মীর কাসেম আলীর দাফন সম্পন্ন

প্রকাশিত: ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৬

মানিকগঞ্জের ঘটনাস্থল থেকে: জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের চালা গ্রামে তাকে দাফন করা হয়।

শনিবার দিবাগত রাত পৌঁনে ৩টার দিকে মীর কাসেমের মরদেহ পৌঁছালে তা গ্রহণ করেন তার পরিবারের সদস্যরা। পরে কড়া নিরাপত্তায় সোয়া ৩টার দিকে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর পর মসজিদের উত্তর পাশে লেবু বাগানে তাকে সমাহিত করা হয়।

মীর কাসেম আলীর প্রথম জানাজায় ১০০ জন উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে তার পরিবারের সদস্য ছিল ৪০ জন। জানাজায় ইমামতি করেন মীর কাসেম আলীর ভাতিজীর জামাই আবুল হাসান।

এদিকে মীর কাসেম আলীর মরদেহ তার প্রতিষ্ঠিত মসজিদ সংলগ্ন স্থানে পৌঁছালে চতুর্দিক থেকে হাজার হাজার জনতা জানাজায় অংশ গ্রহণের চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশের কড়া বেরিকেড থাকায় সেখানে সাধারণ জনগণ কেউ উপস্থিত হতে পারে নি। এমনকি ওই মসজিদ সংলগ্ন এতিমখানার ছাত্রদেরও জানাজায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয় নি।

এদিকে মীর কাসেম আলীর পরিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ওই স্থান ত্যাগ করলে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিছুটা শিথিল করা হয়। তবে সাধারণ জনতাকে মীর কাসেমের কবরের পাশে ভিড়তে দিচ্ছে না পুলিশ।

মীর কাসেম আলীর মরদেহ গ্রহণ ও দাফন করতে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চালা গ্রামে আগে থেকেই ছিলেন তার পরিবারের ৪০ জন সদস্য।

এর আগে কাশিমপুর কারাগার থেকে রাত সাড়ে বারটার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িবহরের বেষ্টনীতে চারটি অ্যাম্বুলেন্স মীর কাসেম আলীর লাশ নিয়ে বের হয়ে মানিকগঞ্জের পথে রওনা হয়।

   (ভোরের পরপরই মীর কাসেমের কবরের পাশে আসতে শুরু করেছে এলাকাবাসী)

শনিবার রাত ১০টা ৩০মিনিটের দিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি কার্যকর করা হয় বলে কাশিমপুর জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক কারাগারের সামনে অপেক্ষামান সাংবাদিকদের অবহিত করেন।

তবে পরে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে।

                 (মানিকগঞ্জে মীর কাসেমের পরিবারের সদস্যদের গাড়িবহর)

উল্লেখ্য, জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ১৭ জুন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। পরোয়ানা জারির দিনই ঢাকার মতিঝিল এলাকার দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর পর ২০১৩ সালের ১৬ মে তার বিরুদ্ধে আদালতে ১৪টি অভিযোগ দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। ২৬ মে অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল-১, মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২-এ স্থানান্তর করেন।

৫ সেপ্টেম্বর মীর কাসেম আলীকে ১৪টি ঘটনায় অভিযুক্ত করে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল।

বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মীর কাসেমকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

আপিল: ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড থেকে বেকসুর খালাস চেয়ে আপিল করেন মীর কাসেম আলীর আইনজীবীরা। আপিলে তার খালাসের পক্ষে ১৮১টি যুক্তি তুলে ধরা হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি মীর কাসেমের পক্ষে প্রাথমিক যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।

গত ৯, ১০, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি মীর কাসেমের আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গত ৮ মার্চ মীর কাসেমের ফাঁসির দণ্ড বহাল রেখে রায় দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তবে বরাবরই মীর কাসেম আলী নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ অস্বীকার করেন।

রিভিউ খারিজ ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গত ১৯ জুন ফাঁসির দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন দাখিল করেন মীর কাসেম আলী। মোট ৮৬ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে ১৪টি যুক্তি দেখিয়ে ফাঁসির দণ্ড থেকে খালাস চাওয়া হয়।

গত ২৮ আগস্ট মীর কাসেমের রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষ হয়। মীর কাসেমের পক্ষে রিভিউ শুনানিতে অংশ নেন তার প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।

৩০ আগস্ট সকালে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে আপিল বিভাগ।

               (মানিকগঞ্জের পথে মীর কাসেমের লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স)

মীর কাসেম আলী ২ আগস্ট কারা-কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেন তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন না। প্রাণভিক্ষার বিষয়টি ফয়সালা হয়ে গেলে ফাঁসি কার্য্করের প্রক্রিয়া শুরু করে কারা কর্তৃপক্ষ।

সে মোতাবেক মীর কাসেমের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের শেষ সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া হয় শনিবার বিকেলে।

শেষে সরকারের নির্বাহী আদেশে ৩ আগস্ট রাত ১০ টা ৩৫ মিনিটে মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

  •