সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আজ

প্রকাশিত: ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০১৬

জমজমাট জাতীয় সম্মেলন। সর্বত্র আনন্দের স্পর্শ। দলীয় সভানেত্রীর উদ্দীপনাময় ভাষণ, চমৎকার সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। এসব ছাপিয়ে একটি বিষয় জানার জন্য সকলের মধ্যে অখণ্ড আগ্রহ, তা হলো কে হবেন আওয়ামী লীগের নতুন সাধারণ সম্পাদক- সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, না ওবায়দুল কাদের।

দলের সভানেত্রী যে শেখ হাসিনা হবেন, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ-সংশয় নেই।

অষ্টম দফায় শেখ হাসিনা দলের সভাপতি নির্বাচিত হবেন, এটা শতভাগ নিশ্চিত। এর আগে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৯৮১, ১৯৮৭, ১৯৯২, ১৯৯৭, ২০০২, ২০০৯ ও ২০১২ সালে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

তবে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ সাধারণ সম্পাদক নিয়ে কাউন্সিলররা এখনো দোটানায় রয়েছেন। কারোর বিষয়েই তারা এখন পর্যন্ত দলের সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আকার-ইঙ্গিতেও সবুজসংকেত পাননি।

এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন কাউন্সিলররা। দলের সভাপতিমণ্ডলীতে নতুন কারা আসছেন, তা নিয়েও রয়েছে তাদের আগ্রহ।

রবিবার দৈনিক সমকাল পত্রিকার অনলইন ও প্রিন্ট ভার্সনে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। আরটিএনএনের পাঠকদের জন্য প্রতিবেদনটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

শনিবার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে সমবেত কাউন্সিলরদের সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক নিয়ে সরস আলোচনা করতে দেখা গেছে।

এই আলোচনা মূলত বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদেরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

কাউন্সিলরদের কয়েকজন জানিয়েছেন, গত বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে ৭৪টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা হয়েছে। তৃণমূলের এই নেতাদের ফোন করে দলের একজন কেন্দ্রীয় নেতা সাধারণ সম্পাদক পদে সুনির্দিষ্টভাবে একজন নেতার নাম জানিয়ে তাকে প্রধানমন্ত্রী সবুজসংকেত দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

পরে অবশ্য সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ তথ্যের কোনো সত্যতা পাননি।

এ কারণে গতকালের সম্মেলনে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলের সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট উপস্থাপনের সময় কাউন্সিলরদের অনেকেই তার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। কাউন্সিলরদের অনেকেই হাততালি দিয়ে সৈয়দ আশরাফের আবেগঘন বক্তব্যের সঙ্গে একমত হন।

সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক নিয়ে দলের ভেতরে এক ধরনের টানাপড়েন শুরু হয়েছে। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে এই পদে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নেতাকর্মীদের কাছে জনপ্রিয় বলে জানানো হয়েছে। ওই সব রিপোর্টের পর দলের হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে নতুন চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় অনেকেই আওয়ামী লীগকে একমুখী রাখতে সৎ, দক্ষ এবং যোগ্য ব্যক্তিকেই দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে আনার বিষয়ে মতামত দিচ্ছেন।

কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম তাকে সাধারণ সম্পাদক না করা হলে ওই পদের জন্য বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। সিনিয়রদের মধ্য থেকে সাধারণ সম্পাদক করা হলে তিনি দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি এবং কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাককে বিবেচনায় আনার অনুরোধ করেছেন।

জুনিয়রদের মধ্যে তার প্রস্তাবের তালিকায় রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ, দলের দুই সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

এমনিতর অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে রাজনৈতিকভাবে বিচক্ষণ, দূরদর্শী, আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পারদর্শী, গ্রহণযোগ্য, অভিজ্ঞ ও আস্থাভাজন কাউকে সাধারণ সম্পাদক করবেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বিশ্বাস।

একই সঙ্গে দক্ষ, মেধাবী ও যোগ্যতার মাপকাঠিতে সেরা একঝাঁক তরুণ নতুন কমিটিতে আসবেন বলে সবার প্রত্যাশা।

এদিকে শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে গিয়ে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে আলাদাভাবে দেখা করেছেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও ওবায়দুল কাদের। এর মধ্যে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দোতলায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন।

আজকের কাউন্সিল অধিবেশনে সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট পাস করা হবে। এ ছাড়া সংশোধিত গঠনতন্ত্র, ঘোষণাপত্রসহ গত সম্মেলনের পর থেকে দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং বাজেট অনুমোদন করা হবে। এর পর বিলুপ্ত হবে বর্তমান কার্যনির্বাহী সংসদ। নির্বাচন করা হবে নতুন কার্যনির্বাহী সংসদের।

সংশোধিত গঠনতন্ত্রে সাংগঠনিক জেলার সংখ্যা ৭৪ থেকে ৭৮ এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যসংখ্যা ৭৩ থেকে ৮১-তে উন্নীতকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে সভাপতিমণ্ডলীর সংখ্যা চারটি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের সংখ্যা একটি, সাংগঠনিক সম্পাদকের সংখ্যা একটি ও কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যসংখ্যা দুটি রয়েছে।

নীতিনির্ধারক নেতারা বলেছেন, সভাপতিমণ্ডলীর বর্তমান ১২ সদস্যের মধ্যে দু-একজন ছাড়া রদবদলের সম্ভাবনা খুব কম। আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, নুরুল ইসলাম নাহিদ, ড. আবদুর রাজ্জাক, ডা. দীপু মনি, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান ও এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য করা হতে পারে।

তিন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি ও অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানকের মধ্যে দুই জনের অবস্থান নড়চড় হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সাত সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, ভূঁইয়া মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর মধ্যে কমপক্ষে দুইজন বাদ পড়তে পারেন।

অন্য ছয়জনের মধ্যে কারোর পদোন্নতি ও কারোর পদাবনতি হতে পারে।

আইন সম্পাদক, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক, প্রচার সম্পাদক, পরিবেশ ও বন সম্পাদক, মহিলা সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ পদে নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে বর্তমানে এসব পদে যারা দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের কেউ কেউ বাদ পড়তে পারেন। কারোর পদোন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।

কার্যনির্বাহী সদস্যপদে আসবেন একঝাঁক পরীক্ষিত নতুন মুখ।

সংশোধিত গঠনতন্ত্রে ১৯ সদস্যের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ড গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সে সঙ্গে দলের সর্বস্তরের নেতাদের চাঁদার পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মহানগর ও জেলা কমিটির সদস্যসংখ্যা ৭১ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ এবং থানা কমিটির সদস্যসংখ্যা ৬৭ থেকে বাড়িয়ে ৭১ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট