“সুন্দরবন ধ্বংস করে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প করা যাবে না”

প্রকাশিত: ১১:৪৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০১৬

সুন্দরবন ধ্বংস করে কোন যুক্তি দিয়েই রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প করা যাবে না, অবিলম্বে সুন্দরবন ধ্বংসী কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করতে হবে বলে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
শুক্রবার (১৪ আক্টোবর) বিকালে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্টিত জাতীয় কমিটির সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ প্রধান বক্তার বক্তব্যে এই দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, আমরা দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞদের যুক্তিক মতামত ও জনমতের ভিত্তিতে সুন্দরবন বিনাশী রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের জন্য ধারাবাহিক আন্দোলন করে অভূতপূর্ব মাত্রা লাভ করলেও সরকার এখনও এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একগুয়েমীর সাথে কালক্ষেপন করছে এবং অন্যদিকে বিজ্ঞাপনী ভাড়াটে মিথ্যাচারের পাশাপাশি সুন্দরবন রক্ষা আন্দোলনের উপর দমনপীড়ন বৃদ্ধি করেছে।
তিনি বলেন, বৈজ্ঞানিক তথ্য যুক্তিতে পরাজিত হয়ে, দেশীবিদেশী কতিপয় গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে, সুন্দরবন বিনাশে সরকার শক্তিপ্রয়াগের পথ গ্রহণ করছে। এটা তাদের শক্তির নয় দুর্বলতার প্রকাশ, তাদের নৈতিক পরাজয়ের লক্ষণ।
বিভাগীয় সমাবেশ তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি সিলেট জেলা শাখার সভাপতি ব্যারিষ্টার মোঃ আরশ আলীর সভাপতিত্বে ও জেলার সাধারণ সম্পাদক এড্যাভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমন এর পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশিদ ফিরোজ, গণ সংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকী, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফকরুদ্দিন কবির আতিক, জাতীয় কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য কল্লোল মোস্তফা, জাতীয় গণফ্রন্টকেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমিরুন নুজহাত মনিষা, সাম্যবাদী দল সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক কমরেড ধীরেণ সিংহ, ওয়ার্কার্স পার্টি সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক সিকান্দর আলী , গণতন্ত্রী পার্টি সিলেট জেলার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জুনেদুর রহমান চৌধুরী , মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সদস্য সচিব এড্যাভোকেট ময়নুর রহমান মগনু, হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য এড্যাভোকেট জুনায়েদ আহমদ ও সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য সত্যজিৎ চন্দন।
সভায় বক্তরা বলেন , ইউনেস্কো বৈজ্ঞানিক তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে স¤প্রতি সরকারকে দেখিয়েছে, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে সুন্দরবন কীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তারা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সহ সুন্দরবনের জন্য হুমকিস্বরূপ সব বাণিজ্যিক তৎপরতা বন্ধ করতে বলেছে। ইউনেস্কো টিম যখন বাংলাদেশ সফর করে তখন তাদের পরিকল্পনা ছিলো, দুইপক্ষের কথাই তারা শুনবে। কিন্তু সরকার নানা বাহানা সৃষ্টি করে আমাদের সাথে কোনো সভা করবার সময় রাখেনি। তারপরও তারা স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ করে যথাযথ সিদ্ধান্তে এসেছে। কোম্পানি, ভূমিগ্রাসী ও বনগ্রাসী গোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত না হলে, নির্মোহ বিচার বিশ্লেষণ করলে সরকারও যে একই সিদ্ধান্তে আসবে সেটা আমরা নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি।
বক্তারা আরও বলেন, পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বা মোবাইলে মৃত্যুর হুমকি দিয়ে আন্দোলনকে বন্ধ করা যাবে না। দেশের মানুষ মহাপ্রাণ সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনকে আর বেগবান করে সুন্দরবন ধ্বংসী রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করতে সরকারকে বাধ্য করবে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট