মাগুরায় গৃহবধূকে গাছে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন

প্রকাশিত: ২:১৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০১৬

মাগুরার সদর উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করেছে তার প্রতিবেশীরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার কুকনা গ্রামে : এ ঘটনা ঘটে। : পরে রাতেই সদর থানায় ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ। পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। নির্যাতিত গৃহবধূ মালতী রানী শীল জানান, তার ছাগল প্রতিবেশী ভরত ঘোষের সবজি খাওয়ায় তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। গৃহবধূর অভিযোগ, তিনি হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল পালন করেন, যা ভরত কুমার ঘোষ পছন্দ করেন না। এ নিয়ে ইতিপূর্বে কয়েকবার ভরত তাকে বকাঝকা করেছেন। : এ ঘটনা এলাকার কয়েকজনকে জানালে ভরত ঘোষ ক্ষিপ্ত হয়ে তার লোকজন দিয়ে মালতির বাড়ির গোয়াল থেকে একটি গরু ও একটি ছাগল চুরি করায়। এ চুরির ঘটনা মালতি দেখে ফেলে এবং প্রতিবেশীদের জানালে ওইদিনই ভরত তার লোকজন নিয়ে মালতি ও তার স্বামী রতন কুমার শীলকে মারধর করে এবং গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দেয়। এরপর থেকে স্বামী রতন শীল ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছেন। বিষয়টি মালতি রানী সম্প্রতি পুলিশকে জানালে ভরত আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি মালতিকে মারধরের সুযোগ খুঁজতে থাকেন। শুক্রবার বিকালে মালতি রানীর ছাগল ভরত কুমার ঘোষের সবজি ক্ষেতে ঢুকে পড়লে ভরত কুমার ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা নানা অভিযোগ তুলে মালতি রানীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করতে থাকে। অন্য প্রতিবেশীরা গোপনে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার আগেই মালতির বাঁধন খুলে ভরত ঘোষ সদলবলে সটকে পড়েন। : অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মালতি রানী ভরত কুমারকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের বিরুদ্ধে মাগুরা সদর থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ রাতেই সুজন ঘোষ, অসীম ঘোষ ও স্বপন ঘোষ নামে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট