ছুরিকাঘাতে আহত কলেজছাত্রীর বাঁচার সম্ভাবনা ‘ক্ষীণ’

প্রকাশিত: ১:৩৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০১৬

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ নেতা বদরুল ইসলামের ছুরিকাঘাতে আহত কলেজছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসের ‘বেঁচে ওঠার সম্ভাবনা খুবই কম’ বলে জানিয়েছে চিকিৎসকেরা।

সোমবার বিকালে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসে খাদিজাকে ছুরিকাঘাতের পর তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাতে সিলেট থেকে ঢাকায় পাঠানো হয় তাকে।

তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

হাসপাতালের একজন চিকিৎসক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, খাদিজার মাথায় একের পর এক আঘাতের কারণে তার বেঁচে উঠার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছেন তারা। তাকে হাসপাতালের নিবিঢ় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

খাদিজার মাথার সিটিস্ক্যান করা হয়েছে জানিয়ে ওই চিকিৎসক জানান, এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর খাদিজার মাথায় অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে মেয়েটির সুস্থ হয়ে ফিরে আসার সম্ভাবনা পাঁচ শতাংশের বেশি নয় বলে মনে করছেন ওই চিকিৎসক।

সোমবার বিকালে সিলেট মহিলা কলেজে খাদিজাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। তার প্রেমিক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা বদরুল ইসলাম এই হামলা করেছেন বলে অভিযোগ আছে। এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে গেছে।

এই ঘটনার পর বদরুলকে ধরে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। বদরুল আহত অবস্থায় এখন সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বদরুল ইসলাম শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইমরান আহমদ।

বদরুলকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইমরান।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও জানিয়েছে, বদরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে তারাও।

এদিকে এই ঘটনার বিচার চেয়ে সকালে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন খাদিজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‍সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা বদরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন এবং আগামীকাল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

সোমবার বিকেলে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসে খাদিজাকে ছুরিকাঘাতের পর তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাতে সিলেট থেকে ঢাকায় পাঠানো হয় তাকে।

খাদিজার মাথা, হাত ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত আছে। তার মাথার ক্ষত গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

সিলেটের শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকরাতা শাহজালাল মুন্সি জানান, এই ঘটনায় এখনো কেউ মামলা করেনি। খাদিজার পরিবার মামলা না করলে পুলিশই মামলা করবে বলে জানান তিনি।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বদরুলের সঙ্গে খাদিজার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কয়েক দিন ধরে তাদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন বদরুল।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট