দলীয় কর্মীর হাতে বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত বিলবোর্ড ছেড়ার অভিযোগ

প্রকাশিত: ১:৫৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৬

ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুজিবুর রহমানের ছোট ভাই সদর ইউনিয়ন যুবলীগের একাংশের আহবায়ক আকিকুর রহমানের বিরুদ্ধে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সম্বলিত অপর পক্ষের টানানো দুইটি বিলবোর্ড ছেড়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে আকিকুর রহমান তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা এবং বানোয়াট বলে দাবি করেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়ন যুবলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হয়। সম্মেলনে মো. আল আমিনকে সভাপতি ও হাসান আহমেদ কামরানকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। এর গত গত ১৬ জুলাই উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির অপরাংশের নেতাকর্মীরা আহবায়ক জুবায়ের পাশা হিমুকে বাদ দিয়ে আকিুকুর রহমানকে সদর ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ইউনিয়ন যুবলীগের পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে উপজেলা যুবলীগে মধ্যে চিড় ধরে।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ কামরান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উপজেলা পরিষদের ফটকের পাশের দেয়ালে তাঁর (শেখ মুজিবুর রহমান) ছবিসহ বিলবোর্ড টানান। সোমবার বেলা সাড়ে এগারটার দিকে ইউনিয়ন যুবলীগের একাংশের আহবায়ক আকিকুর রহমান তাঁর লোকজনকে সঙ্গ করে ওই বিলবোর্ডগুলো নামিয়ে উপজেলা রেষ্ট হাউজের পাশে নিয়ে ছিড়ে ফেলেন।

ধর্মপাশা সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ কামরান বলেন,  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উপজেলা পরিষদের মূল ফটকের পাশের দেয়ালে বিলবোর্ড লাগিয়েছিলাম। কিন্তু সোমবার এগারটা সাড়ে এগারটার দিকে  ইউনিয়ন যুবলীগের নামধারী নেতা আকিকুর রহমান আমার দুইটি বিলবোর্ড ছিড়ে ফেলেছে। তবে আকিকুর রহমানই বিলবোর্ড ছিড়েছে এমনটি দেখেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে হাসান আহমেদ কামরান বলেন, প্রতক্ষ্যদর্শী ও আমার দলের লোকজন আমাকে জানিয়েছে আকিকুর রহমান তার লোকজনকে নিয়ে বিলবোর্ড নামিয়ে ছিড়েছে।

ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আল আমিনও হাসান আহমেদ কামরানের বক্তব্যের সাথে সহমত পোষণ করে একই অভিযোগ জানিয়ে বলেন, শোকের দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি যারা ছিড়তে পারে তারা কখনো দেশপ্রেমিক হতে পারেনা।

সদর ইউনিয়ন যুবলীগের একাংশের আহবায়ক আকিকুর রহমান বলেন, বেলা এগারটার দিকে শোক দিবসের র‌্যালী নিয়ে আমরা উপজেলা পরিষদের দিকে যাই। কিন্তু সেখান থেকে ফেরত আসার পর প্রতিপক্ষের লোকজন আমি ও আমার লোকজনের বিরুদ্ধে তাঁদের বিলবোর্ড ছেড়ার অভিযোগ তুলে। কে বা কারা বিলবোর্ড ছিড়েছে আমি জানিনা।

উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক জুবায়ের পাশা হিমু বলেন, উপজেলা যুবলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা মতবিরোধ রয়েছে তবে জাতির জনকের ছবি ছিড়ে ফেলবে এটা আশা করিনি। প্

রত্যক্ষদর্শীরা আমাকে জানিয়েছেন আকিকুর ও তার সাথে কয়েকজন ওই বিলবোর্ডগুলো নামিয়েছে। পরে বিলবোর্ডগুলো উপজেলা রেষ্ট হাউজের পাশে ছিড়ে ফেলে রাখা হয়। বিষয়টি আমি ধর্মপাশা থানার ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়েছি।

তবে ধর্মপাশা থানার ওসি মো. গোলাম কিবরিয়া জানান, বিষয়টি তাঁকে কেউ জানাননি। জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট