বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ২২ হাজার রোহিঙ্গা : জাতিসংঘ

প্রকাশিত: ২:৩৯ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০১৬

রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীদের চলমান ‘জাতিগত নির্মূল প্রক্রিয়া’র কারণে অন্তত ২২ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। গত শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ এই তথ্য দিয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে রাখাইনে ৯ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন অভিযানে অন্তত ৮৬ জন নিহত হয়েছে। জাতিসংঘের হিসেবে রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীদের দমন অভিযানের কারণে ঘর হারিয়েছে ৩০ হাজার মানুষ। সহিংসতা থেকে বাঁচতে তারা বাংলাদেশ সীমান্তে ছুটে আসছে। সর্বশেষ তথ্যে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ১ নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ৬ সপ্তাহেরও কম সময়ে ২২ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। শুক্রবার জাতিসংঘের মুখপাত্র পিয়েরে পিরন এক বিবৃতিতে এসব কথা জানান। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ এ সহিংসতার সূত্রপাতের আগে সেখানকার ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ত্রাণ সাহায্যের আওতায় ছিলেন। সরবারহ ব্যবস্থা সীমিত করে দেয়ায় ৯ অক্টোবরের পর থেকে সেখানকার মাত্র ২০ হাজার মানুষের কাছেই ত্রাণ সাহায্য পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। আর বাকি ১ লাখ ৩০ হাজার ব্যক্তির কাছে সাহায্য পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এর আগে ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) কক্সবাজার অফিসের প্রধান সংযুক্তা সাহানি জানিয়েছেন, মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে সহিংসতার ঘটনায় নতুন করে ২১ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে জাতিসংঘ ১০ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয়ার কথা বললেও মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে : এই সংখ্যা ২১ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ রোহিঙ্গা টেকনাফ নয়াপাড়া, লেদা শরণার্থী ক্যাম্প এবং উখিয়া কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। অন্যরা জেলার বিভিন্নস্থানে পরিচিতজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। সংযুক্তা সাহানি আরও বলেন, শুধু আইওএম নয়, কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের নিয়ে জাতিসংঘের ইউএনএইচসিআর, ডাব্লিউএফপি, ইউনিসেফের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা ছাড়াও বিভিন্ন এনজিও কাজ করছে। সব সংস্থার হিসাবে বর্তমানে নতুন করে ২১ হাজার রোহিঙ্গা শুধু কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে বলে আমরা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছি। তিনি বলেন, এখনও সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গারা আশ্রয়ের সন্ধানে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী সপ্তাহে এই সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। এদিকে রোহিঙ্গাদের কাছে মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর সুযোগ করে দিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ১৪টি দেশ। শুক্রবার মিয়ানমারে অবস্থিত ওই দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান। কূটনীতিকরা অভিযোগ করেন, সামরিক কর্মকর্তারা প্রায়ই সেখানে সাহায্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করছেন অথবা বিলম্বিত করছেন।
  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট