উরস শুরু : ভক্ত-আশেকানের আনাগোনায় মুখর শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণ

প্রকাশিত: ১:২৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৩, ২০১৬

ভক্ত-আশেকানের আনাগোনায় মুখর শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণ। অলিকুল শিরোমণির ৬৯৭ তম উরস মোবারক উপলক্ষে বদলে গেছে নগরীর চিত্র। সকাল থেকে লালে লাল শাহজালাল স্লোগানসহকারে ভক্ত-আশেকানরা দলে দলে মাজারে আসতে থাকেন। আজ রাত ১১ টায়  শুরু হবে উরসের আনুষ্ঠানিকতা।  বুধবার ভোরে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে দুই দিনব্যাপী উরসের। উরস উপলক্ষে সারা দেশ থেকে আসেন ভক্ত-আশেকানরা।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজার জিকির-আজকারে মশগুল হাজার হাজার ভক্ত, আশেকানের ভিড়ে মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। আওয়াজ উঠছে ভেসে আসে ‘আল্লাহু, আল্লাহু,  ধ্বনি। শামিয়ানা টাঙিয়ে দলে দলে জড়ো হয়েছেন অসংখ্য অনুরক্ত। কণ্ঠে তাদের ‘সিলেটে প্রথম আজান ধ্বনি বাবায় দিয়াছে…’, তুমি রহমতের নদীয়া/দোয়া কর মোরে হযরত শাহজালাল আউলিয়া…’, ‘সিলেট ভূমি ধন্য হইল বাবা শাহজালালরে ফাইয়া’, ‘ঝাঁকে উড়ে আকাশজুড়ে দেখতে কি সুন্দর/জালালের জালালি কইতর…’,- এসব ভক্তিমূলক গান মাতিয়ে রাখছে পুরো এলাকা।

এমন দৃশ্য বিরাজ করছে অলিকুল শিরোমণি হযরত শাহজালালের (রহ.) দরগা এলাকায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শাহজালালের আশেকান, অনুরক্তদের সঙ্গে সঙ্গে দূর-দূরান্ত থেকে শামিল হওয়া বিভিন্ন শিল্পীগোষ্ঠীও মেতেছে ভক্তিমূলক গানের জলসায়। শাহজালালকে (রহ.) উৎসর্গ করে কেউ কেউ বাদ্যযন্ত্রসহকারে আবার কেউ খালি গলায় সুমধুর গানে মাতিয়ে রাখেন আগতদের। শুধু দরগা নয়, মিছিল-স্লোগান করে লাল ফিতা মাথায় বেঁধে ভক্ত-আশেকানদের মাজারে আসার বর্ণিল আগমনে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো নগরী। এ সময় নগরীর বিভিন্ন সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। রেওয়াজ অনুযায়ী আগামী কাল  সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে মাজারে গিলাফ চড়ানো। মাজারে প্রথম গিলাফ চড়ায় মাজার কর্তৃপক্ষ।

বুধবার ভোররাতে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে উরস শেষ হবে। মোনাজাত শেষে তবারক (শিরনি) বিতরণ করা হবে। উরস উপলক্ষে মাজার এলাকায় নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে।

প্রশাসনও দরগা প্রাঙ্গণে আইনশৃংখলা রক্ষায় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। দরগার চারটি প্রবেশমুখে যান চলাচল বন্ধ করে প্রতিটি প্রবেশদ্বারেই আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের সহযোগিতায় রয়েছে ৫ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী। প্রধান গেটে আগত ভক্ত-আশেকানদের মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে দেহ তল্লাশি করা হয়। ২০০৪ সালের ১২ জানুয়ারির উরসে বোমা হামলা হয়েছিল। ওই নারকীয় বোমা হামলায় মারা যান পাঁচজন। এরপর থেকে প্রতিবছর উরস এলেই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। দরগার প্রধান ফটকে আর্চওয়ে গেট ও আশপাশ এলাকায় ১৮টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে মাজারে গিলাফ প্রদান করার কথা রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও ভক্তরা মাজারে গিলাফ নিয়ে এসেছেন। সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, দক্ষিণ সুরমার কদমতলী, সিলেট রেলস্টেশন, উত্তর সুরমার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, কুমারগাঁও ছাড়াও সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক, সিলেট-মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ সড়ক, সিলেট-তামাবিল সড়ক, সিলেট-বাদাঘাট সড়ক দিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে যানবাহনে করে ভক্ত-আশেকানরা মাজার প্রাঙ্গণে আসেন। সোমবার সিলেটে আসা অধিকাংশ যানবাহনের গন্তব্য ছিল হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণ। এ ছাড়া সিলেটের বাইরে থেকে ভক্তদের নিয়ে আসা যানবাহন নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ, শাহী ঈদগাহ, কাজীটুলা, আম্বরখানা, চৌহাট্টা, পুলিশলাইনস, দর্শনদেউড়ীসহ নগরীর বিভিন্ন খালি জায়গায় রাখা হয়েছে।

ইসলাম প্রচারের জন্য হযরত শাহজালাল (রহ.) ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে ৩৬০ সফরসঙ্গী নিয়ে সিলেট আসেন। ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে ১৯ জিলকদ তিনি ইন্তেকাল করেন। সিলেটে তিনি যে টিলায় বসবাস করতেন সেখানেই তাকে দাফন করা হয়। এই মাজার সারা বছরই ভক্ত আশেকান ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট