতে ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ছিনতাই দেখেছি। এজন্য ভোট নিয়ে একটা ভীতি ছিল। কিন্তু বাস্তবে জীবনের প্রথম ভোট দিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরছি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারায় ভালো লাগছে।’

দলীয়ভাবে ও দলীয় প্রতীকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনেই প্রথম ভোট হলো। এর আগে সব সিটি করপোরেশনে দলনিরপেক্ষ ভোট হয়েছে।

দলীয় প্রতীকে হওয়া নির্বাচনগুলো নিয়ে একের পর এক অভিযোগ ওঠার মধ্যেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। গত ২৪ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অভিযোগ ওঠেনি। প্রার্থীদের মধ্যে একে অপরকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনাও ছিল কম।

দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে মোট ২০১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মেয়র পদে লড়াই করেন সাতজন। যদিও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী কামাল প্রধান ও কল্যাণ পার্টির রাশেদ ফেরদৌস বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যান।

অন্য তিন প্রার্থী হলেন- বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মাহবুবুর রহমান ইসমাইল (কোদাল), ইসলামী আন্দোলনের মাসুম বিল্লাহ (হাতপাখা) ও ইসলামী ঐক্যজোটের ইজহারুল হক (মিনার)।

২৭ ওয়ার্ডে ২৭টি কাউন্সিলর পদে প্রার্থী ১৫৬ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ৯টি পদে ৩৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট