জামায়াত নেতা মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে

প্রকাশিত: ২:২৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৬

গাজীপুরের কাশিমপুর-২ কারাগারে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যু-দন্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে। রাত সাড়ে ১০টায় কার্যকর করা হয় বলে কারা ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। ফাঁসি কার্যকরের আগে কারাগারে প্রবেশ করেছেন আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেকার উদ্দিন, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম আলম, পুলিশ সুপার হারুন-অর রশিদ ও সিভিল সার্জন ডা. আলী হায়দার। ফাঁসি কার্যকরের আগে তাকে গোসল করিয়ে তওবা পড়ান কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারা মসজিদের খতিম হাফেজ মুফতি হেলাল উদ্দিন। এরপর তিনি দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করেন। শেষ মুহূর্তে তার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। এরপরই জমটুপি পরিয়ে কারারক্ষীরা তাকে ফাঁসির মঞ্চের দিকেই নিয়ে যান। ফাঁসি কার্যকরের পর সিভিল সার্জন তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। তার লাশের ময়নাতদন্ত কর এ্যাম্বুলেন্সে করে মানিকগঞ্জে পাঠানো হয়েছে। এদিকে কাশিমপুর কারা কম্পাউন্ড ও চারপাশে নেয়া হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তা। : এর আগে রায় কার্যকর করতে সার্বিক প্রস্তুতি নেয় কারা, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন। রিভিউ খারিজ হওয়ার পর থেকেই প্রস্তুতি নিতে থাকে কারা প্রশাসন। কাশিমপুর-২ কারাগারে প্রস্তুত করা হয় চার জল্লাদ। চার জল্লাদের নেতৃত্ব দেবেন জল্লাদ শাহজাহান। তার সঙ্গে থাকবেন দ্বীন ইসলাম, রিপন, শাহীন। এরা চারজনই কাশিমপুর কারাগারের বন্দি হওয়ায় ফাঁসিকার্যকর করতে আজ বাইরে থেকে কাউকে আনতে হয়নি। এদিকে ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি হিসেবে শনিবার : বিকেলে নির্মিত ফাঁসির মঞ্চে মহড়াও করেছেন চার জল্লাদ। : ফাঁসি কার্যকরের পর লাশ গ্রামের বাড়ি মনিকগঞ্জে পাঠাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে রাত ৮টা ৫০ মিনিটে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করেছে। এর আগে কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন-অর রশিদ। এ সময় এসপি বলেন, ‘আজ কারাগার ও আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে। এখানে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়ার চেষ্টা করছি। পুলিশের সঙ্গে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও রয়েছেন।’ : সরকারের নির্বাহী আদেশ পাওয়ার পর যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতির মধ্যেই গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে প্রবেশ করেছেন মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন। কারা প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্মকর্তাকে শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় কাশিমপুর কারাগারের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এর আধাপ্রন্টা আগে মীর কাসেমের সঙ্গে শেষ দেখা করে কারাগার থেকে ফিরে যান তার স্বজনরা।  এর আগে কারাগারে প্রবেশ করে ফাঁসির মঞ্চের যাবতীয় প্রস্তুতি দেখভাল করেন ডিআইজি প্রিজন্স গোলাম হায়দার।  অতিরিক্ত আইজি প্রিজন্স কর্নেল ইকবাল হাসানকে বেলা দেড়টার দিকে কাশিমপুর কারাগারে ঢুকতে দেখা যায়। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর জেলার নাসির আহমেদ জানান, দুপুরের পর সরকারের নির্বাহী আদেশ তাদের হাতে পৌঁছায়। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য গাজীপুরে চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে জানিয়ে এই বাহিনীর জনসংযোগ কর্মকর্তা মহসিন রেজা বিকালে বলেন, ঢাকায় প্রতিদিনের মতই ছয় প্লাটুন বিজিবি রাখা হয়েছে। : জামায়াতের মজলিসে শূরা সদস্য মীর কাসেম আলীর ফাঁসির আদেশ কার্যকর করতে সরকারি আদেশ পাওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ মীর কাশেমের স্বজনদের ডেকে আনেন। শেষবার দেখা করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষের ডাক পেয়ে বিকাল সাড়ে ৩টায় ছয়টি মাইক্রোবাসে করে কাসিমপুরে পৌঁছান তার পরিবারের সদস্যসহ ৪৫ জন আত্মীয়। তাদের মধ্যে মীর কাসেমের স্ত্রী, মেয়ে, পুত্রবধূসহ ৩৮ জনকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয় বলে জেলার নাসির আহমেদ জানান। সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে তারা যখন বেরিয়ে আসেন, গাজীপুরে তখন বৃষ্টি চলছে। কারাফটক থেকে বের হওয়ার পরপরই গাড়িতে উঠে চলে যান তারা। : কারাগার থেকে বের হওয়ার পথে মীর কাসেমের স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, উনি (মীর কাসেম আলী) মৃত্যুকে ভয় পান না। তার মৃত্যু হবে শহীদের মৃত্যু। মীর কাসেম আলী স্বাভাবিক আছেন বলেও জানান তার স্ত্রী। তিনি বলেন, সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো শেষ মুহূর্তে ইচ্ছা অনুযায়ী ছেলেকে কাছে পাননি তিনি। তবে তার নিখোঁজ ছেলে একদিন ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন মীর কাসেম আলী। যারা মিথ্যা মামলা দিয়ে মীর কাসেম আলীকে মৃত্যুর মুখোমুখি করেছেন তারা কখনো জয়ী হবে না মন্তব্য করে আয়েশা খাতুন আরো বলেন, ‘তিনি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছেন। এ দেশে একদিন ইসলামের জয় হবেই।’ স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুন ছাড়াও মীর কাসেমের সঙ্গে দেখা করতে যান দুই মেয়ে তাহেরা তাসমিন, ফাহমিনা আক্তার, দুই ছেলের বৌ শাহেদা ফাহমিদা, সুমাইয়া রাবেয়া, নাতি-নাতনিসহ অন্যরা। প্রায় তিন ঘন্টা কারাগারের ভেতরে অবস্থানের পর গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কারাগারের প্রধান ফটক দিয়ে বের হয়ে আসে মীর কাসেমের পরিবারের সদস্যদের বহনকারী ছয়টি গাড়ি। : পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘তোমরা কান্নাকাটি করবে না। যে মৃত্যু সৌভাগ্যের তা নিয়ে দুঃখবোধের কিছু নেই। আমার শাহাদাতের রক্তের বিনিময়ে এ দেশবাসী এবং যারা মজলুম তারা সবাই উপকৃত হবে। এ রক্তের বিনিময়ে এ দেশে ইসলাম কায়েম সহজতর হবে। ইনশাআল্লাহ তোমাদের সাথে আমার দেখা হবে জান্নাতে। মৃত্যু নিয়ে আমি চিন্তিত নই। এ ধরনের শাহাদাতের মৃত্যু কয়জনের ভাগ্যে ঘটে?’ মীর কাসেম আলীর সহধর্মিণী খোন্দকার আয়েশা খাতুন বলেন, মীর কাসেম আলী পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের উপদেশ দিয়ে বলেন, সব সময় আল্লাহর ওপর ভরসা করবে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ আল্লাহর ওপর সোপর্দ করে তিনি বলেন, তোমরা যদি কান্নাকাটি না করে হাসিখুশি থাকো তাহলে জালিমরা ভয় পেয়ে যাবে। তিনি ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের তিনি ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলার পরামর্শ দেন। : আপিল বিভাগ রিভিউ খারিজ করে দেয়ার পর সর্বশেষ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা না চাওয়ায় ফাঁসি কার্যকর করতে পদক্ষেপ নেয় কারা কর্তৃৃপক্ষ। রায় কার্যকরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী আদেশও শনিবার দুপুরে কারাগারে পৌঁছে। অবশ্য সকাল থেকেই কারাগারের আশপাশে নেয়া হয় বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রবিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত কাশিমপুর কারাগারে জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট। নেয়া হয়েছে ছয় স্তরের নিরাপত্তাবলয়। মোতায়েন হয়েছেন ছয় প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য। : মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতা মীর কাসেম আলীর রায় কার্যকরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি নির্বাহী আদেশের চিঠি দুপুরের পর সংশ্লিষ্টদের দেয়া হয়েছে। কাশিমপুর কারাগার থেকে মীর কাসেমের রাষ্ট্রপতির কাছে মার্জনার আদেন করবেন না মর্মে সিদ্ধান্ত জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি নিয়ে যান কারা কর্মকর্তারা। এছাড়া স্বরাষ্ট্র সচিব আইজি প্রিজনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতনরা বৈঠক করে সময়-ক্ষণ নির্ধারণসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে চিঠি পাঠান। দুপুরের পর চিঠি পেয়েছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও সিভিল সার্জন। শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক এস এম আলম জানান, রায় কার্যকরের জন্য নির্বাহী আদেশের চিঠি মূলত কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনকেও চিঠি দেয়া হয়। সে অনুযায়ী, গতকাল তিনিও চিঠি পেয়েছেন বলে জানান। জেলা প্রশাসক বলেন, যথাসময়ে কারাগারে পৌঁছে যাবেন তিনি। একই সঙ্গে জেলার পুলিশ সুপার মো. হারুন-অর রশীদ ও সিভিল সার্জন ডা. আলী হায়দার খানও এ-সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছেন বলে জানা গেছে। কারাবিধি অনুযায়ী মৃত্যুদন্ড কার্যকরের সময় জেল সুপার, জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, জেলা নির্বাহী হাকিম, কারা মহাপরিদর্শক, প্রত্যেক গোয়েন্দা সংস্থার একজন করে প্রতিনিধি এবং জেলার পুলিশ সুপার উপস্থিত থাকেন। কারা সূত্র জানায়, লাল খামে ভরে শনিবার সকাল ১১টায় বিশেষ কারা বার্তা বাহকের মাধ্যমে চিঠিগুলো পাঠানো হয়। এছাড়া ফাঁসি কার্যকরের সময় নির্ধারণের জন্য একটি চিঠি কারা মহাপরিদর্শকের কাছে পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠি পেয়ে তিনি ফাঁসির সময় নির্ধারণ করেন। : কারাগার সূত্র আরও জানায়, শুক্রবার কারাগারে মীর কাসেম আলীর ফাঁসির ট্রায়াল হয়েছে। এতে জল্লাদ শাহজাহান ও রাজু অংশ নেন। সামিয়ানা টানানো হয়েছে ফাঁসির মঞ্চের উপরে। গত মঙ্গলবার আপিল বিভাগে রিভিউর আবেদন খারিজ করে দেয়ার পর রায়ের কপি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ওইদিনই তার মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা হয়। লাল কাপড়ে মোড়ানো মৃত্যু পরোয়ানা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার হয়ে রাত পৌনে ১টায় কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছায়। এরপর বুধবার সকালে কারা কর্তৃপক্ষ মীর কাসেম আলীকে রায় খারিজ এবং মৃত্যু পরোয়ানা জারির খবর জানায়। শুক্রবার বিকালে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন না জানালে ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি শুরু করে কারা কর্তৃপক্ষ। তারই অংশ হিসেবে কারা কর্তৃপক্ষ শনিবার সকালে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন ও মীর কাসেম আলীর মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার চালা গ্রামের বাড়ির ঠিকানায় পরিবারকে চিঠি পাঠিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর সংক্রান্ত বার্তাটি অবহিত করে। এরপর থেকেই মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় কার্যকর করতে সব রকমের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রায় কার্যকরের জন্য দুটি ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। তৈরি আছেন জল্লাদরাও। কারাগারের জেল সুপার নাসির উদ্দিন জানান, দুটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। একটি রাখা হয়েছে বিকল্প হিসেবে। যদি কোনো কারণে প্রথম মঞ্চে ফাঁসি কার্যকর করতে কোনো সমস্যা বা ত্রুটি হয় তাহলে দ্বিতীয়টি ব্যবহার করা হবে। জানা গেছে, কাসেম আলীর ফাঁসির প্রধান জল্লাদের দায়িত্ব পালন করবেন জল্লাদ শাহজাহান ভুঁইয়া। তাকে সহায়তা করবেন রাজু ও কামালসহ আরও ৪ জল্লাদ। শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তানভির হাসান রাজুকে কাসিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২-এ নেয়া হয়েছে। : ফাঁসি কার্যকরের পর মীর কাসেম আলীকে মানিকগঞ্জে দাফন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার। শনিবার সন্ধ্যায় মীর কাসেমের সঙ্গে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে এ কথা জানিয়েছেন তার স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুন। আয়েশা খাতুন বলেন, ‘তিনি (মীর কাসেম) আমাকে বলেছেন, তাকে ফাঁসির কথা জানানো হয়েছে।’ মীর কাসেম শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে আয়েশা খাতুন বলেন, শেষ মুহূর্তেও ছেলের সঙ্গে দেখা না হওয়ায় আক্ষেপ করেছেন তিনি। মীর কাসেমের স্ত্রী জানান, মীর কাসেমের ভাই মানিকগঞ্জে একটি জমি কিনে রেখেছিলেন। সেখানেই তাকে দাফন করা হবে। এ কারণে পুলিশ জেলার হরিরামপুর উপজেলার চালা গ্রামে তার প্রতিষ্ঠিত মসজিদ প্রাঙ্গণসহ আশপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। মীর কাসেম আলীর রায় কার্যকরের গুঞ্জনের মধ্যে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাহফুজুর রহমান জানান, ‘মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকরের পর লাশ ওই চালা গ্রামে দাফন করা হতে পারে। তবে এই সংক্রান্ত কোনো সরকারি আদেশ এখনো আসেনি। তারপরও ওই এলাকাসহ পুরো জেলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।’ এসপি আরো বলেন, সেখানে দাফনের যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। আদেশ এলে তা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। : পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, হরিরামপুর উপজেলার সুতালরি ইউনিয়নের মুন্সীডাঙ্গি গ্রামে বাড়ি ছিল মীর কাসেম আলীর বাবা মৃত তৈয়ব আলীর। অনেক আগেই পদ্মা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ওই গ্রাম। মীর কাসেম আলীর জন্ম ১৯৫২ সালের ৩১ ডিসেম্বর। তার ডাক নাম পিয়ারু ওরফে মিন্টু। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি মেঝো। বাবার চাকরির সুবাদে ছোটবেলা থেকে চট্টগ্রামে থাকতেন তারা। প্রায় ১৬ বছর আগে মীর কাসেম আলী হরিরামপুর উপজেলার চালা গ্রামে প্রায় ৫০ শতাংশ জমি কেনেন। সেখানে প্রতিষ্ঠা করেন মসজিদ। ২০০১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি মাঝে মাঝে ওই গ্রামে আসতেন। মসজিদে দলীয় লোকজন নিয়ে বসতেন। কিন্তু সেখানে কোনো বাড়িঘর করেননি। : গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা হাকিম রাহিনুল ইসলাম জানান, গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ রবিবার ভোট ৬টা পর্যন্ত কারাগার এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পুরো এলাকার নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে মোট চার প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য। এই মুহূর্তে কারাগারে ছয় স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। কারাগারে রেড অ্যালার্ট জারির অর্থ হলো চূড়ান্ত পর্যায়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা। এ সময় কারাগারের সামনে বাইরের কেউ ঘোরাফেরা করতে পারবেন না। এছাড়া কোনো কারাকর্মী দায়িত্বে অবহেলা করলে তার বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ সময় কারাগারের কর্মীরা সব বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকেন। এর আগে সকাল থেকেই কারাগার ও আশপাশের এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়। মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। : গাজীপুরের কাশিমপুরের নবনির্মিত কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কারাগারটির আশপাশের এলাকায় নেয়া হয়েছে কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তা। শনিবার সকাল থেকেই কারাগার ও আশপাশের এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়। মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। কাশিমপুর কারাগার থেকে হাইওয়ে পর্যন্ত সড়কে সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কেবল কারাগারের সামনে কয়েকটি খাবার ও ওষুধের দোকান খোলা রাখা হয়েছে। একমাত্র গণমাধ্যমের গাড়ি এবং গণমাধ্যমকর্মী ছাড়া এ পথে আর কাউকে চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না বলেও জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা। কারাগারের আশপাশে বেশকিছু আবাসিক এলাকা রয়েছে। এসব এলাকার বাসিন্দাদেরও অন্য পথ ব্যবহার করে ঘুরপথে নিজেদের বাড়িতে যেতে বলা হয়েছে বলে জানায় র‌্যাব। : মীর কাসেম আলীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১২ সালের ১৭ জুন গ্রেফতার করা হয়। ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে ১৪টি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দুটি অভিযোগে মীর কাসেমের ফাঁসি ও আটটি অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড হয়। ওই বছরের ৩০ নভেম্বর আপিল করেন মীর কাসেম। চলতি বছরের ৮ মার্চ আপিলের রায়ে ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিমকে হত্যার দায়ে মীর কাসেমের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন সর্বোচ্চ আদালত। অন্য ছয়টি অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে তার কারাদন্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। ওই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে ১৯ জুন আবেদন করেন মীর কাসেম। তার আবেদনের ওপর ২৪ আগস্ট শুনানি শুরু হয়। মীর কাসেমের রিভিউ আবেদনের ওপর গত ২৮ আগস্ট শুনানি শেষ হয়। এরপর ৩০ আগস্ট মীর কাসেমের করা আবেদন খারিজ করেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
  •