সম্মিলিত নাট্য পরিষদের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন

প্রকাশিত: ৩:০০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০১৬

সম্মিলিত নাট্য পরিষদ, সিলেটের ১৪২৩-১৪২৪ বাংলার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন উৎসাহ-উদ্দীপনার মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।

গতকাল শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শুরু হয়। এসময় বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল আখতারুজ্জামান। জাতীয় সঙ্গীত ও উদ্বোধন সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী রানা কুমার সিনহার নেতৃত্বে আনন্দলোক, সিলেট।
উদ্বোধন শেষে মূল মঞ্চে নাট্যকর্মী ও সুহৃদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নাট্য পরিষদের প্রধান পরিচালকত বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দীন লস্কর ময়নার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্তের পরিচালনায় সুহৃদ সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের পরিচালক নিরঞ্জন দে।
এতে বক্তব্য রাখেন সাবেক মেয়র ও মহানগর আ্ওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ব্যরিস্টার আরশ আলী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও রাজনীতিবিদ কমরেড বাদল কর, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অনিল কৃষাণ সিংহ, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সভাপতিমন্ডলির সদস্য অনিরুদ্ধ ধর শান্তনু, জেলা বারের সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম শাহিন, নাট্য পরিষদের প্রাক্তন পরিচালক আমিনুল ইসলাম লিটন, প্রাক্তন সভাপতি সৈয়দ মনির হেলাল।
সমাবেশে দেশের সাম্প্রতিক জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় নাট্য ও সংস্কৃতিকর্মীকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আরো সুসংগঠিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা যে কোনো মূল্যে উগ্র জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সাংস্কৃতিক জাগরণ সৃষ্টি করার দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, সিলেটের নাট্য পরিষদ তার সূচনালগ্ন থেকে সকল অপসংস্কৃতি-অপরাজনীতির বিরুদ্ধে, শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে তাদের কর্মকান্ডের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
বেলা পৌণে ১২টায় নাট্যকর্মীদের এক সম্মেলন শোভাযাত্রা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে সারদা হলে সম্মেলন স্থলে গিয়ে শেষ হয়।
বেলা আড়াইটায় সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের মহড়া কক্ষে শুরু হয় দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন। প্রধান পরিচালকের সভাপতিত্বে শুরুতেই শোক প্রস্তাব পাঠ করেন নির্বাহী সদস্য ইন্দ্রানী সেন সম্পা। শোক প্রস্তাবের পর দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। ১৪২১-২২ বাংলার সম্পাদকীয় রিপোর্ট পাঠ করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজতকান্তি গুপ্ত, অর্থ প্রতিবেদন পাঠ করেন অর্থ সম্পাদক কামরুল হক জুয়েল।
মুক্তআলোচনার পর রিপোর্ট দুটি সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহিত হয়।
প্রথম অধিবেশনে পরিষদ নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক নিরঞ্জন দে যাদু, রওশন আরা মুনির রুণা, সভাপতি অনুপ কুমার দেব, সহ-সভাপতি খোয়াজ রহিম সবুজ, যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক আহমদ, প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক সাইফুর রহমান চৌধুরী সুমন, নির্বাহী সদস্য ইসমাইল হোসেন তাপাদার ও রকিবুল হাসান রুমন।
বিরতির পর শুরু হয় দ্বিতীয় অধিবেশন। বিদায়ী অধিবেশনে বিদায়ী সভাপতি অনুপ কুমার দেব ও সাধারণ সম্পাদক বক্তব্য রাখেন।
সম্মেলনে পরিষদের ২১ টি সদস্য সংগঠনের শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন। দ্বিতীয় অধিবেশনে নীতি নির্ধারণী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকলের মতামতের ভিত্তিতে আগামী দুই বছরের জন্য পরিষদের প্রাক্তন পরিচালক অরিন্দম দত্ত চন্দনকে প্রধান পরিচালক এবং কনোজ চক্রবর্তী বুলবুল ও চম্পক সরকারকে পরিচালক মনোনীত করা হয়।
গঠনতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী আগামী পনের দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত নীতি নির্ধারণী পরিষদ কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন করবেন।
প্রথমবারের মতো নবনির্মিত সম্মিলিত নাট্য পরিষদের নিজস্ব মহড়া কক্ষে আয়োজিত সম্মেলনকে ঘিরে সিলেটের সকল নাট্য কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছিলো উৎসবের আমেজ। বিজ্ঞপ্তি

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট