বেগম খালেদা জিয়ার ৯ম কারামুক্তি দিবস আজ

প্রকাশিত: ৩:৪৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৬

বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৯ম কারামুক্তি দিবস আজ। ২০০৮ সালের এই দিনে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় আপসহীন এই নেত্রীকে ৩৭২ দিন কারাভোগের পর আদালতের নির্দেশে মুক্তি দেয়া হয়। এক-এগারোয় অবৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখলের পর তা পাকাপোক্ত করতে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের সাজানো মামলা দিয়ে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ভোরেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে ক্যান্টনমেন্টের শহীদ মইনুল রোডের বাড়ি থেকে যৌথ বাহিনী গ্রেফতার করে। কারামুক্তি দিবসটির স্মরণে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বাণীতে জনগণের অকুন্ঠ সমর্থন ও আস্থা এবং দেশ ও জনগণের প্রতি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ় কমিটমেন্টে ষড়যন্ত্রকারীদের সকল কূটকৌশল ব্যর্থ হয়ে যায় এবং এক বছর পরে তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। কোনো চক্রান্তকারীই তার সংগ্রামকে পরাভূত করতে পারেনি। : শত বাধা-বিপত্তি ও নির্যাতন-নিপীড়নের মাঝেও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী সব শক্তির বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী আদর্শের পতাকা নিয়ে ছুটে চলেছেন আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সেনাপ্রধানের স্ত্রী হিসেবে সুখময় জীবন থেকে দেশের মানুষের আহবানেই তিনি আসেন কণ্টকাকীর্ণ রাজনীতিতে। এজন্য তাকে অনেক ত্যাগের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। হারাতে হয়েছে পারিবারিক সব সুখ-শান্তি। এমনকি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের বিচারে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এ রাজনৈতিক নেতাকে কাটাতে হয়েছে ৩৭২ দিন কারা অন্ধকারে।  সেনাসমর্থিত সরকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা, হামলা, অবরুদ্ধ করে তাকে রাজনীতি থেকে বিদায় করতে চাচ্ছে। তাকে সাজানো মামলায় আবারো কারাগারে পাঠানোর হুমকি দিচ্ছে। : মূলত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হওয়ার পর থেকেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবনধারা মিশে যায় বাংলাদেশের মানুষের সাথে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর নৃশংসভাবে ঝাঁপিয়ে পড়লে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট থেকে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে বিদ্রোহ ঘোষণা করে  কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করার পর স্বাধীনতা যুদ্ধের দীর্ঘ ৯ মাস বেগম খালেদা জিয়া দুই সন্তানসহ গৃহবন্দি ছিলেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্টের সহধর্মিণী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া এ সময় দেশ-বিদেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেন ও রাষ্ট্র পরিচালনার কিছু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন। ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে আসেন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালের ৮ জানুয়ারি সংবাদপত্রে এক বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি শোষণহীন, দুর্নীতিমুক্ত, আত্মনির্ভরশীল দেশ গঠনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেছিলেন। বিগত কিছুকাল যাবৎ আমি বিএনপির কার্যক্রম গভীরভাবে লক্ষ্য করেছি। দলের ঐক্য ও সংহতি বিপন্ন হতে পারে এমন মনে করে আমাকে দলের দায়িত্ব নেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। তাই দলের বৃহত্তর স্বার্থে বিএনপিতে যোগ দিয়েছি ও দলের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হয়েছি। রাজপথের নেত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া ১৯৮৪ সালের আগস্ট মাসে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর তাঁর ওপর নানাবিধ হুমকি আসতে থাকে, চক্রান্ত চলতে থাকে তাঁকে ব্যর্থ করে দেয়ার।  ১৯৮৬ সালের এরশাদের পাতানো নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ওয়াদা করেছিলেন, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে কেউ যাবেন না। যারা যাবে তারা জতীয় বেঈমান হিসেবে চিহ্নিত হবে। সেই নির্বাচনে শেখ হাসিনা গিয়ে জাতির কাছে জাতীয় বেঈমান হন।  আর  সাধারণ নির্বাচনে না গিয়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রজনতা তাকে আপসহীন দেশনেত্রীর উপাধিতে ভূষিত করে। : তাঁর নেতৃত্বেই গনঅভ্যুত্থানে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচারী এরশাদ ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দিনের সরকারের অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করলে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়। জয়ী হয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর তিনি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এ সময় অভিন্ন নদীর পানি প্রাপ্তিতে আমাদের ন্যায্য পানির হিস্যা আদায়ে বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘের অধিবেশনে বলিষ্ঠ কন্ঠে দাবি করেছিলেন পানির জন্য। ১৯৯৬ সালের  ১২ জুন প্রশাসনিক কারচুপির নির্বাচনেও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি ১১৬টি আসন পেয়ে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে গণতন্ত্র ও দেশের উন্নয়নে ছায়া সরকার হয়ে কাজ করেছেন। ২০০১ সালে জনগণের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচনে ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে বিজয়ী হয়ে তৃতীয়বারের মতো  রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার পান বেগম খালেদা জিয়া। এ সময় নির্বাচনের কৌশল নির্ধারণে পিতা-মাতার যোগ্য উত্তরসূরি বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও বিএনপির বর্তমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অবদান রেখেছিলেন। এ সময় অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সন্ত্রাস দমন, শিক্ষা বিস্তারে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে বিএনপি সরকার। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠার তান্ডবে প্রকাশ্য রাজপথে মানুষ হত্যা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির করে  ১/১১’র পথ সৃষ্টি করে। দেশের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ভেঙে সেনা সমর্থিত কথিত ১/১১’র সরকার ক্ষমতা দখল করে। এসময় রাজনৈতিক দল ও গণতন্ত্র নিশ্চিত ধ্বংসের মুখে দাঁড়ালেও সমস্ত ভয়কে জয় করতে গণতন্ত্রের ঝান্ডা হাতে দেশবাসীর পাশে ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। ২০০৭ সালের ৭ মার্চ প্রথমেই গ্রেফতার করা হয় জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমানকে। এর ৬ মাস পর আটক করা হয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে। কারাবন্দি অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া তার প্রাণপ্রিয় মাকে হারান। প্যারোলে মাত্র দু ঘণ্টার মুক্তি পেয়ে তিনি তার মায়ের মুখ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান। জ্যেষ্টপুত্র তারেক রহমানকে নির্যাতন করে মেরুদন্ডের হাড় ভেঙে দেয়া হয়েছে। তার জন্য এ অভিজ্ঞতা ছিল মর্মান্তিক। আরও মর্মান্তিক এ কারণে যে, তার দুই সন্তানকেও এই সময়ে নানীর মুখ দেখার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়া হলেও তারা একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাননি। একেই বলে শাসক শ্রেণির নিষ্ঠুরতা। : বেগম খালেদা জিয়া বন্দি থাকা অবস্থায় এক-এগারো সরকারের বিরুদ্ধে এবং নিজ দলের রাজনীতি পরিচালনায় আইনজীবীদের মাধ্যমে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। গ্রেফতারকৃত দলীয় কর্মীদের সহায়তাদানের জন্য আইনজীবীদের নির্দেশ দেন। কারারুদ্ধ অবস্থায় তিনি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতেও অস্বীকৃতি জানান। আইনজীবীদের মাধ্যমে তিনি তার আপসহীন অবস্থানের কথা বারবার জাতিকে অবহিত করেন এবং অবৈধ সরকারকে বিদায় নিতে আহ্বান জানান। এতে জিয়া পরিবার এবং বিএনপির ওপর ওই সরকার নির্যাতনের খড়গ আরও বাড়িয়ে দেয়। তীব্র চাপের মুখে সরকার বিদায় নিতে বাধ্য হয়। তবে বিদায় বেলায় বিএনপির রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে গোপন আঁতাতের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখার কৌশল গ্রহণ করা হয়; যার ফল ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের পাতানো নির্বাচন ও আওয়ামী লীগের সরকার গঠন। সেনাসমর্থিত সরকারের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা দখল করে বহুল জনপ্রিয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে বিগত ৫ জানুয়ারি দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলোকে বাইরে রেখে একদলীয় নির্বাচনের আয়োজন করে অবৈধভাবে আবার ক্ষমতায় আসীন হয়। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ১৫৩ জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। শুরু হয়েছে দেশে একদলীয় শাসন, নির্যাতন ও লুটপাটের নতুন ইতিহাস। বিরোধীদল নিশ্চিহ্ন করার আরেক অধ্যায়। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তির ৯ম দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার এক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবিচল সংগ্রামকে চক্রান্তকারী কোনো শক্তিই পরাভূত করতে পারেনি।
  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট