মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি গৃহকর্মীদের নিয়ে এইচআরডাব্লিউর উদ্বেগ

প্রকাশিত: ২:০৭ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০১৬

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থানরত বাংলাদেশি গৃহকর্মীদের সুরক্ষা বাড়াতে বাংলাদেশকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ)।

বৃহস্পতিবার সংগঠনটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কিভাবে বাংলাদেশি গৃহকর্মীদের কাজের সর্বোচ্চ সুযোগ নিশ্চিত করা যায় সে ব্যাপারে অবশ্যই উদ্যোগী হওয়া উচিত, তবে এর জন্য যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিতের বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।

বিদেশে অবস্থানরত কর্মীরা যাতে সর্বোচ্চ সুরক্ষা পায় তা নিশ্চিত করতে নিজ দেশের নিয়োগদাতা এজেন্সির ওপর নজরদারি বাড়ানো, কর্মীদেরকে অন্য দেশে কর্মরত অবস্থায় সুরক্ষা প্রদান এবং দুর্দশার সময় সহযোগিতা প্রদানের সুপারিশ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। আগামী ১০-১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এ অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষার ইস্যুটি নিয়ে কণ্ঠস্বর জোরালো করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের আইন এবং নীতিমালায় গৃহকর্মীদের ওপর অবিচার ও বঞ্চনার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয় না। পুরো ভূখণ্ডজুড়েই নিয়ন্ত্রণমূলক ‘কাফালা’ ব্যবস্থা, বিভিন্ন মাত্রায় চালু আছে যা অভিবাসী গৃহকর্মীর ভিসাকে তার নিয়োগদাতার সাথে যুক্ত করে ফেলে। এর আওতায় বর্তমান নিয়োগদাতা অত্যাচারী হওয়া সত্ত্বেও, তাদের অনুমতি ছাড়া, নতুন কোনো নিয়োগদাতার অধীনে কাজ নিতে পারে না ওই গৃহকর্মী। ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের পূর্বাঞ্চলীয় অনেকগুলো দেশ গৃহকর্মীদের শ্রম আইনের সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করে। যেসব দেশে শ্রমিকদের জন্য সুরক্ষামূলক কিছু নীতিমালা রয়েছে, সেখানেও খুব সীমিত সুরক্ষা দেওয়া হয়। কিছু কিছু নিয়োগদাতা তাদের গৃহকর্মীদের অধিকারকে সম্মান দেখিয়ে থাকলেও অনেক গৃহকর্মীই ভয়াবহ অবিচার ও বঞ্চনার মুখোমুখি হয়। এর মধ্যে আছে, শারীরিক নিপীড়ন, বেতন না দেওয়া এবং পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া যাতে তারা কাজ ছেড়ে যেতে না পারে।

বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর হিসেবমতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যে নারী গৃহকর্মী নিয়োগের হার বাড়িয়েছে, এবং সেই সাথে জর্ডান এবং সৌদি আরব এর সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও করেছে। লাখ লাখ বাংলাদেশি নারী মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছে। কেবল ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে ১ লাখ মানুষ কাজের জন্য অভিবাসী হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নিজেদের শ্রমিকদের অধিকার যথেষ্টভাবে নিশ্চিত করতে এবং নিম্ন মজুরির ইস্যুটির সুরাহা করতে বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়েছে।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে গৃহকর্মী পাঠায় এমন কয়েকটি এশীয় দেশ যেমন ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল, বিদেশে তাদের গৃহকর্মীদের ওপর বঞ্চনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে এবং তাদের সুরক্ষা ও বেতনের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ১০-১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এর আয়োজক বাংলাদেশ। এটি এমন এক সম্মেলন যেখানে বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের দেশের অভিবাসন নীতিমালাসংক্রান্ত বিষয় পরস্পরের সঙ্গে আদান-প্রদান করে। অথচ বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশ এখনও নিজেদের গৃহকর্মীদেরই সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেনি।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মধ্যপ্রাচ্য নারী অধিকার বিষয়ক গবেষক রত্না বেগম বলেন, বাংলাদেশ অভিবাসনের উপর একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনের আয়োজন করছে, যদিও দেশটির নিজেদের নাগরিকদের সুরক্ষার নিশ্চিত করার ব্যাপারে খারাপ নজির রয়েছে। বাংলাদেশের উচিত তার কর্মীদের জন্য সর্বোত্তম সুযোগ খোঁজা, কিন্তু তাদেরকে যথাযথ সুরক্ষা ছাড়া বাইরে পাঠিয়ে দেবার বিনিময়ে নয় সে সুযোগ খোঁজা যাবে না।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট