মার্কিন নির্বাচনের আর একদিন বাকি : সব জরিপে হিলারি এগিয়ে

প্রকাশিত: ২:২৬ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০১৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দুই প্রার্থীই শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় সর্বশক্তি নিয়োগ করায় সর্বত্রই উচ্ছ্বাস-উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থীই শেষ প্রচারণায় ওহাইও অঙ্গরাজ্যে। নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হয়েছিল আগেই। এবার শুরু হলো ক্ষণগণনা। নির্বাচনি উত্তেজনায় এখন গোটা যুক্তরাষ্ট্র কাঁপছে। শ্বাসরুদ্ধকর প্রচারণায় ব্যস্ত ডেমোক্রেটিক দলীয় প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্প।  আমেরিকার নির্বাচনে ইতিহাস সৃষ্টির জন্যই এবার তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব। হিলারি ক্লিনটন নির্বাচিত হলে সৃষ্টি হবে নতুন এক ইতিহাস। কেননা তিনিই হবেন দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। শেষ মুহূর্তের নির্বাচনি জরিপগুলোতেও হিলারি এগিয়ে আছেন। তবে জরিপে ব্যবধান কিছুটা কমেছে। ট্রাম্পের পক্ষে জনমত বাড়লেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের জটিল প্রক্রিয়ায় ভোটের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ইলেক্টোরাল কলেজের জরিপে সুস্পষ্টভাবে এগিয়ে আছেন হিলারি। কোনো প্রার্থী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল কলেজের মধ্যে ২৭০টিতে জয়ী হতে হবে। সিএনএনের জরিপে এখন পর্যন্ত ২৬৮টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটে এগিয়ে আছেন হিলারি। আর ট্রাম্প এগিয়ে আছেন ২০৪টিতে। এবার আগাম ভোট পড়েছে অনেক বেশি। এখন পর্যন্ত ৩ কোটি ৭০ লাখ ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। ভোটকে প্রভাবিত করার নানা কৌশল লক্ষণীয়। : নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে এফবিআই পরিচালক জেমস কমে হিলারির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত সার্ভার থেকে ই-মেইল পাঠানোর তদন্তের ঘোষণা দিয়ে রহস্য সৃষ্টি করেছেন। এতেই বেশ খানিকটা এগিয়ে যান ট্রাম্প। তবে এ ইস্যুতে ভোটার টানার খেলা শেষ হয়েছে। নতুন করে আল কায়দার হামলার আশংকার কথা ছড়ানো হচ্ছে। এতে করে ভোটার উপস্থিতি কমানোর চেষ্টা হতে পারে। একের পর এক নারী কেলেংকারির তথ্য ফাঁস হওয়ায় আর বেফাঁস মন্তব্যে ট্রাম্প জরিপে পিছিয়ে ছিলেন অনেক। এখন সেই ব্যবধান কমাতে মরিয়া ট্রাম্প শিবির। আফ্রিকান, আমেরিকান ও লাতিনসহ অভিবাসী ভোটাররা ডেমোক্রেটদের সমর্থক। তাই তাদের উপস্থিতি কমাতে নানা আতংক ছড়ানোর কৌশল নিচ্ছেন রিপাবলিকান সমর্থকরা। নির্বাচনে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। : জানা যায়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোট গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনে কে জয়ী হবেন তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ আর শ্বাসরুদ্ধকর অপেক্ষা। এ অপেক্ষার শেষ হবে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৯টার দিকে। তখনই অনানুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করবে মার্কিন টিভি স্টেশনগুলো। সত্যি বলতে কি, হিলারির গতকাল বেশি কথা বলার আদতে কোনো প্রয়োজনই পড়েনি। যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় র‌্যাপার জেসিজে হিলারির পক্ষে কনসার্ট করতে আসছেন এই খবরে এমনিতেই শত শত লোক জড়ো হয়েছিলেন। দু-আড়াই ঘণ্টা ধরে জেসিজে, চ্যান্স দ্য র‌্যাপার ও বিগ সিয়ন গানের ফাঁকে ফাঁকে হিলারির প্রতি তাদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। তবে তুমুল জনপ্রিয় গ্র্যামি বিজয়ী শিল্পী বিয়ন্স যে আসছেন, তা একরকম চেপেই রেখেছিলেন আয়োজকরা। বিয়ন্স মঞ্চে ওঠেন সবার পর। গান তো গেয়েছেনই, কেন হিলারিকে ভোট দিতে হবে, সে সম্পর্কেও নিজের ভাবনার কথা বলেছেন। ‘আপনি যে-ই হোন না কেন শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ, মেক্সিকান, এশীয় বা মুসলিম তাতে কিছুই যায় আসে না। আমার ভাইপো এক মেধাবী কৃষ্ণাঙ্গ। সে একজন আফ্রিকান আমেরিকানকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেয়েছে। আমি এটা ভেবে উজ্জীবিত হই। আমি চাই, আমার মেয়ে দেখুক, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট একজন নারী। সে বিশ্বাস করুক, সবার জন্যই এখানে অপার সম্ভাবনা, বলেন বিয়ন্স। স্বামী জেসিজের সঙ্গে তার দ্বৈত পরিবেশনার পর মঞ্চে ওঠেন হিলারি। তখন মিলনায়তনের সব তরুণ ভোটার দাঁড়িয়ে, চিৎকার করে হিলারির প্রতি তাদের সমর্থনের কথা জানান। : হিলারিকে ঘিরে ওয়েলমিংটনে তরুণ ভোটারদের যে উন্মাদনা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসভায় দৃশ্যত ছবিটা সে রকম ছিল না। টিভিতে দেখা গেল, ট্রাম্প তার সমাবেশে হিলারির কড়া সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমার জেলো, জেসিজে কাউকে লাগে না। আমি আমিই। গিটার লাগে না। আমার গিটার বা পিয়ানো কোনোটারই দরকার নেই।’ নানা কারণে সমালোচিত ট্রাম্পের সঙ্গ এড়িয়ে চলছেন নিজের দলেরই অনেক নেতা। তিনি মূলত প্রচার চালাচ্ছেন তার স্ত্রী-পুত্র, কন্যাকে নিয়ে। কোনো বিষয়েই খুব পরিষ্কার করে কিছু বলছেন না। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ২৫ সাংবাদিকের চারজন ট্রাম্পের সমাবেশে থেকে গিয়েছিলেন। তাদের একজন ব্রিটিশ সাংবাদিক অ্যানাবেল ডিকসন পরে বলছিলেন, ট্রাম্প খুব অদ্ভুত। সমাবেশে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির জন্য রাখা টাকা দিয়ে আমরা রাস্তা বানাব, রাস্তা না হলে সেতু বানাব। কী বলেন?
  •