অবস্থা সংকটাপন্ন, ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে খাদিজা

প্রকাশিত: ৭:২৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০১৬

34311_thumbm_it2রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার শেষে ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে ছাত্রলীগ নেতার ছুরিকাঘাতে আহত সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে।

মাথার অপারেশন শেষে মঙ্গলবার বিকেলে ডা. এ এম রেজাউল সাত্তার এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে ভ্যান্টিলেশন দিয়ে। ৭২ ঘণ্টা পর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানাতে পারবো।

ওই চিকিৎসক আরো বলেন, ৭২ ঘণ্টা পর তার নিউরোলজিক্যাল স্ট্যাটাস অ্যাসেস করবো। এগুলো অ্যাসেস করার পর শরীরের আঘাতগুলোতে অর্থপেডিক চিকিৎসা দেয়া হবে।

ডাক্তার রেজাউস সাত্তার জানান, নার্গিসের মাথায় অনেকগুলো কোপ থাকায় তার মস্তিষ্ক কাজ করছে না। এ অবস্থায় তার বাঁচার আশা ক্ষীণ।

নার্গিসের চাচা জানান, তার বাবা সৌদি আরবে রয়েছেন এবং বড় ভাই থাকেন চীনে। পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি এবং কয়েকজন হাসপাতালে রয়েছেন।

সোমবার রাতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নার্গিসের অবস্থার অবনতি হলে নার্গিসকে ঢাকায় আনা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভোর ৬টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

নার্গিস সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। সোমবার বিকেলে ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম কুপিয়ে তাকে জখম করে। ঘটনার পর হামলাকারী বদরুলকে আটকের পর পুলিশে সোপর্দ করে শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ইমরান নামে এক ছাত্র বলেন, একটি মেয়েকে মসজিদের পেছনে কোপাতে দেখে এগিয়ে যাই। কলেজ কর্তৃপক্ষ ও অন্যদের সহায়তায় আমরা মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসি।

এদিকে হামলাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে এমসি কলেজের ছাত্র-শিক্ষকসহ সর্বস্তরের মানুষ। ঘাতক ছাত্রলীগ নেতার ফাঁসি চেয়ে সকালে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ শিক্ষার্থীরা।

তারা বদরুলের শাস্তির দাবিতে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন এবং বুধবার জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়ার ঘোষণা দেন।

সোমবার বিকেলে সিলেট মহিলা কলেজে খাদিজাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। তার কথিত প্রেমিক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা বদরুল ইসলাম এই হামলা করেন। এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে গেছে।

এই ঘটনার পর বদরুলকে ধরে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। বদরুল আহত অবস্থায় এখন সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বদরুল ইসলাম শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইমরান আহমদ।

বদরুলকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইমরান।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বদরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে তারাও।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট