নিরাপত্তা স্বার্থে দেহরক্ষী চান সাংসদরা

প্রকাশিত: ১:০৯ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০১৬

গুলশান ও শোলাকিয়ার পর আরও জঙ্গি হামলার আশঙ্কার মধ্যে সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য দেহরক্ষী চেয়ে দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে।

বুধবার সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় সব সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য এই দাবি করেন জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ এবং জাসদের মইন উদ্দিন খান বাদল।

একদিন আগে সংসদে বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদও সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।

গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে এবং ৭ জুলাই শোলাকিয়ায় হামলার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ধরনের আরো হামলা হতে পারে বলে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছিলেন।

এরপর সম্প্রতি পুলিশ প্রধান মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে মন্ত্রীদের সতর্ক থাকার অনুরোধ করেন। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাবধান থাকতেই এই পদক্ষেপ।

সংসদে এই বিষয়টি উত্থাপন করে ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘ডিএমপি থেকে মন্ত্রীদের সতর্ক করা হয়েছে। তাদের গানম্যান আছে, বাড়িতে সেন্ট্রি আছে। গাড়িতে করে নিরাপত্তা দেওয়া হয়। সংসদীয় কমিটির সভাপতিদের গানম্যান দেওয়া হয়। ন্যাম ভবনে নিরাপত্তা দেওয়া হয়। কিন্তু আমরা তো বাইরে যাই। মানুষের কাছে যেতে হয়, সালিশ-দরবারে যেতে হয়। আমাদের নিরাপত্তা কই? কিছুই তো দেখছি না।’

ফিরোজ রশীদ স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর উদ্দেশে বলেন, ‘এমপিদের প্রটেকশন দেওয়ার দায়িত্ব আপনার। প্রতিনিয়ত হুমকি আসে। অনেকের কাফনের কাপড়ের খবর আসে। ব্যবসায়ীদের গানম্যান দেওয়া হচ্ছে। এমপিদের প্রটেকশন কোথায়?’

তিনি বলেন, ‘সবসময় সন্ত্রাসীরা সফট টার্গেট বেছে নেয়। তারা দেখে নেয় কোন টার্গেটে সহজে কাজ হয়,’ নিজেদের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে স্পিকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন জাতীয় পার্টির নেতা।

এরপর জাসদের বাদল বলেন, ‘এর আগেও বিষয়টি তোলা হয়েছে। ব্যাপারটির সাথে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স (রাষ্ট্রচার) যুক্ত হয়ে যায়। সংসদ সদস্যদের বাস্তবিক অবস্থা যেখানে দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে সমস্যার সৃষ্টি হবে। রাষ্ট্রচারের হিসাবে জনপ্রতিনিধির ওপরে কোনো সরকারি কর্মকর্তা থাকতে পারে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘জাতির জনক যেটা তৈরি করে গেছেন, সেটা কেন ফলো করি না। অন্যেরটা… প্রতিনিয়ত যাকে প্রতিদিন গালি দেই…এইচ এম এরশাদেরটা ফলো করি।’

বাদল বলেন, ‘ডিসি,এসপি,সচিব, পয়সাওয়ালা এফবিসিআই এর লোক, তাদের গ্যানম্যান আছে। মন্ত্রী আর সভাপতি মিলে একশ জনের গানম্যান আছে। এমপিরা কী খুবই নিরাপদ? কোনো একটা ইনডিসিডেন্ট ঘটলে… হোয়াট ইজ দ্যা প্রেটেকশন অব এমপিজ। এমপি বাজারে, বাইরে যাবে না?’

মন্ত্রীরা এমপিদের বিষয়ে উদাসীন বলেও উষ্মা প্রকাশ করেন ক্ষমতাসীন জোটের এই নেতা।

ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে সংসদ সদস্যদের অবস্থান ১৩ নম্বরে আর মন্ত্রীদের অবস্থান ৫ নম্বরে।

বাদল বলেন, ‘নিরাপত্তার প্রশ্নে রাষ্ট্রচারের সঙ্গে যুক্ত কাউকে দেবেন কাউকে দেবেন না, সেটা তো হবে না। এই পার্লামেন্ট সক্রিয় আছে বলেই বৈধ শক্তির ভিত্তিতে জঙ্গিবাদ মোকাবেলা করছি। সবাইকে (নিরাপত্তা) দিতে পারেন, এমপিদের পারেন না।’

তিনি বলেন, ‘২৫০ গানম্যান রাষ্ট্র দিতে পারে না? অভাগারা যদি গানম্যান না পায় সেটা দৃষ্টিকটূ। বিপদ চারদিকে, আমরা ভীত নই, তবে অপমানজনকভাবে মরতে চাই না।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট