৭ নভেম্বর নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ও অন্তরালের কিছু কথা

প্রকাশিত: ১:৫৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০১৬

ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান : ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর। ঘটনাবহুল ১৯৭৫’র এই দিনে জাতির ইতিহাস এক নতুন মোড় নেয়। ফলে নানা দিক থেকেই এ দিবসটি গুরুত্ববহ। ১৯৭৫’র আগস্ট থেকে নভেম্বরের রক্তক্ষয়ী ঘটনাবহুল দিনগুলোর কথা কমবেশি সবারই জানা, ফলে তা এখানে উল্লেখ করে পাঠকের বিরক্তি ঘটাতে চাই না।

একেবারে ছোটবেলার কথা, ফলে সেসময়কার ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করার মতোও আমার ঝুড়িতে তেমন কোনো কিছু নেই। তবে রাষ্ট্র-সমাজ ও শিক্ষা নিয়ে অধ্যয়ন করার ফলে গুরুজনদের কাছে থেকে অর্জিত ক্ষুদ্রজ্ঞানের আলোকে বর্তমান রাজনৈতিক বিতর্কের ঢামাঢোলের মধ্যে নিজের বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে ৭৫’র ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে দু’কলম লিখতে বসলাম।

তবে যে যাই বলুক না কেন, এ দিবসের প্রেক্ষাপটেও জাতির বিভক্তি স্পষ্ট। সাবেক রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমানের পক্ষের সমর্থকরা এদিনটিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে ঘটা করে পালন করে। যদিও বর্তমানে দুর্দিন, এরপরও তারা দিবসটি পালনে নানা কর্মসূচি নিয়েছে। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বাণীতে এ দিবসের চেতনায় সকল জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক শক্তিকে দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহবান জানিয়েছেন।

তাদের মতে, এদিন সিপাহী-জনতা সেনানিবাসের বন্দিদশা থেকে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করার মধ্য দিয়ে নস্যাৎ হয়ে যায় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী সব ষড়যন্ত্র। আধিপত্যবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসন থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ। এ বিবেচনায় বিএনপি ক্ষমতা থাকাকালে ৭ নভেম্বরে সরকারি ছুটি ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয়ভাবেই পালন করে দিবসটি।

এর বিপরীত মেরুতে আওয়ামী লীগ। তাদের কাছে এই দিনটি গভীর ষড়যন্ত্রের তথা মুক্তিযোদ্ধা সেনা হত্যার দিন। তাদের মতে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে একেবারে নিশ্চিহ্ন করতে প্রতিবিপ্লবের মাধ্যমে এদিনের আসল বিপ্লবকে হত্যা করা হয়েছিল। ফলে আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে সরকারি ছুটি বাতিল করে। পরে ওয়ান ইলিভেনের ফখরুদ্দীন সরকারও একই পথে হাঁটে। সেই ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত।

অবশ্য মহাজোটের শরীক দল জাসদ ‘সৈনিক-জনতার অভ্যুত্থান দিবস’হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে পালন করে আসছে। তাদের মতে, ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর থেকে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে ক্ষমতালিপ্সু অফিসারদের ক্ষমতা দখল-পুনর্দখলের জন্য পরস্পরবিরোধী অবস্থানের প্রেক্ষাপটে ইতিহাসের এ দিনে সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান ঘটেছিল। যদিও বর্তমানে ক্ষমতার অংশীদার হিসেবে তাদের কণ্ঠস্বর একটু ভিন্ন হয়েছে।

এত গেল দিবসের প্রেক্ষাপট ও বিতর্কের কথা। এবার আসি মূল বিষয়ে- নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আর বহু ত্যাগের বিনিময়েও যখন জাতির প্রত্যাশা পূরণ হলো না, তখন সর্বত্রই ক্ষোভের জন্ম নেয়। আর এই ক্ষোভে ঘি ঢালে তৎকালীন শাসকদের কর্মকাণ্ড। জানিনা কতটা সত্য, তবে ব্যাপক জনশ্রুতি রয়েছে ৭২-৭৫’র দুঃশাসনের ফল ছিল ৭৫’র ঘটনাপ্রবাহ। এর ধারাবাহিকতায় ৩ ও ৭ নভেম্বরের ঘটনা।

যদিও এর আগে শোনা যায়নি, তবে সাম্প্রতিককালে ক্ষমতাসীন দলের এমপি-মন্ত্রী আর নেতারা এসবের জন্য জিয়াউর রহমানকে দায়ী করেন। এমন কি তাকে বঙ্গবন্ধু হত্যার জন্যও দায়ি করা হয়। আসলে এর সত্যতা কতটুকু আর বর্তমানে তাদের ক্ষমতা অংশীদার জাসদ ও তখনকার সেকেন্ড ইন কমান্ডের ইনুদেরই বা কী ভূমিকা ছিল, আর জিয়াউর রহমানেরই বা কি ভূমিকা ছিল তা আলোচনার দাবি রাখে।

এক. প্রথমেই আসি মেজর জিয়া প্রসঙ্গে, ৭৫’র ওই সময়কালে সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন জেনারেল শফিউল্লাহ। আর মেজর জিয়াউর রহমান ছিলেন উপ-প্রধান। স্বাধীনতাযুদ্ধে বিশেষ অবদান আর পরবর্তীতে তার কর্মে সন্তুষ্ট হয়েই বঙ্গবন্ধু তাকে এ পদে আসীন করেন। এছাড়া ১৫ আগস্ট বিপ্লবের পর জেনারেল শফিউল্লাহ ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফকে (চীফ অফ জেনারেল স্টাফ) কিছু করার অনুরোধ জানালে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ জবাবে তাকে বলেন, ‘Bangabandhu is dead. The army has revolted and whole army has celebrated. এ পরিস্থিতিতে কারো কিছু করার নেই।’ সঙ্গত কারণে ১৫ আগস্টের ঘটনায় তাদের (শফিউল্লাহ-খালেদের) ভূমিকা রহস্যাবৃত এবং এর দায় তাদের উপরই বর্তায়। কেননা, সেনাবাহিনীতে যারা চাকরি করেন কিংবা করেছেন তারা উপপ্রধানের ক্ষমতা কতটুকু ভালভাবেই অবগত।

দুই. ১৫ আগস্টের পর সেনাবাহিনীতে ক্ষমতা দখল-পুনর্দখলের জন্য পরস্পরবিরোধী অবস্থানে খালেদ মোশারফ ৩ নভেম্বর রাতের আঁধারে আরেকটি অভ্যুত্থান ঘটায়। তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াকে বন্দি করে রাখে। আর ওই রাতেই ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী জাতীয় চার নেতাকে। ফলে এখানেও খালেদ মোশারফের ভূমিকা রহস্যাবৃত। অন্যদিকে মেজর জিয়া তো অন্তরীণই ছিলেন। ফলে জেল হত্যার দায় জিয়ার উপর চাপানো কতটা যৌক্তিক তা অবশ্য প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়।

তিন. বর্তমানের জাসদ নেতারা স্বীকার করুক আর নাইবা করুক এটা সত্য যে ৭৫-এর ১৫ আগস্ট, ৭ নভেম্বরের ঘটনাগুলোর পেছনে জাসদের ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ৬ নভেম্বর দিবাগত রাতে সামরিক বাহিনীর ভেতর থেকে যে ঘটনা ঘটেছিল তার নায়ক বলে ধরা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল (অব.) আবু তাহেরকে। আর এর প্রমাণ মিলে ৭ নভেম্বরে সেনাবাহিনীর ট্যাঙ্কের উপর চড়ে জাসদের নেতাকর্মীদের উল্লাসের ঘটনায়। অবশ্য পরবর্তীতে তাহেরকে আরেকটি পাল্টা বিপ্লব ঘটানোর ষড়যন্ত্রে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য রাষ্ট্রদ্রোহীতায় অভিযুক্ত করা হয়। যা বাস্তবেও সত্য ছিল বলে মনে করেন তখনকার সামরিক বাহিনী কর্মকর্তা। পরে সামরিক বিচারের (বিতর্কিত) রায়ে তাকে ফাঁসি দেয়া হয়। ওই সময়টায় এটা না হলে আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থান হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা ছিল বলেই (হাইপোথিক্যালি) ধরে নেওয়া হয়।

এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য, কর্নেল তাহরের সমর্থিত ওই বিপ্লবে যদিও বন্দিদশা থেকে জিয়া মুক্ত হয়েছিলেন। এরপরও কেন এই বিরোধ? যতদূর জানা যায় তাতে, বিপ্লবের পরপরই কর্নেল তাহের দূত পাঠান জিয়াকে সেনানিবাসের বাইরে যাওয়ার জন্য যেখানে (এলিফ্যান্ট রোডের একটি বাসায়) প্রতি বিপ্লবীরা অপেক্ষামাণ ছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে জিয়া সেখানে যাননি। সেখানে গেলে কী হতো জানি না, তবে আরেকটি পাল্টাবিপ্লবের সম্ভাবনা ছিল বলেই জনশ্রুতি রয়েছে।

ভিনদেশিদের বিশ্লেষণেও এসব তথ্যের প্রমাণ মিলে। কেননা, ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিস ইউজিন বোস্টারের পাঠানো তারবার্তায় উল্লেখ করেছিলেন-

‘চিফ অব দ্য আর্মি জেনারেল স্টাফ ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ পদোন্নতি না পেয়ে ব্যর্থতায় বিষণ্ণ ছিলেন। তিনি সন্দেহাতীতভাবে নিজের ব্যক্তিগত উচ্চাভিলাষ সম্পর্কেও মনোযোগী ছিলেন।

এ দলিল থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয় যে, মোশাররফকে ভারতপন্থী মনে করেই বিদ্রোহী সাধারণ সৈনিকেরা জিয়াউর রহমানের দিকে ঝুঁকেছিলেন। বিশ্ব এ সময় বাংলাদেশে তিনটি সরকারের পালাবদল প্রত্যক্ষ করেছিল।

বোস্টার লেখেন, ‘খালেদ মোশাররফ ও তার মিত্ররা সোমবার (নভেম্বর ৩) খুব সকালে সেনানিবাস ও ঢাকা নগরের বেশির ভাগ জায়গার নিয়ন্ত্রণ নেয়। মোশতাক দিনভর আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত খালেদের এসব দাবি মেনে নিলেন। তখন সেনাপ্রধান জিয়া অন্তরীণ আর চিফ অব জেনারেল স্টাফ ছিলেন মোশাররফ।’

বোস্টার লেখেন, ‘কিন্তু এটা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয় যে মোশাররফের ক্ষমতা গ্রহণ সেনাবাহিনীতে ছিল অপ্রীতিকর। কারণ জেনারেল জিয়া স্পষ্টতই সেনাবাহিনীতে তার চেয়ে অনেক বেশি জনপ্রিয় ছিলেন। মোশাররফকে ব্যাপকভাবে ভারতীয় নীতির একজন চালিকা হিসেবে দেখা হতো। শুক্রবার খুব সকালের দিকে সেনাবাহিনীর নিম্নপদের সদস্যরা বিদ্রোহ শুরু করেন। তারা দ্রুততার সঙ্গে মোশাররফের সমর্থকদের উৎখাত করেন।

‘সারা রাত ধরে শহর জেগে থাকে গুলির শব্দে। এটা চলে শুক্রবার সারা দিন। মোশাররফের অপসারণের পর অধিকাংশ গোলাগুলির ঘটনা ছিল উল্লাসসূচক।’

ওই তারবার্তা থেকে আরো জানা যায়, ৭ নভেম্বরের পর জেনারেল জিয়া, খন্দকার মোশতাককে রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। বোস্টার লিখেছেন, ‘শুক্রবার সকালে জেনারেল জিয়া, মোশতাক এবং অন্যান্য প্রধান ব্যক্তিদের একটি বৈঠক হয়। রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তাব মোশতাক ফিরিয়ে দেন। তিনি যুক্তি দেন, পরিস্থিতি এখনো বিস্ফোরণোন্মুখ। দেশে এখন দরকার একজন অরাজনৈতিক ও অবিতর্কিত রাষ্ট্রপতি। এ প্রেক্ষাপটে বিচারপতি সায়েমকে রাষ্ট্রপতির পদে রাখা হয়। পরে তাকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব দেয়া হয়। বিচারপতি সায়েমের রাষ্ট্রপতি হওয়ার বিষয়টি সামরিক বাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে পূর্ণ সমর্থন লাভ করে। এর ফলে দেশের স্থিতিশীলতা পুনরুজ্জীবনের পথ সুগম হয়।

ঘটনার বিশ্লেষণের তারবার্তাটির শেষে বোস্টার স্পষ্ট তিনটি অভিমত দেন। প্রথমত, অভ্যুত্থান এবং পাল্টা অভ্যুত্থানের প্রধান অংশগ্রহণকারীরা ছিলেন রাজনৈতিক। কিছুটা ব্যতিক্রম ছিলেন শুধু খালেদ মোশাররফ। তার একটু বাড়তি অসুবিধা ছিল যে তাকে ভারতপন্থী বলে মনে করা হতো। সেনাবাহিনীর যে অংশটি খন্দকার মোশতাকসহ মেজরদের উৎখাত করল, তাদের কিন্তু প্রাথমিক ক্ষোভের কারণ ছিল আগস্ট হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মেজররাই। ৭ নভেম্বরে পাল্টা অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটিয়েছিল সেনাবাহিনীর নিচের পদের লোকেরা। যারা খালেদ মোশাররফের চেয়ে জিয়াকেই বেশি পছন্দ করছিল। কারণ, তারা মোশাররফের আনুগত্য কোথায় নিহিত, তা নিয়ে সন্দিহান ছিল।’

বোস্টারের চুলচেরা বিশ্লেষণ থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, সদ্য স্বাধীন দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হবার পর ৩ থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত সামরিক বাহিনী তথা দেশের সর্বত্র এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ ৬ নভেম্বর দিবাগত ভোর রাতে বিপ্লবের প্রতিবিপ্লবে মাধ্যমে এর অবসান ঘটে। যা ইতিহাসে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে স্থান লাভ করে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তদানীন্তন দৈনিক বাংলার রিপোর্টে বিপ্লব সম্পর্কে বলা হয়, ‘সিপাহী ও জনতার মিলিত বিপ্লবে চারদিনের দুঃস্বপ্ন শেষ হয়েছে। মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়েছেন। ’৭ নভেম্বর সম্পর্কে সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস তার ‘বাংলাদেশ এ লিগ্যাসি অব ব্লাড’ বইতে লেখেন, ‘১৯৭৫ সালের ৫ ও ৬ নভেম্বর ক্যান্টনমেন্টসহ সারা শহরে ছড়ানো হলো হাজার হাজার প্রচারপত্র। একটি ব্যাপারে ডান ও বাম উভয় রাজনৈতিক দলই একমত ছিল, আর তা হচ্ছে খালেদ মোশাররফ একজন ভারতের দালাল এবং সে ঘৃণিত বাকশাল ও মুজিববাদ ফিরিয়ে আনতে চাইছে।’

৭ নভেম্বর শুক্রবার ভোরে রেডিওতে ভেসে আসে, ‘আমি মেজর জেনারেল জিয়া বলছি।’ জেনারেল জিয়া জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে যথাস্থানে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। ওইদিন রাজধানী ঢাকা ছিল মিছিলের নগরী। পথে পথে সিপাহী-জনতা আলিঙ্গন করেছে একে অপরকে। নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবর, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ ধ্বনিতে ফেটে পড়েন তারা। আনন্দে উদ্বেলিত হাজার হাজার মানুষ নেমে আসেন রাজপথে।

সাধারণ মানুষ ট্যাঙ্কের নলে পরিয়ে দেন ফুলের মালা। এই আনন্দের ঢেউ রাজধানী ছাড়িয়ে দেশের সব শহর-নগর-গ্রামেও পৌঁছে যায়।’ ঘটনাগুলো যেসব কারণে ঘটেছিল এর অন্যতম কারণ ছিল রাজনৈতিক ব্যর্থতা ও অতিমাত্রায় ভিনদেশিদের তোষণনীতি। ফলে বলতে হয়, অতীতের ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আজকের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিতে হবে আমাদের রাজনীতিবিদদের। অন্যথা এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির সুযোগ করে দিবে।

সবশেষে, ইতিহাসের রক্তক্ষয়ী ওই সময়টায় সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানে সেনানিবাসের বন্দিদশা থেকে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান যদি মুক্ত না হতেন তাহলে জাতির ভাগ্যাকাশে কী ঘটতে পারতো তা অবশ্য সহজেই অনুমেয়। কেননা, ওই ঘটনার প্রেক্ষিতেই নস্যাৎ হয়েছিল স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী সব ষড়যন্ত্র। আধিপত্যবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসন থেকে রক্ষা পেয়েছিল বাংলাদেশ। তা না হলে হয়তো এতদিনে সিকিমের পরিণতি ভোগ করতে হতো আমাদেরও। তাই আজ ৭ নভেম্বরের বিপ্লব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যত ধরনের বিতর্কই থাক না কেন, সেই ঘটনা যে বাংলাদেশের তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল তা কারো অস্বীকার করার উপায় নেই।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট