ভ্রমণে স্বাস্থ্য ভাবনা

প্রকাশিত: ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৬

ঘোরাঘুরি করতে কি দেশের সীমারেখা টপকাতে যাচ্ছেন? বিদেশ ভ্রমণ অন্য রকম এক আমোদ। তাই ভ্রমণের প্রস্তুতিটাও একটু ঘটা করে নেয়া লাগে।

জামাকাপড় ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র বাছাই করতে হয় একটু গুছিয়ে। তবে বেশ সময় নিয়ে যারা বিদেশ ভ্রমণে যাওয়ার কথা ভাবছেন, তাদের স্বাস্থ্য ও চিকিত্সার কথাটিও মাথায় পোক্ত করুন। কারণ যারা বিদেশ ভ্রমণে যান, তাদের ৫০ শতাংশেরই ভ্রমণ-সম্পর্কিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

যদিও বেশির ভাগ ভ্রমণকালীন অসুস্থতা খুব বেশি জটিল হয় না। তার পরও ঝুঁকি এড়াতে বেড়াতে যাওয়ার আগে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত

প্রস্তুতি

ভ্রমণে যাওয়ার আগে শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করুন। প্রয়োজন হলে আগে থেকেই চিকিত্সক দেখিয়ে নিন। ভ্রমণের আগে প্রয়োজনীয় টিকা নিতে হলে নিন। ব্যাগে ছোট একটি এইডবক্স রাখুন। তাতে প্রাথমিক চিকিত্সার যাবতীয় জিনিসপত্র থাকবে।

যদি এমন হয় আপনি কোনো প্রেসক্রিপশন মেনে চলছেন, তাহলে সেবনীয় সব ওষুধ সঙ্গে নিন। অবস্থা বুঝে দাঁত ও চোখের ডাক্তার দেখান।

টিকা

হেপাটাইটিস, টাইফয়েড ও ম্যালেরিয়া থেকে সুরক্ষা পেতে প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ করুন। কিন্তু দেশে পর্যটকদের আইনত হলুদ জ্বরসহ কয়েকটি অসুখের জন্য টিকা নেয়ার নির্দেশ থাকে। এসব টিকা নিতে হলে ভ্রমণে যাওয়ার ছয় থেকে আট সপ্তাহ আগে চিকিত্সকের শরণাপন্ন হোন।

যদি চট করেই কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা হয়, সেক্ষেত্রেও স্বল্প সময়ে টিকা নেয়া যেতে পারে। এসব ব্যাপারে মেডিকেল হিস্টোরি, বয়স, কোথায় যাচ্ছেন, কতদিন থাকবেন ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে চিকিত্সকরা প্রয়োজনীয় টিকা নেয়ার পরামর্শ দেন।

বয়স্ক পর্যটকদের জন্য

যাদের বয়স একটু বেশি, হূদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপসহ আরো নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য ভ্রমণের আগে একটা বড়সড় পরিকল্পনা করা উচিত। নিয়মিত চিকিত্সকের কাছ থেকে নতুন করে চেকআপ করিয়ে ভ্রমণকালীন ডায়েট চার্ট করে নিতে হবে। কোনো ওষুধের প্রয়োজন হলে সেটাও লিস্ট করতে হবে।

একই সঙ্গে দাঁত ও চোখের ডাক্তার দেখিয়ে নেয়া ভালো। ব্যাগে ওষুধের বাক্স, বাড়তি চশমা, রোদটুপি, সুতির জ্যাকেট ইত্যাদি নিতে হবে। বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথা থাকলে বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে তার করণীয় সম্পর্কে ধারণা নিয়ে যেতে হবে। সম্ভব হলে ব্যথা সারিয়ে যাওয়া উচিত। নিউমোনিয়া ও ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা দরকার হলে নিতে হবে।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা

যাদের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, ভ্রমণে গিয়ে তারা কেমন পরিবেশে থাকবেন, সেটার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। থাকার জায়গা অবশ্যই আরামদায়ক ও স্বস্তিকর হওয়া উচিত। হুইল চেয়ার ও ফোল্ডিং চেয়ার সঙ্গে রাখতে হবে।

ভ্রমণে খাদ্যাভ্যাস

ভ্রমণকালীন বা ভ্রমণ-পরবর্তী অসুখের অন্যতম কারণ অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পানি। ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, বমিভাব এড়াতে খাবারদাবারের দিকে নজর দিতে হবে। ব্যাগে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি রাখুন। যদিও যথেষ্ট বলতে খুব বেশি পানি তো আর বয়ে নেয়া যায় না। তাই ফিটকিরি ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট রাখতে হবে।

তাছাড়া ঠাণ্ডা পানীয়, অপাস্তুরিত দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, স্ট্রিট ফুড খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ফল খেলে খোসা ছাড়িয়ে খেতে হয় এমন ফল খাবেন।

পোকামাকড় থেকে সাবধান

ম্যালেরিয়া, হলুদ জ্বর, ডেঙ্গু ইত্যাদি থেকে বাঁচতে ঘরে ও ত্বকে ব্যবহারের জন্য আলাদা আলাদা মশার ওষুধ রাখুন। ত্বকের ব্যবহারের জন্য মশার ওষুধ ক্রিম হিসেবে পাওয়া যায়। এগুলো দুই ধরনের। কামড়ানোর আগে ও কামড়ানোর পরে ব্যবহারের জন্য। সন্ধ্যার পর বাইরে ঘোরাফেরা করবেন না। যদি বের হতেই হয়, তাহলে ফুলহাতার জামাকাপড়, ফুলপ্যান্ট ও মোজা পরে বাইরে যান।

  •