জামালপুরের ৩ জনের ফাঁসি, পাঁচজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

প্রকাশিত: ১২:৩১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০১৬

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামালপুরের আট জনের মধ্যে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

ফাঁসির আদেশপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- মুহাম্মদ আশরাফ হোসাইন, মোহাম্মদ আবদুল মান্নান ও মোহাম্মদ আবদুল বারী। আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- অ্যাডভোকেট শামসুল আলম ওরফে বদর ভাই ও এস এম ইউসুফ আলী, অধ্যাপক শরীফ আহমেদ ওরফে শরীফ হোসেন, মো. হারুন ও মোহাম্মদ আবুল হাসেম।

আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন, লুটপাট ও মরদেহ গুমের পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগের মধ্যে ছিল তিনটিই প্রমাণিত হওয়ায় এসব সাজা দেয় ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার সকালে একই মামলার ওই আট আসামির মামলার রায় দেয় চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারিক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদী।

সকাল পৌনে এগারটা থেকে ২৮৯ পৃষ্ঠার রায়ের প্রথম অংশ পড়ে শোনায় বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম। পরে রায়ের মূল অংশ অর্থাৎ আসামিদের সাজা ঘোষণা করে চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হক।

রায় শোনাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে আসামির কাঠগড়ায় হাজির করা হয় গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি অ্যাডভোকেট শামসুল আলম ওরফে বদর ভাই ও এস এম ইউসুফ আলীকে। অন্য ছয় আসামি পলাতক।

আসামিদের বিরুদ্ধে একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতনসহ ৫টি অভিযোগ আনা হয়।

গত ২০১৫ সালের ২৯ এপ্রিল এই ৮ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। একই বছরের ২২ জুলাই পলাতক জামালপুরের ৬ রাজাকারকে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল।

গত ১৯ এপ্রিল এ ৮ আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ৫টি ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এর আগে গত বছরের ২৪ মার্চ রাজধানীর ধানমন্ডিতে তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ৮ রাজাকারের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

গত বছরের ১৮ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন শেষে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। গত ১৪ জুন পর্যন্ত মোট ২৫ জন সাক্ষী ৮ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়।

৯২ পৃষ্ঠার মূল তদন্ত  প্রতিবেদনসহ ৫৯৬ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে বিভিন্ন ধরনের সাক্ষ্য-প্রমাণ, দলিল ও ডকুমেন্টস রয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা মতিউর রহমান ২০১৩ সালের ৬ জুন থেকে তদন্ত কাজ শুরু করে ২৪ মার্চ তা সম্পন্ন করেন। মামলায় ঘটনার ৩৪ জন ও জব্দ তালিকার ৬ জনসহ মোট ৪০ জন সাক্ষী ছিল।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট