প্রধানমন্ত্রীকে সংসদে ধন্যবাদ

প্রকাশিত: ৪:০৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০১৬

জাতিসংঘে নারী-পুরুষের সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ‘প্লানেট ফিফটি ফিফটি চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘এজেন্ট অব চেইঞ্জ এ্যাওয়ার্ড’ প্রাপ্তির মাধ্যমে দেশ ও জাতির জন্য বিরল সম্মান অর্জন করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনে মঙ্গলবারের বৈঠকে সর্বসম্মতক্রমে জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে এ ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়। মাগরিবের নামাজের বিরতীর পর প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর বিশেষ আলোচনা শুরু হয়। পরে ডেপুটি স্পিকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।

কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ বিধির আওতায় এই ধন্যবাদ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন সরকারি দলের সিনিয়র সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম।

ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু যেভাবে সব মানুষকে আপন করে ও বুকে টেনে নিতে পারতেন- শেখ হাসিনাও তেমনি বঙ্গবন্ধুর পথ ধরে রেখে মানুষকে ভালোবেসে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

তারা বলেন, দেশের একজন নেত্রী (খালেদা জিয়া) জ্বালাও-পোড়াও ও মানুষ পুড়িয়ে মারার রাজনীতি করছেন। আরেকজন নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত মোকাবেলা করে দেশকে উন্নয়ন-অগ্রগতির মহাসড়কে তুলে এনে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। নিজের যোগ্যতা, সাহসীকতা, দূরদৃষ্টি ও প্রাজ্ঞতায় দেশের গন্ডি পেরিয়ে শেখ হাসিনা আজ বিশ্বনেত্রীতে পরিণত হয়েছেন। সারাবিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাই দেশের ১৬ কোটি মানুষের গর্ব ও একমাত্র ঠিকানা হচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। দেশের জন্য তিনি হচ্ছেন আশীর্ব্বাদ।

ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করে শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, এ অর্জন শেখ হাসিনার, দেশবাসীর। সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে সারাবিশ্বে বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এখন শুধু বাংলাদেশের নয়, সারাবিশ্বের নেত্রীতে পরিণত হয়েছেন। নারীর ক্ষমতায়নে গোটা বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। যথার্থ কর্মের কারণেই জাতিসংঘ শেখ হাসিনা এ পুরস্কার দিয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট দেশকে ধ্বংস করে রেখে গিয়েছিল। সব ষড়যন্ত্র ও ধ্বংস হওয়া দেশকে তিনি উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে গেছেন, সারাবিশ্বের সামনে দেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছেন। শেখ হাসিনাকে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। জঙ্গী-সন্ত্রাসবাদ দমনেও সারাবিশ্বের প্রশংসা কুড়াচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, শেখ হাসিনা একজন দুঃসাহসী অভিযানের সফল নেত্রী। সর্বহারা হয়ে দেশে ফিরে এসে আজ সারাবিশ্বের নেত্রী হয়েছেন। একজন নেত্রী জ্বালাও-পোড়াও, ধ্বংসাত্মক রাজনীতি করছেন, মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করছেন। দেশের এই গণতন্ত্র বার বার ক্যান্টনমেন্টে বন্দী থেকেছে, বার্ণ ইউনিটে আবদ্ধ থেকেছে। কিন্তু সব বাধা, ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত মোকাবেলা করেই পথহারা বাংলাদেশকে সঠিক নেতৃত্ব দিয়ে উন্নয়ন-সমৃদ্ধির মহাসড়কে নিয়ে গেছেন শেখ হাসিনা। শুধু নারীর নয়, জনগণের ক্ষমতায়ন করেছেন শেখ হাসিনা।

জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই বিরল সম্মান ও অর্জনে গোটা বাংলাদেশ গর্বিত। তার এই অর্জন বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করেছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, তার দেশপ্রেম ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা- সবকিছুই শেখ হাসিনার মধ্যে দেখা যায়। বঙ্গবন্ধু যেভাবে সব মানুষকে আপন করে ও বুকে টেনে নিতে পারতেন- শেখ হাসিনাও তেমনি বঙ্গবন্ধুর পথ ধরে রেখে মানুষকে ভালোবেসে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি নারীর ক্ষমতায়নে শেখ হাসিনার অবস্মরণীয় অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, তার নেতৃত্বে সব নারী আজ উন্নয়ন-সমৃদ্ধিতে অংশ নিচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর মতোই সাহসী নেতৃত্ব দিয়ে শেখ হাসিনা দেশকে আজ সবদিক থেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এরই স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। আর এই বিশাল অর্জন তিনি দেশবাসীকে উৎসর্গ করেছেন।

সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু বলেন, শেখ হাসিনা হচ্ছেন বাংলাদেশের জনগণের আশীর্বাদ। তিনি শুধু নারীর ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্যমুক্ত করেননি, দেশের মানুষকে আত্মমর্যাদা দিয়েছেন। কারোর অনুকম্পা বা দয়ায় নয়, নিজ কর্মদক্ষতায় দেশের ১৬ জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, সারাবিশ্বের একশ’ বিশ্ব নেতৃত্বের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হচ্ছেন অন্যতম। শেখ হাসিনা বিশ্বের একমাত্র মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ১৩ বছর ধরে সফল নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে সারাবিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। আগে দেশের মানুষ ভাবতো কী খাব, কী পড়বো। এখন সেই অবস্থা আর নেই। দেশ থেকে তিনি দারিদ্র্যতা দূর করে দিয়েছেন। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের ঠিকানা, গর্ব। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারাবিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।

ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, সাবেক মন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ড. হাছান মাহমুদ, তাজুল ইসলাম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেগম মেহের আফরোজ চুমকি, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, সানজিদা খানম, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, সাগুফতা ইয়াসমিন,খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ফজিলাতুন নেসা বাপ্পী, এ কে এম শাহজাহান কামাল, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, আবু জাহির।

এছাড়া জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিন, ফজলুর রহমান, জাসদের মাঈনুদ্দিন খান বাদল, তরিকত ফেডারেশনের মুজিবুল বশর মাইজভান্ডারী আলোচনায় অংশ নেন।

আলোচনা শেষে স্পিকার প্রস্তাবটি ভোটে দিলে সর্বসম্মতক্রমে গৃহীত হয়। এ সময় সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান।

লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে দুটি পুরস্কার তুলে দিয়েছে জাতিসংঘ।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরের ইউএন প্লাজায় বাংলাদেশ সময় ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীকে ‘প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীকে জাতিসংঘ উইমেন ‘প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ এবং গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরাম ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ দেন।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট