বেপরোয়া দস্যু মনোবৃত্তি নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে আছে সরকার : রিজভী

প্রকাশিত: ৪:৪৬ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১, ২০১৬

সরকার বেপরোয়া দস্যু মনোবৃত্তি নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে আছে বলেই গণতন্ত্রের বিকাশের সকল প্রতিষ্ঠানকে লাশকাটা ঘরে প্রেরণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

সোমবার বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্থগিত হয়ে যাওয়া ৩১টি ইউনিয়ন পরিষদের ভোটগ্রহণ পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, আজ দেশব্যাপী ইউপি নির্বাচনে আজকেও আগের মতোই বিভিন্ন অনিয়ম, ভোট জালিয়াতি ও সন্ত্রাসের গতি তীব্র মাত্রা লাভ করেছে। ৩১টি ইউপি নির্বাচনে ছোট খাটো চুরি-ডাকাতি নয়, বরং ব্যাপকভাবে চরদখলের মতো ভোট কেন্দ্র দখলের মহৌৎসব চালানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি’র ধানের শীষের প্রতীকের অনেক চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদেরকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে ব্যাপকভাবে বাধা দেয়া হয়েছে। বিএনপি’র প্রার্থীকে মারধর এবং তাদের বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সশস্ত্র আওয়ামী ক্যাডার’রা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আশ্রয়ে তাদের পূর্বের ন্যায় বর্বর আচরণ ও পাশবিক তান্ডব অব্যাহত গতিতে চালিয়ে যাচ্ছে। এটা নিশ্চিত যে, এই ভোটবিহীন সরকার মানুষের ভোটাধিকার হরণ করতে তাদের গণবিরোধী নীতি থেকে সরে আসেনি।

রিজভী আহমেদ অভিযোগ কর বলেন, এই ভোটবিহীন সরকার কখনোই ন্যায়-নীতি, দেশের আইন-কানুন মেনে চলবে না। দেশের মানুষের মৌলিক অধিকারের ওপর অব্যাহত আগ্রাসন চালিয়ে ক্ষমতায় চিরদিনের জন্য টিকে থাকার দিবাস্বপ্নে নিবিষ্ট। কারণ বর্তমান শাসকগোষ্ঠী আইনের আওতায় রাষ্ট্র পরিচালনায় অবিশ্বাসী। তারা বেপরোয়া দস্যু মনোবৃত্তি নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে আছে বলেই গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য দায়ী সকল প্রতিষ্ঠানকে লাশকাটা ঘরে প্রেরণ করেছে।

তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে ২০১৪ সাল থেকে যতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তাতে সহিংসতা, ভোট ডাকাতি, ভোটকেন্দ্র দখল, বিরোধী দলীয় প্রার্থীর প্রার্থীতা প্রত্যাহারে জবরদস্তি এবং নগরে বন্দরে গ্রামে-গঞ্জে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়ে লাশের পাহাড় সৃষ্টি করে যে দুর্গন্ধ তারা ছড়িয়েছেন তাতে শুধু দেশের মানুষ নয়, আন্তর্জাতিক বিশ্বে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ধিক্কারের অবিরল ধারা অব্যাহত আছে।

তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর গণতন্ত্রবিনাশী কুমতলবটাই পরিস্কারভাবে ফুটে উঠলো। কারণ আওয়ামী লীগ বরাবরই জনগণকে সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেব টার্গেট করে। আর এই কারণেই ভোটারবিহীন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-কোনভাবেই বিএনপিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে দেয়া হবে না। কোন দলকে ক্ষমতায় বসানো হবে- সেই অধিকার তো জনগণের, প্রধানমন্ত্রীর হুঙ্কারে তার সশস্ত্র ক্যাডার বা তার সাজানো প্রশাসনের নয়। আমরা দৃঢ়কন্ঠে বলতে চাই- জনগণের প্রতিপক্ষ হয়ে একতরফা দলীয় নির্বাচন কমিশন গঠন করে ফের ক্ষমতায় যাওয়ার সাধ মিটবে না। জনগণ সেটি সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করবে।

  •