চীনা প্রেসিডেন্টের বৈঠকে শিমুল বিশ্বাস থাকার কারণ

প্রকাশিত: ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৬

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বৈঠকে তার বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের উপস্থিতি নিয়ে কয়েকদিন যাবত চলছে নানা গুঞ্জন।

বিএনপির পক্ষ হতে প্রেরিত ডেলিগেশেনের তালিকায় তার নাম না থাকা সত্ত্বেও ওই বৈঠকে তার অংশ গ্রহণ নিয়ে কোনো কোনো নেতা তীর্যক বাক্যবান এবং সমালোচনা করছেন। আবার অনেক নেতা এই সমালোচনাকে আমল দিচ্ছেন না।

জানা গেছে, এর আগে ২০১০ এবং ২০১২ সালে বেগম খালেদা জিয়া যখন চীন সফর করেন, তখন চীনের তত্কালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে যে হাইপ্রোফাইল সাক্ষাত্ এবং দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছিল, তার সবগুলোতেই উপস্থিত ছিলেন শিমুল বিশ্বাস। তখন এনিয়ে দলের নেতাদের ভেতর বিশেষ আলোকপাত হয়নি।

তবে গত শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্টেরর সঙ্গে বৈঠকে তার নাম না থাকার পরও কেন অংশ নিলেন তা নিয়েই চলছে সমালোচনা। অনেকেই ভালোভাবে নেননি। বৈঠকের ছবি প্রকাশ হওয়ার পর দলের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।

এ প্রসঙ্গে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে দলের প্রতিনিধি দলে কারা থাকবেন তার একটি তালিকা চীনের সংশ্লিষ্টদের কাছে দেয়া আগেভাগেই।

সাত সদস্যের ‘লিস্ট অব দ্য মেম্বারস অব দ্য ডেলিগেশন হিসাবে বেগম খালেদা জিয়া, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান সাবিহউদ্দিন আহমদকে রাখা হয়।

চেয়ারপারসনের পিএস এবিএম আবদুস সাত্তার স্বাক্ষরিত এই তালিকায় ‘লিস্ট অব এন্টুরেজ (প্রতিনিধি দলের সহযোগীদের তালিকা)’-এ ছিল পাঁচজনের নাম। তারা হলেন- শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাব্বির-উল কারিম, কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ ইছহাক মিয়া, এবিএম আবদুস সাত্তার ও নুরুদ্দীন আহমেদ। এই তালিকাটি চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌছে দেন লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৈঠকে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলের মধ্যে ছয়জন নির্ধারিত সময়ে সেখানে উপস্থিত হলেও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং ক্যারিয়ার ডিপ্লোমেট প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য রিয়াজ রহমান আসতে পারেননি। তিনি যখন অকুস্থলে হাজির হন তখন বৈঠক শুরু হয়ে গেছে। আসতে বিলম্ব হওয়ায় নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে হোটেলে প্রবেশের অনুমতি দেননি।

রিয়াজ রহমান জানান, ভয়াবহ যানজটে পড়েন তিনি। ফলে বেশ আগেই বাসা থেকে রওনা দিয়েও নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে পারেননি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন সিনিয়র নেতা জানান, বৈঠক টেবিলের একপাশে চীনা প্রেসিডেন্টসহ তাদের প্রতিনিধি এবং অপর পাশে বিএনপি চেয়ারপারসনসহ সাতজনের জন্য সাতটি চেয়ার নির্ধারিত ছিল। রিয়াজ রহমান না থাকায় একটি চেয়ার ছিলো শূন্য। ঐ চেয়ারে বসার মতো দলের অপর কোন সিনিয়র নেতা সেখানে ছিলেন না। ফলে সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে হয়েছে সেইখানে উপস্থিতদের মধ্য থেকেই। স্বাভাবিকভাবেই উপস্থিতদের মধ্যে যিনি রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদায় সিনিয়র তিনি যোগ দিয়েছেন। বেগম জিয়ার কথায় ওই চেয়ারে বসেন শিমুল বিশ্বাস।

এই বিষয়ে লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, বৈঠকে শিমুল বিশ্বাসের উপস্থিত থাকা নিয়ে দলে বিপর্যয় বা কেয়ামত হয়ে যাচ্ছে এমনটা তো দেখছি না। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার কি আছে। চেয়ারপারসন যদি অনুমতি দেন, সেক্ষেত্রে যে কেউ থাকতে পারেন। এটা চেয়ারপারসনের এখতিয়ার। দলের প্রধান তিনি। চেয়ারপারসন যদি মনে করেন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র শিমুল বিশ্বাসের কাছে থাকে তবে তাকে নিতে পারেন। তিনি বলেন, প্রতিনিধি দলের সহযোগীদের তালিকায় তার নাম ছিলো। মূল তালিকায় ছিলো না।

অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস জানান, দলের চেয়ারপারসনের পক্ষ থেকে যে তালিকা দেয়া হয় সেখানে তার নামও ছিল। চেয়ারপারসনের অনুমতি ছাড়া তিনি কিছুই করেননি। তার অনুমতিতেই তিনি বৈঠকে অংশ নেন।

শিমুল বিশ্বাস জানান, শুরুতেই তিনি চেয়ারে বসেননি। প্রতিনিধি দলের সদস্য রিয়াজ রহমান বৈঠকে উপস্থিত হতে পারছেন না বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই চেয়ারপারসন তাকে ওই চেয়ারে বসতে বলেন। তখন তিনি বসেন।

  •