বাকশাল ও স্বৈরাচার এক হয়ে সব ধ্বংস করছে : খালেদা জিয়া

প্রকাশিত: ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৬, ২০১৬

৬ ডিসেম্বর, স্বৈরাচার পতন দিবস। ১৯৯০ সালের এই দিনে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনতার প্রতিবাদ, প্রতিরোধ আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতন হয়। সেদিন মুক্তি পায় গণতন্ত্র।

দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। তবে এরশাদের নেতৃত্বাধীন দল জাতীয় পার্টি এ দিবসটিকে ‘গণতন্ত্র দিবস’ হিসেবে পালন করে।

১৯৮২ সালের মার্চ মাসে রক্তপাতহীন এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর এরশাদ সরকার দেশের রাজনীতি ও সংস্কৃতি সর্বক্ষেত্রে গণবিরোধী ধারা প্রবর্তন করেন। রাজনৈতিক নেতারাও ব্যাপক নিপীড়নের শিকার হন।

১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচির মাধ্যমে এরশাদবিরোধী ঐক্যবদ্ধ গণ-আন্দোলনের সূচনা হয়। ঢাকা পলিটেকনিকের ছাত্র মনিরুজ্জামান হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করার প্রত্যয় ঘোষণা করে।

১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর হরতালের সময় নূর হোসেনকে স্বৈরাচার এরশাদের বাহিনী গুলি করে। নূর হোসেনের বুকে-পিঠে লেখা ছিল ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’।

অন্য দিকে ওই দিন সেনা ও পুলিশ বাহিনী আমিনুল হুদা টিটোকে হত্যার পর গুম করে। এ ঘটনায় সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এরশাদ হঠানোর আন্দোলনে নেমে পড়ে। এভাবে ঘটনাক্রমিক আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় এরশাদ ১৯৯০ সালের ৫ ডিসেম্বর পদত্যাগের ঘোষণা দেন। দীর্ঘ নয় বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর।

আজকের এই দিনে তিন জোটের রূপরেখার ভিত্তিতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিজয় অর্জিত হয়েছিল।

স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ৬ ডিসেম্বর জাতীয় ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৯০ সালের এ দিনে দীর্ঘ ৯ বছরের অগ্নিঝরা আন্দোলনের পর পতন ঘটেছিলো সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদের।

যে স্বৈরশাসক এরশাদ ‘৮২’র ২৪ মার্চ পেশাগত বিশ্বস্ততা ও শপথ ভেঙ্গে বন্দুকের নলের মুখে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সাংবিধানিক রাজনীতি স্তব্ধ করেছিল। যে সাংবিধানিক রাজনীতি ছিল বহুপাক্ষিক ও বহুদলীয়। যার পুনপ্রবর্তন করেছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

খালেদা জিয়া স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আত্মদানকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

তিনি বলেন, আমাদের গণতন্ত্র বার বার হোঁচট খেয়েছে। কিন্তু এদেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ সব বাধাকে অতিক্রম করে গণতন্ত্রের পথচলাকে নির্বিঘ্ন করেছে। শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র এখনো শংকা মুক্ত নয়। নিষ্ঠুর কর্তৃত্ববাদী একদলীয় শাসনের চরিত্রগুলো ক্রমশঃ ফুটে উঠছে বর্তমান শাসক গোষ্ঠির আচরণে।

বেগম জিয়া বলেন, ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচন করে আবারো সারা জাতিকে একদলীয় নিষ্ঠুর শাসনের শৃঙ্খলে বন্দী করে মানুষের নাগরিক স্বাধীনতাকে করা হয়েছে বিপন্ন। একদলীয় বাকশালী চেতনার দল ও আশির দশকের গণতন্ত্র হত্যাকারী স্বৈরাচার একত্রিত হয়ে দেশের সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্রমান্বয়ে ধংসস্তুপে পরিণত করছে।

এই অপশক্তিকে প্রতিহত করে গণতন্ত্রকে স্থায়ী রুপ দিতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আহবান জানান বেগম জিয়া।

পৃথক এক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের গণতন্ত্র আজো নামে বেনামে একদলীয় ফ্যাসিবাদের আক্রমনে আক্রান্ত। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তাদের নস্যাৎ করে দিতে হবে।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট