অবৈধ ক্ষমতা দখলদারের বিরুদ্ধেই সিপাহীরা বিদ্রোহ করেছিল : ইনু

প্রকাশিত: ১১:৫৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০১৬

উচ্চাভিলাষী অফিসারদের ক্ষমতার জন্য কামড়াকামড়ি, বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীসহ অবৈধ ক্ষমতা দখলদারের বিরুদ্ধেই সিপাহীরা বিদ্রোহ করেছিল। বিদ্রোহী সিপাহীরা খালেদ মোশাররফকে হত্যা করেনি বলেও মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

সোমবার শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জাসদ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

ইনু আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ক্ষমতালোভী উচ্চাভিলাষী অফিসাররা ক্ষমতা দখলের জন্য উন্মত্ত হয়ে তাদের অধীনস্থ ইউনিটগুলোকে পরস্পরের বিরুদ্ধে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। এক ইউনিটের সিপাহীদের আরেক ইউনিটের সিপাহীদের খুন করতে উস্কানি দিচ্ছিলো।

তিনি বলেন, উচ্চাভিলাষী অফিসারদের ক্ষমতার জন্য সিপাহীদের বিক্ষুব্ধ করেছিল। বিক্ষুব্ধ সিপাহীরা অফিসারদের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্তভাবে বিদ্রোহের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। এরকম উত্তপ্ত ও অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে বিদ্রোহী সিপাহীরা বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্তভাবে কোনো দুর্ঘটনা যেন না ঘটিয়ে ফেলে তা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য জাসদ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিদ্রোহী সিপাহীদের পাশে দাঁড়ায়। কর্নেল তাহের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্রোহী সিপাহীদের ঐক্যবদ্ধ করে তাদের বিদ্রোহকে শান্তিপূর্ণ পথে পরিচালিত করেন।

খালেদ মোশাররফের হত্যাকারী প্রসঙ্গে ইনু বলেন, তার (খালেদ মোশাররফের) হত্যাকারীরা চিহ্নিত ও আত্মস্বীকৃত।

ইনু বলেন, ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসও না, সৈনিক হত্যা দিবসও না।

তিনি বলেন, জিয়া শুধু সিপাহীদের সাথেই নয়, সেনাবাহিনীর সাথেও বিশ্বাসঘাতকতা করে। জিয়া ক্ষমতার জন্য সেনাবাহিনীকে আবারো খণ্ড বিখণ্ড করে রাখে। এক অফিসারের বিরুদ্ধে আরেক অফিসারকে ক্ষেপিয়ে তোলে, লেলিয়ে দেয়।

জিয়ার আমলে কতজন অফিসার ও সৈনিক নিহত, ফাঁসি, নিখোঁজ, চাকরিচ্যুত, কারাবন্দী হয়েছে তা উদঘাটনের জন্য তদন্ত কমিশন ও শ্বেতপত্র প্রকাশ করার দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, জিয়া যে মামলায় বিচারের নামে কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করেছে, সেই মামলা ছিল সাজানো আর বিচার ছিল প্রহসনমূলক।

তিনি আরো বলেন, ৭ নভেম্বর পালন করার নৈতিক অধিকার বিএনপির নেই। কারণ ৭ নভেম্বরের ইতিহাস বলে, জিয়া কাপুরুষ, স্বার্থপর, খলনায়ক, বিশ্বাসঘাতক। ৭ নভেম্বরের মহানায়ক কর্নেল তাহের।

আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, শহীদ কর্নেল তাহেরের অনুজ ড. আনোয়ার হোসেন, সিপাহী বিদ্রোহের নেতা ফ্লাইট সার্জেন্ট রফিকুল ইসলাম বীর প্রতীক, সিপাহী বিদ্রোহের নেতা হাবিলদার আবদুল বারেক, জাসদের সহ-সভাপতি মীর হোসাইন আখতার, ইকবাল হোসেন খান, সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট শাহ জিকরুল আহমেদ, অ্যাডভোবেট হাবিবুর রহমান শওকত, আফরোজা হক রীনা, জাসদের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক নাদের চৌধুরী, ওবায়দুর রহমান চুন্নু, শওকত রায়হান, নইমুল আহসান জুয়েল, ঢাকা মহানগর উত্তর জাসদের সভাপতি সফি উদ্দিন মোল্লা, ঢাকা মহানগর পূর্ব জাসদের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পশ্চিম জাসদের সভাপতি মাইনুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুন্নবী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব প্রমুখ।

  •