মোবাইল ফোনে প্রেমের ফাঁদ : অতঃপর প্রতারণা

প্রকাশিত: ১১:৩৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২, ২০১৬

সিলেটের গোয়াইনঘাটে আলীগাঁও ইউনিয়নের খাস বারহাল গ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী আব্দুল জলিলের অপকর্মে অতিষ্ট এলাকাবাসী। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানির পাশাপাশি এবার অভিনব পন্থায় শুরু করেছে প্রতারণার নতুন ফাঁদ। তার এ প্রতারণার কৌশলে রয়েছে মোবাইল ফোন ও তাহার স্ত্রী। প্রেমের ফাঁদে ফেলে ইতি পূর্বে এলাকার ও বহিরাগত অগণিত তরুন যুবক চাকুরী জীবি সহ সর্বস্ব হারিয়েছেন। আত্ম সম্মানের ভয়ে থানায় জি.ডি কিংবা মামলা করেননি অনেকেই। তার প্রতারণা ফাঁদে সর্ব শেষ স্বীকার হন সুনামগঞ্জ সদর থানার মোহনপুর ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর হোসেন।

পেশায় একটি ঔষধ কোম্পানীর রিপ্রেজেন্টিব জাহাঙ্গীর তাদের অভিনব কৌশলে ফাঁদে পড়ে বেদম মারপিট নগদ টাকা খোয়া সহ সর্বস্ব হারিয়ে গোয়াইনঘাট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অতঃপর এঘটনায় মামলা হলে থানা পুলিশ গুরুত্বর আহত অবস্থায় আলীরগাঁও ইউনিয়নের খাস বারহাল গ্রাম থেকে তাকে উদ্ধার করে এবং জড়িত সন্দেহে প্রতারক শারমিন আক্তারকে গ্রেফতার করে।

জানা যায়- আব্দুল জলিল দীর্ঘদিন থেকে এভাবে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে তরুন উঠতি বয়সের যুবকদের সর্বস্ব হাতিয়ে নিতে নানা কৌশল অবলম্বন করে। গত ০১ আগষ্ট রাত ৮টার দিকে জলিল স্ত্রী শারমিন বেগম মোবাইল ফোনে জাহাঙ্গীর কে তাদের বাড়ীতে আসতে বলে। জাহাঙ্গীরও তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে তাদের বাড়ীতে যায়। শুরু হয় নতুন কৌশল। এসময় কোন কিছু বুজে উটার আগেই জাহাঙ্গীর চোখ বেঁধে ফেলে জলিল। প্রতারক জলিল এসময় তাকে বেদম মারপিট করে, চাকু দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে এবং বিকাশে নগদ দুই লক্ষ টাকা এনে দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানায়।

এসময় জাহাঙ্গীর উপায়ান্তর না দেখে তার বাড়ীতে মোবাইল ফোনে বিষয়টি অবহিত করে। শুধুই তাই নয় তাদের স্থানীয় মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামকেও জলিলের দাবীকৃত দুই লক্ষ টাকা বিকাশে প্রদানের মাধ্যমে জাহাঙ্গীরকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করে। বিষয়টি তখন অনুদাপন করে চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামসহ সচেতনরা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। রাতেই অভিযান চালিয়ে থানা পুলিশ ভিকটিম জাহাঙ্গীরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে গোয়াইনঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করে এবং ঘটনায় জড়িত প্রতারক আব্দুল জলিলের স্ত্রীকে গ্রেফতার করে। এঘটনায় থানায় একটি মামলা রজু করা হয়েছে। ওসি গোয়াইনঘাট মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান খবর পেয়ে সাথে সাথে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভিকটিমকে উদ্ধার করে এবং প্রতারক জলিলের স্ত্রীকে আটক করি। প্রতারক জলিলকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট