ক্ষণে ক্ষণে আতকে উঠছে নার্গিস

প্রকাশিত: ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০১৬

হাসপাতালে জীবন মরণ প্রশ্নে ১১ দিন পেরিয়ে গেল খাদিজা আক্তার নার্গিসের। মুক্তি মিলেছে লাইফ সাপোর্ট থেকে। কেটে গেছে জীবন শঙ্কাও। তবে কাটেনি আতঙ্ক। জ্ঞান ফেরার পর থেকেই ক্ষণে ক্ষণে আঁতকে উঠছেন।

রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খাদিজা আক্তার নার্গিস নিঃশব্দে কাঁদছেন পরিচিত কাউকে দেখলেই।

হাসপাতালে খাদিজাকে দেখে এসে তার চাচা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘খাদিজার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি হওয়ায় ওকে দেখতে আসার জন্য চিকিৎসকরা বলেছিলেন। তাই দেখতে আসছিলাম। এ সময় সে আমাদের দিকে তাকিয়ে দেখছিল এবং ডান হাত ও পা নাড়াচ্ছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই কেমন যেন চমকে উঠে কাঁদতে শুরু করে সে।’

চাচা আব্দুল কুদ্দুসের ধারণা, বখাটে ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের সেই নির্মম নৃশংসতার কথা মনে পড়াতেই হাসপাতালের বিছানায় আঁতকে উঠছেন খাদিজা। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘খাদিজার বাম দিক এখনো আগের মতো রয়েছে। সেটা স্বাভাবিক হবে কিনা, তা বলতে পারছেন না ডাক্তাররা। তিন মাসের আগে এ ব্যাপারে কিছু বলা যাবে না বলে জানিয়েছেন তারা।’

উল্লেখ্য, ৩ অক্টোবর ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা দিতে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়েছিলেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী খাদিজা বেগম নার্গিস। বিকালে পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক বদরুল আলম (২৭)।

পরে অন্য শিক্ষার্থীরা বদরুলকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। ঘটনার দিন গুরুতর আহত অবস্থায় খাদিজাকে প্রথমে সিলেটে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়।

সেখানে খাদিজার দুই দফা অস্ত্রোপচার করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। অস্ত্রোপচার শেষে তাকে টানা ৯২ ঘণ্টা লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে গত বুধবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৯টায় লাইফ সাপোর্ট খুলে দেয়া হয় নার্গিস।

এ ঘটনায় খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে সিলেট শাহপরান থানায় বদরুল আলমকে আসামি করে হত্যা চেষ্টা মামলা করেন। ছাত্রলীগ নেতা বদরুল খাদিজার ওপর হামলার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট