সিলেটে যুবদলের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত তৃণমূল নেতাকর্মীরা

প্রকাশিত: ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৬

প্রভাব পড়ছে স্থানীয় বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে

আবদুর রশিদ রেনু ।। দীর্ঘদিন ধরে সিলেটে যুবদলের দুটি কমিটি না থাকায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বিএনপির এই অঙ্গ সংগঠনটি। যার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে। কেন্দ্রে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের কমিটি গঠনের ব্যাপারে বারবার দাবি জানালেও বিষয়টি তারা আমলে নিচ্ছেন না। কেন্দ্রের উদাসীনতার কারণে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে এখন বিলুপ্তির পথে যুবদল। বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি পালনে মূল দলের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, বিচ্ছিন্নভাবে ছাত্রদল ছাড়াও আরও কয়েকটি সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মাঠে থাকলেও শুধু নেই যুবদল। সিলেটে যুবদলকে এমন নিষ্ক্রিয় করে রাখার জন্য স্থানীয় নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়ী করছেন।

সিলেট পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হয়েছে ১৬ বছর আগে। এর মধ্যে শহর থেকে মহানগরে উন্নীত হয় সিলেট। ইতিমধ্যে সিটি কর্পোরেশনের তিনটি নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কমিটিও শহর ও মহানগরে কমিটি গঠিত হয়। মহানগরীতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে ছোটবড় সব রাজনৈতিক দলের কমিটিই। চারদিকে লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া। ব্যতিক্রম শুধু বিএনপির অঙ্গ সংগঠন যুবদল।। এজন্য স্থানীয় নেতাকর্মীরা দায়ী করছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের। স্থানীয় যুবদলের একাধিক নেতা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা সাংগঠনিক পদবি ব্যবহার করে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের খবর রাখার সময় থাকে না তাদের। তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে কেন্দ্র কী পরিমাণ উদাসীন তার উদাহরণ সিলেট মহানগর কমিটি না হওয়া। যে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বিভাগীয় শহরে থাকা মহানগর কমিটিই যেখানে প্রাণ বলে বিবেচিত সেখানে ‘মহানগর’ যুবদলের কোনো অস্তিত্ব নেই। এটাকে কেউ কেউ দেখছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ব্যর্থতা হিসেবে। তারা মনে করেন, মাঠ পর্যায়ে এর প্রভাব পড়েছে সরকারবিরোধী আন্দোলনে। এ ছাড়াও মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৪ বছর অতিবাহিত হলেও জেলা যুবদলের কমিটি গঠনে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সার্বিকভাবে সিলেট যুবদল এখন অনেকটা অস্তিত্বহীন।

জানা যায়, ২০০০ সালে গোপন ভোটের মাধ্যমে জেলা যুবদলের কমিটি গঠিত হয়। গোপন ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন সভাপতি কামাল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক তালাত আজিজ ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিকুর রহমান সাদিক। এক বছরের মাথায় পারিবারিক কারণে সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি নেন কামাল আহমদ। ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান আবদুল মান্নান। কিছু দিন পর দলের সাধারণ সম্পাদক তালাত আজিজ স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চলে যান যুক্তরাজ্যে। দুই বছর আগে তিনি সেখানে মারা যান। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান মামুনুর রশীদ মামুন। এর পর থেকে আর ভারমুক্ত হয়নি জেলা যুবদল। নতুন কমিটি গঠনেরও কোনো উদ্যোগ নেই। ১৬ বছর বয়সের জেলা যুবদলের নেতা এখন মাত্র একজন। সভাপতি স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ায় এখন জেলা যুবদলের হরাধনের নীলমণি হয়ে সক্রিয় আছেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ মামুন। জেলা যুবদলের নেতৃত্ব মেয়াদ উত্তীর্ণের পর থেকে বারবার কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানালেও স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি আমলে নেয়নি কেন্দ্র। এই অবস্থায় সিলেট যুবদলের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট