মানবাধিকার দিবসে খালেদা জিয়া ।। দেশ এখন বধ্যভূমি

প্রকাশিত: ১:৪৭ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০১৬

বাংলাদেশে এখন ভয়াবহ দুঃসময় বয়ে চলছে। ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পূর্বাপর বাংলাদেশকে বধ্যভূমিতে পরিণত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, বর্তমান অবৈধ ক্ষমতাসীন জোট সীমাহীন রক্তপাত ও বেপরোয়া নিপীড়ন-নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে জনগণের সকল গণতান্ত্রিক অধিকারকে হরণ করে নিয়েছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার মানবাধিকারের পরিপূরক। বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মানবাধিকার শূন্যের নিচে অবস্থান করছে। এদেশে শুধুমাত্র বিরোধীদলের নেতাকর্মীরাই শুধু নয়, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক, নারী, শিশুসহ কারোই কোন নিরাপত্তা নাই। এদের অধিকাংশই গুম, গুপ্তহত্যা এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হচ্ছেন। সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলেই বিরোধীদলের নেতাকর্মীরা ছাড়াও দল নিরপেক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষক, টকশো আলোচকদের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে এবং কাউকে কাউকে কারান্তরীণও করে রাখা হয়েছে। জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। : বেগম খালেদা জিয়া বলেন, জাতিসংঘ  ১৯৫০ সালে ১০ ডিসেম্বরকে ‘মানবাধিকার দিবস’ ঘোষণা করে। সেই থেকে প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর ‘মানবাধিকার দিবস’ পালিত হয়ে আসছে। এই দিনে আমি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মৌলিক মানবিক অধিকারহারা নির্যাতিত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি। যারা বাক, ব্যক্তি, চিন্তা, প্রার্থনা, মুদ্রণসহ নাগরিক স্বাধীনতার জন্য সোচ্চার হতে গিয়ে ক্ষমতাসীন স্বেচ্ছাচারী গোষ্ঠীর নৃশংস নিপীড়নে আত্মদান করেছেন তাদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। : তিনি বলেন, আজও বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে মানুষ একদলীয় স্বেচ্ছাচারী শাসন, গোষ্ঠী, বর্ণ ও জাতিগত সংঘাতে অবলীলায় খুন ও গুপ্তহত্যার শিকার হচ্ছে এবং অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাে র শিকার হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। জাতিসংঘের সর্বজনীন ঘোষণায় বলা হয়েছেÑবিশ্বের সব জাতির সকল মানুষের মানবাধিকার সংরক্ষণের নিশ্চয়তা থাকতে হবে। কিন্তু দেশে দেশে নিষ্ঠুর স্বৈরাচারী শাসকেরা জাতিসংঘ কর্তৃক মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণার নির্দেশনাগুলোকে তাচ্ছিল্য করে নিজ দেশের জনগণের ওপর চালিয়ে যাচ্ছে বর্বরোচিত আক্রমণ। তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র ক্ষমতাকে চিরস্থায়ীভাবে ধরে রাখার জন্য জনমতকে অগ্রাহ্য করতে হয়, আর সেজন্য এই সকল গণবিরোধী শাসকগোষ্ঠী জনগণের মানবাধিকারের তোয়াক্কা করে না। সুতরাং দুঃশাসনের অচলায়তন তৈরি করতে গিয়ে তারা প্রতিবাদী জনগণের ওপর নামিয়ে আনে পৈশাচিক উৎপীড়ন। যারা সত্য উচ্চারণ করতে চায় তারা রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজীবীসহ নগরিক সমাজের যেই হোকনা কেন, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয় এবং কারাবাস, শারীরিকভাবে নির্যাতনসহ জখম এবং হত্যারও শিকার হতে হয়। : বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, এ বছরের মানবাধিকার দিবসের স্লেøাগান হচ্ছেÑ‘বছরের ৩৬৫ দিনই মানবাধিকার দিবস’। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে মনে হয় ৩৬৫ দিনই এদেশের মানুষের মানবাধিকার হরণের দিবস। সুতরাং এই নৈরাজ্যকর দুঃশাসনের ছোবল থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের এই মুহূর্তে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। দেশের মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য জনগণের মিলিত কণ্ঠের আওয়াজ তুলে বর্তমান অপশাসনের অবসান ঘটাতে হবে। জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকার দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। : ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে অপর এক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে তা নজিরবিহীন। মানুষের জানমালের ন্যূনতম নিরাপত্তাও আজ চরম হুমকির সম্মুখীন। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষ পর্যায়ে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার একে অপরের পরিপূরক। যেহেতু এদেশে গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই সেহেতু মানবাধিকার পরিস্থিতি ভয়াবহ-সঙ্গিন। এদেশে বিরোধী দল-মত ও বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতাকে দমন করা হচ্ছে রক্তাক্ত পন্থায়। তিনি বলেন, গুম, খুন, জখম, অপহরণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যা এখন এদেশে অপরিহার্য করা হয়েছে রাষ্ট্রশক্তির দাপটে। সামাজিক ক্ষেত্রেও দুর্বৃত্তরা ক্ষমতাসীনদের প্রশ্রয় পেয়ে বেপরোয়া অপকর্মের দ্বারা একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। নারী-শিশু নির্যাতন বাংলাদেশে এখন চরম মাত্রা লাভ করেছে। মির্জা ফখরুল বলেন, জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশিদেরসহ বিশ্ববাসীকে আহ্বান জানাইÑআসুন, অধিকারহারা মানুষ ও মানবজাতির কল্যাণে সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা সুনিশ্চিত করতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।
  •