রাষ্ট্রীয় মদতে সাঁওতালদের হত্যা করা হয়েছে : বিএনপি মহাসচিব

প্রকাশিত: ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০১৬

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকলের নামে অধিগ্রহণ করা জমি থেকে সাঁওতালদেরকে উচ্ছেদের নামে সরকার গণহত্যা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, পুলিশ সরাসরি তাদেরকে গুলি করেছে। এটা গণগত্যা। একই অনুষ্ঠানে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী সন্ত্রাসী ও ছাত্রলীগের ভয়ে মা বোনেরা আজ আতঙ্কিত। কলেজের আয়ারাও তাদের হাতে এখন নিরাপদ নয়। : গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক আলোচনায় মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেলের মুক্তির দাবিতে এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবক দল। গত ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ আখ খামারের নামে অধিগ্রহণ করা জমিতে উচ্ছেদ অভিযানের সময় সাঁওতালদের সঙ্গে চিনিকলের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় প্রভাবশালী ও পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে তিনজন সাঁওতাল নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। পুলিশের উপস্থিতিতেই সেদিন লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয় শতাধিক বাড়িতে। এরপর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ট্রাক্টর দিয়ে মাটি সমান করে দিয়েছে। : ঘটনাটি সারাদেশে আলোড়ন তোলার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দলও এলাকা পরিদর্শন করেছে। তারা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান এবং সন্তানদের পড়ালেখার উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি উচ্ছেদ অভিযানের নামে কোনো অন্যায় হলে শাস্তি দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা। এর একদিন পর শিল্পসচিব মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে অবশ্য উচ্ছেদ অভিযানের নামে কোনো নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ওই অভিযানের ঘটনায় তিনজন মারা গেলেও এতে উচ্ছেদের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেছেন সচিব। সচিবের দাবি, যে দুই জন মারা গেছে তাদের একজন মারা গেছেন ধানক্ষেতে পরে আর অপরজন হাসপাতালে। বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করেন সচিব। তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গোবিন্দগঞ্জে যারা নিহত হয়েছেন তাদেরকে মারা হয়েছে গুলি করে।’ তিনি বলেন, সাঁওতালরা সবচেয়ে নিরীহ। তাদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। বাড়ি থেকে বের করে আগুন দিয়ে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কী অমানবিক! এটা গণহত্যার শামিল। : মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকারের আমলে কোনো মানুষ নিরাপদ নয়। কোনো ধর্মের লোকও নিরাপদ নয়। তিনি বলেন, আমরা একটি অসভ্য সরকারের আমলে বাস করছি। এরা দেশকে জঙ্গলে পরিণত করেছে। মানুষকে এদের হাত থেকে মুক্ত করতে হবে। নাসিরনগরে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও গাইবান্ধার সাঁওতালদের ওপর হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ জড়িত বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা। : মির্জা ফখরুল সরকারের নানা কর্মকান্ডের সমালোচনা করে বলেন, সরকারের চরিত্র হলো গ্রামের মোড়লদের মতো। কোনো জনপ্রিয়তা নেই। এদের কাজ হলো একজনকে অন্যজনের সঙ্গে লাগিয়ে দেয়। পরে মামলা করার পরামর্শ দেয়। এরপর সেখান থেকে কিছু টাকা পকেটে ভরে। সরকারও বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হওয়ায় মামলা-মোকদ্দমা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে মোকাবেলা করছে। : সরকারি দলের নেতা ও মন্ত্রীরা বিএনপিকে নিয়ে বিষোদগার করছে, মিথ্যা বলছে বলেও দাবি করেন দলটির মহাসচিব। এটাই তাদের প্রধান কাজ হয়ে গেছে। : তিনি বলেন, সরকার বলছে দেশে উন্নয়ন হচ্ছে, প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। হ্যাঁ প্রবৃদ্ধি বাড়ছে তবে তা আপনাদের দলের (আওয়ামী লীগ) নেতাদের। বিদেশে টাকা পাচার করা হচ্ছে, বিভিন্ন দেশে বাড়ি করছে। গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে মির্জা ফখরুল জানান, গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিনা বিচারে অথবা বিচার চলাকালে ১৫১ জনকে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের দলের অনেক নেতাকর্মী কারাগারে মারা যাচ্ছেন। এই হলো দেশের অবস্থা। তিনি সরকারকে দেশে রাজনৈতিক সংকট কাটাতে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করার পরামর্শ দেন। ফখরুল বলেন, আমরা আশা করব সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। আপনারা যেখানে আছেন সেখান থেকে নেমে পড়ুন। বিস্ফোরণের আগে সবার অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। : দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সংখ্যালঘুসহ সকল হামলায় আওয়ামী লীগের নেতারা জড়িত। হিন্দু মহাজোটের নেতারাও বলছেন তাদের জায়গাজমি দখল করেছে আওয়ামী লীগ। অথচ বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। রিজভী আহমেদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে যে সব মামলায় আসামি করে মাসে কয়েকবার আদালতে হাজির হতে হয় শেখ হাসিনাও সেসব মামলায় আসামি ছিলেন। গায়ের জোরে তিনি নাম কাটিয়ে এখন বড় বড় কথা বলছেন। : আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর সভাপতিত্বে বিএনপি নেতাদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন আবুল খায়ের ভুঁইয়া, আজিজুল বারী হেলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, ইয়াসিন আলী, গোলাম সরোয়ার, সাদরুজ্জামান, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, লিটন মাহমুদ প্রমুখ। : জাসাসে মিলাদ মাহফিল : নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থাÑজাসাসের উদ্যোগে জাসাসের সাবেক সভাপতি ও এফডিসির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক খ্যাতিমান অভিনেতা ওয়াসিমুল বারী রাজিবের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। সভাপতিত্ব করেন জাসাস সভাপতি এম এ মালেক। পরিচালনা করেন জাসাস ঢাকা মহানগর উত্তরের আহবায়ক ডা. আরিফুর রহমান মোল্লা। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাসাসের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম, আহসান উল্লাহ চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর শিকদার, নাহিন আহমেদ মমতাজী, সিরাজুল ইসলাম খান, অভিনেতা শিবা সানু, জাহাঙ্গীর আলম রিপন, সহ-সাধারণ সম্পাদক খালেদ এনাম মুন্না, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান চৌধুরী, সহ-দফতর সম্পাদক বিল্লাল হোসেন, জাসাস  কেন্দ্রীয় নেতা কেয়া চৌধুরী, শাহনাজ পারভীন লিপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আনোয়ার হোসেন, জাসাস নেতা দীন মোহাম্মদ দুলু, মজিবর রহমান, তারেক কবির, নজরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান প্রমুখ। : প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থাÑজাসাসকে গতিশীল ও শক্তিশালী করতে মরহুম ওয়াসিমুল বারী রাজিব নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করে গেছেন। তিনি শহীদ  প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নীতি ও আদর্শের প্রতি অবিচল আস্থাশীল থেকে জাসাসের সকল কর্মকান্ডে নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করতে এক গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। রিজভী আহমেদ বলেন, দেশে বর্তমানে যে অন্ধকারাচ্ছন্ন সময় অতিবাহিত হচ্ছে সেজন্য কবি, সাহিত্যিক, নাট্যশিল্পী তথা সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, যে উদ্যোগটি গ্রহণ করেছিলেন প্রয়াত অভিনেতা ওয়াসিমুল বারী রাজিব। বর্তমান সময়ে হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে মরহুম ওয়াসিমুল বারী রাজিবের মতো সাহসী ও নীতিবান সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের এগিয়ে আসা খুবই প্রয়োজন। তিনি মরহুম রাজিবের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
  •