জঙ্গি মদদদাতাদের খুঁজে বের করা কঠিন হবে না : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৮:৩৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০১৬

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সমর্থন দেয়ায় জঙ্গিদের মদদদাতা, পরিকল্পনাকারী, অর্থায়নকারী ও প্রশিক্ষণদাতাদের খুঁজে বের করা কঠিন হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘গুলশানে জঙ্গি হামলার বিষয়ে তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে কয়কজনকে শনাক্ত ও ধরতে সক্ষম হয়েছি। তাছাড়া মিডিয়ায় কিছু ছবি প্রচার করা হচ্ছে। এদের শনাক্ত করা হয়েছে, আরো কাউকে শনাক্ত করা গেলে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানালে যারা এর সাথে জড়িত তাদের ধরা যাবে।’

‘পাশাপাশি পর্দার আড়ালে যারা এর মদদদাতা, পরিকল্পনাকারী, অর্থায়নকারী ও প্রশিক্ষণদাতাদেরও বের করতে হবে। তারা আমাদের দেশে হোক, বিদেশের হোক তাদের শনাক্ত করতে হবে,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সমর্থন দিয়েছে সেহেতু তাদের খুঁজে বের করা কঠিন হবে না। এটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।’

বুধবার জাতীয় সংসদে গোলাম দস্তগীর গাজীর (নারায়নগঞ্জ-১) সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

এরআগে, বিকেল সাড়ে ৫টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। ২০১৫ সালে বাস-রেলে আগুন, মানুষ পুড়িয়ে মারার প্রায় তিনটি মাসে যেসব ঘটনা ঘটানো হয়েছে এবং ২০১৪ সালে নির্বাচন বন্ধের নামে যে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে- সবগুলোই কিন্তু বাংলাদেশের ভাবমূর্তি প্রশ্নের সম্মুখিন হয়েছে। তবে আমরা সুশাষন প্রতিষ্ঠা করেছি। যার ফলে আমরা অল্প সময়ে দ্রুত এ সমস্যা উত্তরণে সক্ষম হয়েছি। যারা বিদেশি বিনিয়োগকারী তাদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি হয়।’

তিনি জানান, ‘গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেছি। ইতোমধ্যে ৭৭টি অর্থনতিক অঞ্চলের স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। আগামী ১৫ বছরের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে করে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগাকারীদের বাংলাদেশের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ ইতোমধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিনোয়াগকারীদের বিশেষ বিশেষ শিল্পখাতের জন্য ৫-১০ বছরের কর রেয়াত সুবিধা, শতভাগ রপ্তানীমুখী শিল্পে শূন্য শুল্ক হারে যন্ত্রপাতি আমদানি ও বন্ড সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির সুবিধা, দ্বৈত কর রেয়াত সুবিধা, ত্বরান্বিত অবচয় সুবিধা, রয়্যালিটি, ক্যাটাগরি সহায়তা, কারিগরি প্রজ্ঞান ফি প্রত্যাবর্তন সুবিধা, ইউরোপসহ অধিকাংশ উন্নত দেশে ডিউটি ও কোটা ফ্রি প্রবেশে সুবিধাপ্রাপ্ত, শতভাগ বিদেশি মালিকানা সুবিধা, শতভাগ মুলধন ও মুনাফা সুবিধা, বিদেশি প্রকর্মীদের কর্মানুমতি, ইউডি, আইআরসি, ইআরসি এবং বন্ড নবায়ন সুবিধা দেয়া হচ্ছে।’

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকার সবসময় যথাসম্ভব কাজ করে যাচ্ছে এবং এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া বলেও জানান তিনি।

সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলামের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হবে। সফল ভাবে উৎক্ষেপিত হলে নির্দিষ্ট অরবিটার প্লট ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে পৌঁছাতে ২ সপ্তাহের মতো সময় লাগবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সফল উৎক্ষেপণের পর স্যাটেলাইটের ইন-অরবিট টেস্ট (আইওটি) সম্পন্ন করতে আনুমানিক ৩ মাস সময় লাগবে। সম্পূর্ণ টেস্টিং মিশনিং শেষে আগামী ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট পূর্ণাঙ্গভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরম্ন করতে পারবে বলে আশা করা যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সফলভাবে উৎক্ষেপণের পর পর্যায়ক্রমে বঙ্গবন্ধু-২ ও বঙ্গবন্ধু-৩ নামক আরো দু’টি স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানোর পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের ফলে দেশের স্থল ও জলসীমায় নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ও সমপ্রচারের নিশ্চয়তা, স্যাটেলাইট টেকনোলজি ও সেবা প্রসারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটে মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। তার মধ্যে ২০টি বাংলাদেশের জন্য এবং ২০টি দেশের বাইরে ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো কোনো দেশসহ পাশ্ববর্তী দেশগুলোতে এসব ট্রান্সপন্ডার লিজের মাধ্যমে বৈদেশিক মূদ্রা আয় করা হবে।

  •