নাসিক নির্বাচন ।। জামায়াত-জাপার ভোটে পাল্টে যেতে পারে হিসাব নিকাশ

প্রকাশিত: ৪:০৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৬

নারায়ণগঞ্জ : পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা ও নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন কেমন হবে? তার অনেক কিছুই নির্ভর করছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের উপর। ফলে এ নির্বাচনের গুরুত্ব বহুলাংশেই বেশী। এছাড়াও এ নির্বাচন বর্তমান সরকারের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে দীর্ঘ ১৫ বছর পর নারায়ণগঞ্জে ‘নৌকা’ ও ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের লড়াই নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটারদের মাঝে দেখা যাচ্ছে বাড়তি উৎসাহ ও উদ্দিপনা। সেই সাথে চলছে হিসাব নিকাশের পালাও।

অকেই মনে করছেন এই নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যক্তি ইমেজ থেকে দলীয় প্রতীকই বহুলাংশে গুরুত্ব বহন করছে। এ কারণে নির্বাচনী হিসাবটা একটু অন্যরকম হতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে, ক্ষমতাসীনদের প্রভাবমুক্ত, সুষ্ঠ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এখানকার নির্বাচনী ফলাফলে ভিন্নতা আশা করাটা উড়িয়ে দেয়ার মতো নয় বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।

অনেকের মতে, রাজনীতিতে শেষ বলে কোন কথা নেই। ফলে রাজনৈতিক হিসাব নিকাশ যে কোন সময় ‘গণেশ উল্টে’ও যেতে পারে, পাল্টে যেতে পারে ‘পাশার দান’ বিগত দিনে আইভী মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। এ ব্যাপারে তার সুখ্যাতিও রয়েছে। যার ফলে এবারের নির্বাচেন তিনিই জয়ী হতে পারেন বলে কেউ কেউ যুক্তি তুলে নিজ নিজ মতামত ব্যক্ত করেন। তবে, এমন যুক্তির বিরুদ্ধেও পাল্টা যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন অনেকে।

তারা বরিশাল সিটি নির্বাচনে অওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরণের উদ্ধৃতি টেনে বলেন, হিরণ মেয়র থাকাকালীন সময়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনে যথেষ্ট পরিমাণের উন্নয়ন কাজ করেন। তাছাড়া ব্যক্তি ইমেজের দিক দিয়েও হিরণ ছিলো সার্বজনীন। এর ফলে ধারণা করা হয়েছিলো হিরণই নির্বাচিত হবেন। কিন্তু, সরকারি প্রভাবমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় সেখানে বিএনপি তথা ১৮ দলীয় জোট প্রার্থী আহসান হাবিব কামালের কাছে তিনি পারাজিত হন। যার ফলে এটুকুই বোঝা যায় যে, উন্নয়নের মাপকাঠিতে নির্বাচনী জয়-পরাজয় সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে না।

অপরদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশ নির্বাচনকেও কেউ কেউ উদাহরণ হিসেবে বেছে নিয়ে বলেন, গাজীপুরকে বলা হয় দ্বিতীয় ফরিদপুর। এ জেলা আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। তারপরও এখানে বিএনপি তথা ১৮ দলীয় জোট প্রার্থী অধ্যাপক এম এ মান্নানের কাছে ধরাশায়ী হন আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দলীয় জোট প্রার্থী আজমত উল্লাহ খান। এ নির্বাচনও সরকারের প্রভাবমুক্ত ছিলো।

এছাড়াও সিলেট, খুলনা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও জয়ী হয়েছিলেন বিএনপি প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তবে ব্যতিক্রম ছিলো ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। এ নির্বাচন সুষ্ঠ নিরপেক্ষ নয় দাবী করে ভোটের দিন দুপুরের আগেই নির্বাচন বয়কট করে সরে আসেন বিএনপির দুই প্রার্থী।

এদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ক্ষেত্রেও যদি বরিশাল, গাজীপুরের ছাঁয়া পরে তবে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কেনো না,বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তথা ‘নৌকা’ ও ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের গ্রহণযোগ্যতা কারো থেকে কোন অংশে কম নয়। সে ক্ষেত্রে প্রভাবমুক্ত নির্বাচন হলে ফলাফলে ভিন্নতা আসতেই পারে।

এছাড়াও এখানে দলীয় কোন্দল একটি বড় ‘ফ্যাক্টর’ বলে মনে করছেন অনেকে। পাশাপাশি এখানকার জামায়াত ইসলামী ও জাতীয় পার্টির ভোটের হিসাবটাও পাল্টে দিতে পারে ভোটের সার্বিক ফলাফল।

এ ক্ষেত্রে অনেকেই বলছেন, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আইভী-শামীম ওসমানের মধ্যকার দ্বন্দ্বের কারণে তাদের নেতাকর্মীরাও দ্বিধা-বিভক্ত। যদিও নির্বাচনকে ঘিরে তাদের মধ্যে ঐক্যের একটা ব্যাপার দাঁড়িয়েছে। তারপরও অনেকে মনে করেন, এই ঐক্য উপরে উপরে হলেও ব্যালটের হিসেবে তা পাল্টে যেতে পারে।

তাদের মতে, সিটি নির্বাচনে শামীম ওসমানের বিশাল একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। যাদের মধ্যে বৃহত্তর একটি অংশই ব্যক্তি আইভীর ঘোর বিরোধী। ফলে এরা প্রকাশ্যে আইভী কিংবা নৌকার স্লোগান দিলেও ব্যালটে অন্তত আইভীর পক্ষ নিবেন না। কারণ, তারা চান না আইভী ফের ক্ষমতায়ন হোক।

এছাড়া এখানকার জামাত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মীর সাথেই দলমত নির্বিশেষে আইভীর সু-সম্পর্ক রয়েছে। তারপরও ব্যালটের ক্ষেত্রে তারা ‘নৌকা’ প্রতীকে সিল মারবে (?) বলেও মনে হয় না। কেননা, জামায়াত-শিবির ব্যক্তি আইভী বিরোধী না হলেও ‘নৌকা’ প্রতীকের ঘোর বিরোধী।

অপরদিকে,এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি নিজেদের প্রার্থী না দিলেও তারা এখন পর্যন্ত কোন দলকেই সমর্থন দেন নি। ফলে তাদের অবস্থা কী? তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে, জাতীয় পার্টির বৃহত্তর একটি অংশ আইভী বিরোধী বহু আগের থেকেই। ফলে ধারণা করা হচ্ছে এ দলের অনেক ভোটই আইভীর পক্ষে পরবে না।

এদিকে, ভোটের সার্বিক হিসাব যদি হয় এমন তবে, আইভীর জয় নিশ্চিত (!) তা কিন্তু বলা যায় না। সে ক্ষেত্রে সার্বিক হিসাব নিকাশে বলছে প্রকাশ্যে আইভী এগিয়ে থাকলেও গোপন ব্যালট কিন্তু সাখাওয়াতের কথাই বলছে।

তবে, সে ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবেই সরকারের প্রভাবমুক্ত,অবাধ নিরপেক্ষ একটি নির্বান অনুষ্ঠিত হতে হবে। আর এ নির্বাচনটি ঢাকার মতো হবে নাকি বরিশাল গাজীপুরের মতো হবে (?) সে বিষয়ে প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট