গুলশান ট্রাজেডি : হাসনাতের রিমান্ড চায় পুলিশ

প্রকাশিত: ২:১৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০১৬

হলি আর্টিজানে কমান্ডো অভিযান শুরুর আগের এক ছবিতে ক্যাফের ছাদে দুই ব্যক্তির সঙ্গে হাসনাত রেজাউল করিমকে দেখা যায়।

নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত রেজাউল করিমকে এবার গুলশানের রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম শনিবার বলেন, হাসনাত করিমকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হচ্ছে।

একই ঘটনায় কানাডার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তাহমিদ হাসিব খানকে পূর্বের মত ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে বলে জানান তিনি।

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে নজিরবিহীন ওই হামলার প্রায় এক মাস পর গত ৪ অগাস্ট হাসনাত ও তাহমিদকে সন্দেহভাজন হিসেবে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আট দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ।

গত ১ জুলাই রাতে গুলশানের ওই ক্যাফেতে একদল অস্ত্রধারী তরুণ হামলা চালালে জিম্মি সঙ্কট তৈরি হয়। পরদিন ভোরে কমান্ডো অভিযানে সে সঙ্কটের অবসান ঘটে। এর আগেই ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। অভিযানে মৃত্যু হয় সন্দেহভাজন পাঁচজঙ্গিসহ ছয়জনের।

আইএস হামলার দায় স্বীকার করে পাঁচ হামলাকারীর ছবি প্রকাশ করলেও পুলিশ দেশীয় জঙ্গি দল জেএমবিকে দায়ী করে আসছে।

সেদিন অভিযান শেষে উদ্ধার ১৩ জনসহ ৩২ জনকে নেওয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে। জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই করে তাদের অনেককে ছেড়ে দেওয়া হলেও হাসনাত ও তাহমিদকে ফিরে না পাওয়ার কথা জানানো হয় পরিবারের পক্ষ থেকে।

পুলিশ জানায়, গত ৩ আগস্ট রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাহমিদকে এবং গুলশান আড়ংয়ের সামনে থেকে হাসনাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর কয়েকদিন আগে পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক এক ব্রিফিংয়ে বলেন, গুলশানের ঘটনায় উদ্ধার পাওয়া হাসনাত করিম ‘সন্দেহমুক্ত নন’।

তিনি বলেন, ওই ঘটনার পূর্বে তার যে রেকর্ড এবং ওই ঘটনার দিন তার যে আচরণ- সবগুলো সন্দেহের মধ্যে আছে, সে সন্দেহমুক্ত নয়। তার বিরুদ্ধে কংক্রিট এভিডেন্স আমরা সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি। সে আমাদের নলেজে আছে। যখনই আমাদের মনে হবে তাকে কাস্টডিতে নেওয়া দরকার তখন আমরা নিতে পারব।

ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী হাসনাতকে কমান্ডো অভিযানের আগের এক ছবিতে ক্যাফের ছাদে দুই ব্যক্তির সঙ্গে দেখা যায়। স্বজনদের দাবি, মেয়ের জন্মদিন উদযাপনে সপরিবারে সেখানে গিয়েছিলেন হাসনাত।

কিন্তু গুলশানের ওই ক্যাফেতে জিম্মি দশার একটি ভিডিওচিত্র প্রকাশের পর হাসনাতের বিরুদ্ধে হামলায় সম্পৃক্ততার সন্দেহের কথা উঠে আসে ফেসবুকে।

নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে হাসনাতকে ২০১২ সালে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল বলে গণমাধ্যমের খবর।

গুলশান হামলায় অংশ নিয়ে কমান্ডো অভিযানে নিহত নিবরাজ ইসলামও নর্থ-সাউথে পড়াশোনা করেছেন।

ব্যবসায়ী শাহরিয়ার খানের ছেলে তাহমিদ কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। গুলশানের ঘটনার একদিন আগে দেশে ফিরে ইফতারের পর বন্ধুদের সঙ্গে তিনি ওই ক্যাফেতে গিয়েছিলেন বলে পরিবারের ভাষ্য।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট