দ্বিতীয় টেস্টের লড়াই শুরু আজ

প্রকাশিত: ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৬

চট্টগ্রাম টেস্টে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর আজ মাঠে গড়াতে যাচ্ছে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচ। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে এরই মধ্যে ১-০তে এগিয়ে আছে সফরকারী ইংল্যান্ড। তাই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে কুক বাহিনীর সামনে সিরিজ জয়ের হাতছানি। অন্যদিকে স্বাগতিক বাংলাদেশের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই।

তবে মজার ব্যাপার হলো, দুই দলেরই প্রেরণার নাম চট্টগ্রাম টেস্ট। একদিকে হোম কন্ডিশনের দুর্দান্ত লড়াইয়ে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ। অন্যদিকে উপমহাদেশের মাটিতে রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর উজ্জীবিত ইংল্যান্ড। সব মিলিয়ে মিরপুরে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের অপেক্ষায় দুই দল।

উইকেট, টস ও স্পিন- চট্টগ্রাম টেস্টের এ তিন নিয়ামকের সঙ্গে বাড়তি উদ্বেগ হিসেবে যোগ হয়েছে বৃষ্টি। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে মিরপুরের আকাশ ছেয়ে যায় কালো মেঘে। প্রায় ১ ঘণ্টা বৃষ্টি শেষে আবারো ঝলমলে আকাশ। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানা গেছে, আজ সকালেও সম্ভাবনা রয়েছে বৃষ্টি হানা দেয়ার। আর তাতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে টস ভাগ্যটাও।

ম্যাচের আগে ইংলিশ অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক জানিয়েছেন, এবারো বড় ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে টস। তার মতে, টসে জেতা মানেই ম্যাচের সিংহভাগ নিজের পকেটে ভরা। যদিও সফরকারী অধিনায়কের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হতে পারেননি স্বাগতিক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। টস ভাগ্যকে অনিশ্চয়তার হাতেই তুলে দিলেন প্রথম টেস্টে টসে হারা মুশফিক। মুশফিকের মতে, টসে জেতা ম্যাচের বড় নিয়ামক হলেও তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধারাবাহিক পারফর্ম করা।

এ ম্যাচে উইকেটের প্রভাবটা কোনোভাবে অস্বীকার করছেন না দুই অধিনায়কই; যেখানে স্বাগতিকদের বোলিং আক্রমণের মূল অস্ত্র হলো স্পিন। তাই তাদের প্রত্যাশা ঘূর্ণিবান্ধব উইকেট। সর্বশেষ চট্টগ্রাম টেস্টে বল হাতে সাকিব-মিরাজ-তাইজুলরা শিকার করেছেন ২০ উইকেট। তবে পেস অ্যাটাকে এগিয়ে রয়েছে সফরকারীরা। পুরনো বলে দারুণ রিভার্স সুইং পেয়েছে ইংলিশ পেসাররা। বিশেষ করে বাংলাদেশের টেলএন্ডারদের গুটাতে ব্রড-স্টোকসদের রিভার্স সুইংকে দারুণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন কুক।

সফরকারী অধিনায়কের দুশ্চিন্তার নাম টপ অর্ডার ব্যাটিং। ঢাকায় অবশ্য সেদিকেই নজর কুকের, ‘প্রথম টেস্টে আমাদের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা বড় ইনিংস খেলতে পারেনি। বাংলাদেশের বোলাররা চেপে ধরতে সফল হয়েছিল। আশা করছি, এখানে আমরা ভালোভাবে শুরু করতে পারব।’

চট্টগ্রামের মতো ঢাকায় পুরোপুরি ঘূর্ণিবান্ধব উইকেট হোক, এটা চান না কুক। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে ইংলিশ অধিনায়ক বলেন, ‘আশা করছি, চট্টগ্রামের চেয়ে ঢাকার উইকেটে কম স্পিন ধরবে। আমার মনে হয়, বাংলাদেশ কন্ডিশনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে কম্বিনেশন সাজানোর সিদ্ধান্ত নেবে।’

এদিকে বৃষ্টির খানিকটা প্রভাব পড়তে পারে রণকৌশলে। অধিনায়ক মুশফিকের ভাষায়, ‘বৃষ্টির সম্ভাবনা একটু হলেও প্রভাব ফেলবে। আমাদের যে পরিকল্পনা ছিল, সেদিক থেকে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। হয়তো রোদ থাকলে উইকেটের ড্রাই আপ ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু বৃহস্পতিবারও উইকেট দেখে আমরা খুশি ছিলাম। প্রায় প্রস্তুত উইকেট। খুব একটা বেশি কাজ করার নেই ওখানে। এখানে পেস বোলারদের পাশাপাশি স্পিনাররাও অনেক সাহায্য পায়। যেটাই হোক, আমরা চেষ্টা করব কন্ডিশন অনুযায়ী খেলার।’

স্বাগতিক অধিনায়কের মতো বৃষ্টির কারণে উইকেটের চরিত্র বদলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ইংলিশ অধিনায়ক। তার ভাষায়, ‘আমি মনে করি, সকালের বৃষ্টি বৃহস্পতিবারের তুলনায় উইকেটে কিছু সবুজ ঘাস গজিয়ে দেবে। তবে আজ সকালে উইকেটের অবস্থা কী হয়, সেটা দেখার পর আসলে উইকেট সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। আপাতত দেখে শুকনো উইকেটই মনে হচ্ছে।’

প্রথম টেস্টে তিন নতুন মুখের পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে স্বাগতিকদের স্কোয়াডে এসেছে দুই নতুন মুখ মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও শুভাশীষ রায়। অন্যদিকে দুটো পরিবর্তন হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড দলেও। বর্ষীয়ান গ্যারেথ ব্যাটির পরিবর্তে অভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন ২৪ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার জাফর আনসারি। আর নির্ভরযোগ্য বোলার স্টুয়ার্ট ব্রডের পরিবর্তে সুযোগ পেতে যাচ্ছেন ফাস্ট বোলার স্টিভেন ফিন।

মিরপুরে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশের প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত কুক। এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফরে এতটা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বলে জানান ইংলিশ অধিনায়ক। পিছিয়ে নেই সফরকারী দলের অন্যরাও। এরই মধ্যে দলের উইকেটরক্ষক জনি বেয়ারস্টো চলতি টেস্ট সিরিজকে তুলনা করেছেন অ্যাশেজের সঙ্গে। সফরকারী অধিনায়কের কথায়, ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশ টেস্ট ম্যাচও খুব দারুণ খেলছে। আর এতে এ সফর দারুণ উপভোগ্য হয়ে উঠেছে।’

আজ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের ৫০তম টেস্ট ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিক। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এ মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছেন তিনি। এর আগে বাংলাদেশের হয়ে এ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন হাবিবুল বাশার সুমন ও মোহাম্মদ আশরাফুল। হাবিবুল খেলেছেন ৫০ টেস্ট আর আশরাফুলের ঝুলিতে ৬১ টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা।

  •