ওয়াশিংটনে মতবিনিময় সভায় শেখ হাসিনা প্রবাসীদের কাছে আমি ঋণী ও কৃতজ্ঞ

প্রকাশিত: ১২:২৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৬

দেশ বিরোধীদের ঠাঁই আর স্বাধীন বাংলাদেশে হবে না
1039ওয়াশিংটন থেকে এনা : প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে আমার ঋণ অনেক। যখনই বাংলাদেশ সংকটে পড়েছে তখনই প্রবাসী বাংলাদেশীরা এগিয়ে এসেছে। বিশেষ করে ১/১১ এর তত্ত¡াবধায়ক সরকারের সময় দেশে ফেরার সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায় শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশী আমার সাথে দেশে গিয়েছিলেন। প্রবাসীদের সাহসী ভূমিকার জন্য আজো আমি বেঁচে আছি। এখনো আল্লাহর রহমতে দেশের মানুষের সেবা করে যাচ্ছি। ১/১১ এর সময় প্রবাসী বাংলাদেশীদের শক্তি ও সাহসের জন্য আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিকালে ওয়াশিংটনের অদূরে ভার্জিনিয়ার টাইসন কর্ণারের রিটজ কার্লটন হোটেল বলরুমে বৃহত্তর ওয়াশিংটনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। সব্যসাচী লেখক কবি সৈয়দ শামসুল হকের মৃত্যুতে এই মতবিনিময় সভায় তেমন কোন আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। তিনি আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন কবি সৈয়দ শামসুল হকের মৃত্যুর কারণে তিনি জন্ম দিনের অনুষ্ঠান করবে না। যে কারণে জন্মদিনের কেক কাটা হয়নি। ওয়াশিংটনের কর্মীদের সাথে আলাদা আলাদা বৈঠক করার কথা থাকলেও তা করেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে বঙ্গবন্ধুর খুনি হিসাবে উল্লে¬খ করে বলেন, হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসেছিলেন এবং যতদিন ক্ষমতায় ছিলেন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ছিলেন। তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, অপরাধীদের বিচার হচ্ছে, জতির জনকের হত্যার বিচার হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচারসহ সকল হত্যাকান্ডের বিচার আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন দৃঢ়চিত্তে বলেন, দেশ বিরোধীদের ঠাঁই আর স্বাধীন বাংলাদেশে হবে না। ডিজিটাল বাংলাদেশের সাফল্যের কথা উল্লে¬খ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবতায় রূপ দিতে আমাদের সরকার যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের তৃণমূল পর্যায়ে প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি সেবা পৌঁছে দেবার অভিপ্রায়ে দেশের ৪৫৫০টি ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপন করা হয়েছে ডিজিটাল সেন্টার। তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বিশাল ন্যাশনাল ওয়েব পোর্টাল। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এ পোর্টালের সংখ্যা প্রায় ২৫০০০। দেশের সবকটি উপজেলাকে আনা হয়েছে ইন্টারনেটের আওতায়। টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বর্তমানে বাংলাদেশে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা ১২ কোটি ৩৭ লাখ এবং ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ৪ কোটি ৪৬ লাখে উন্নীত হয়েছে। সেবা প্রদান প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করতে চালু করা হয়েছে ই-পেমেন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিং। মহাকাশে বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করার সকল ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিদ্যুৎ খাতে বাংলাদেশের উলে¬øখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ৬ হাজার ৩২৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সংযোজন, যার ফলে বিদ্যুতের সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৪৭ শতাংশ থেকে ৬২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। একই সাথে মাথা পিছু বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ২২০ কিলোওয়াট থেকে বেড়ে ৩৪৮ কিলোওয়াট দাঁড়িয়েছে। নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে ৩৫ লাখ গ্রাহককে।নির্মাণ করা হয়েছে নতুন ৬৫টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র। তিনি বলেন, শিক্ষাকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেবার জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো- শতভাগ ছাত্রছাত্রীর মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ কার্যক্রম। নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নেবার জন্য প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত চালু করা হয়েছে উপবৃত্তি ব্যবস্থা। ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নতুন করে জাতীয়করণ করেছে। শিক্ষার সুবিধাবঞ্চিত গরিব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে “শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইন, ২০১২ প্রণয়ন করা হয়েছে, গঠন করা হয়েছে “শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট”।
শিশু ও নারীর সার্বিক উন্নয়নের কথা উলে¬øখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নারীর সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে “জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা-২০১১”। নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত চালু করা হয়েছে উপবৃত্তি কার্যক্রম। সমাজের প্রতিটি স্তরে নারী অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করতে গৃহীত হয়েছে নানামুখী পদক্ষেপ। প্রযুক্তি জগতে নারীদের প্রবেশকে সহজ করতে ইউনিয়ন ডিজিটাল কেন্দ্রের মতো ইউনিয়ন ভিত্তিক তথ্যসেবায় উদ্যোক্তা হিসেবে একজন পুরুষের পাশাপাশি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে একজন নারী উদ্যোক্তাকেও। “জাতীয় শিশু নীতি-২০১১” প্রণয়নের মাধ্যমে সুরক্ষিত করা হয়েছে শিশুদের সার্বিক অধিকারকে। দেশের ৪০টি জেলার সদর হাসপাতাল এবং ২০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্স স্থাপন করা হয়েছে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল। দু:স্থ্, এতিম, অসহায় পথ-শিশুদের সার্বিক বিকাশের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ১৫টি শিশু বিকাশ কেন্দ্র। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের নারী ও শিশুর উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য জাতিসংঘের সাউথ সাউথ, চ্যাম্পিয়ান অব দ্যা আর্থ, ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ফর আইসিটি, প¬ানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন ও এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওর্য়াড ইত্যাদি এওয়ার্ডে ভূষিত করা হয়েছে।
প্রায় পঞ্চাশ মিনিটের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রবাসী শ্রমিকদের উন্নয়ন, শিল্প ও বাণিজ্য খাতে সফলতা অর্জনসহ নানা বিষয়ে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। দেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবাসীদেরকে আরো বেশি করে দেশের উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত হবার আহŸান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছি। তাই পরিবারকে তেমন সময় দেয়া হয়ে উঠে না। ওয়াশিংটনে বসেও প্রতিদিন ছয় ঘন্টা করে অফিস করে দেশের জরুরী কাজ সমাধান করেছি। বাংলাদেশকে জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার সংকল্পে ঝাঁপিয়ে পড়েছি।
মতবিনিময় সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী হোটেল ছেড়ে চলে যাবার পর সভাস্থলে বাইরে বিএনপি-জামাতের কর্মীকে বিক্ষোভ করে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট